নিজের বিয়ের জন‍্য, ফেসবুকে ‘পাত্রী চাই’ লিখে বিজ্ঞাপন দিতেই বিপাকে পরলেন যুবক

0
3003
ছবি - ফেসবুক

বছর সাতেক ধরে নিজের বিয়ের জন‍্য পাত্রী খুঁজছিলেন এই যুবক । একাধিক বার বিয়ের সম্বন্ধ‍ দেওয়া ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তিনি । জানিয়ে রেখেছিলেন কাছে-দূরের সমস্ত আত্মীয় স্বজনদেরও । কিন্তু কিছুতেই কোন সুব‍্যবস্থা হচ্ছিল না । সুকুমারের ছড়ার অকর্মণ্য গঙ্গারামও বিয়ের জন্য পাত্রী পেয়েছিলেন কিন্তু রনজিশ মঞ্জেরি নামে কেরলের এই যুবকের আর প্রজাপতি নির্বন্ধ ঘটছিল না । অথচ বিয়ের বাজারে পাত্র হিসেবে নেহাত মন্দ নন তিনি । দেখতে শুনতেও সুদর্শন । কিন্তু কিছুতেই ব্যাটে বলে হচ্ছিল না ।

ছবি – ফেসবুক

অবশেষে মরিয়া হয়ে সপ্তাহ খানেক আগে ফেসবুকেই নিজের বিয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে বসলেন তিনি । পোস্টে হ্য়াশট্যাগ দিয়ে ফেসবুকে লিখে দেন । তারপর যা ঘটল, তা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি । পোস্টটি করার পরে সেই যে বেজে উঠেছে তাঁর ফোন, আর থামার নামই নেই ! গত সাত দিনে তিনি বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন প্রায় ৪০০০টির মতোন । শুধু ভারতই নয় সুদূর অস্ট্রেলিয়া, বাহরিন, সৌদি আরব কিংবা মার্কিন মুলুক থেকেও এসেছে বিয়ের ব‍্যপারে প্রস্তাব ।

ছবি – ফেসবুক

কিন্তু কেন এমন হল ? এতদিন যেখানে পাত্রীর খোঁজই মিলছিল না, আর এখন সেখানে ফেসবুকে এমন ম্যাজিক ঘটে গেল কীভাবে ! একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবেলার সূত্রে জানা যাচ্ছে, এতদিন রনজিশের যে বিয়ের সম্বন্ধগুলি এসেছিল, তার বেশির ভাগই আপত্তির কারণ ছিল রনজিশের বাবার সামান্য সরকারি চাকরি । খুব বেশি অর্থ সম্পত্তি যে তাঁদের নেই, সেটার কারণে বেঁকে বসছিল বহু পরিবার । আবার অনেকের কাছে কুষ্ঠির চক্করে পড়ে কেটে যাচ্ছিল । তাছাড়া কেরলে বিয়ের ক্ষেত্রে জাতপাতের বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু রনজিশ তাঁর পোস্টে পরিষ্কার জানিয়ে দেন তাঁর জাত নিয়ে কোনও রকম সমষ‍্যা নেই । সম্ভবত এই কারণটিই তাঁর পোস্টটিকে ভাইরাল হয়ে ওঠে ।

ছবি – ফেসবুক

ঠিক কী লিখেছিলেন রনজিশ ? তিনি খুবই সোজাসাপ্টা ভাবে ওই পোস্টে জানিয়েছিলেন, যে ’আমার বিয়ে এখনও ঠিক হয়নি এবং আমি এখনও বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে চলেছি । আপনাদের কাছে যদি কোনও খোঁজ থাকে অনুগ্রহ করে জানাবেন । আমার বয়স ৩৪ । আমি মেয়েটিকে দেখে পছন্দ করতে চাই । আমার কোনও দাবিদাওয়া নেই । পেশায় ফোটোগ্রাফার । হিন্দু । জাত নিয়ে কোনও বাধা নেই ।’ সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজের একটি সেলফিও পোস্ট করেন । তিনি এতগুলি সম্বন্ধ পাওয়ায় এই মুহূর্তে বেশ দিশেহারা হয়ে পরেছেন । এসেই চলেছে আর বিয়ের প্রস্তাব । তবে রনজিশের আশা, সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষে ফেসবুকের এই অভিনব স্বয়ম্বরে সঠিক পাত্রীটিকেই খুঁজে পাবেন তিনি ।