৯ বছর বিবাহিত জীবন কাটিয়ে, ডাক্তার দেখালে মহিলা জানতে পারেন তিনি আসলে পুরুষ

0
194
প্রতীকী ছবি

বীরভূমের সেই মহিলা গত ৩০ বছর ধরে জানতেই না তিনি পুরুষ। বিয়ে করে সুখী দাম্পত্য কাটাছিলেন। কিন্তু বাদ সাধল তলপেটের ব্যথা। প্রবল ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হতেই রহস্যফাঁস! গত তিরিশ বছর ধরে ওই মহিলা স্বাভাবিক জীবনই কাটাচ্ছিলেন কোনও সমস্যা ছাড়াই। তবে সম্প্রতি তাঁর পেটে ব্যথা হওয়ার কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে যান এবং চিকিৎসকরা সেই সময় জানতে পারেন যে ওই মহিলা আসলে পুরুষ।

প্রতীকী ছবি

৩০ বছর বয়সী ওই মহিলার বিবাহিত জীবন ৯ বছরের। তলপেটে ব্যাথার জন্য বেশ কয়েক মাস ধরেই নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস ক্যা’ন্সার হাসপাতালেই চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। অনকো’লজি’স্ট অনুপম দত্ত ও সা’র্জিক্যা’ল টি’উমা’র বিশেষজ্ঞ সৌমেন দাস মহিলার একাধিক পরীক্ষা করান। সেই সময়ই সামনে আসে আসল ঘটনা। জানা যায় মহিলা একজন পুরুষ। যিনি টে’স্টিকি’উলার ক্যা’ন্সারে ভুগছেন।

প্রতীকী ছবি

বিষয়টি সামনে আসার পর, তাঁর থেকে দু-বছরের ছোট বোনেরও পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, সেও আদপে পুরুষ। একই সিনড্রো’ম ধরা পড়েছে তাঁর দুই মাসির ক্ষেত্রেও। কিন্তু বাহ্যিক গঠন অনুযায়ী তাঁর শরীরে মহিলার সমস্ত বৈশিষ্ঠ্য বর্তমান। তাঁর গলার স্বর, স্তনের গঠন থেকে শুরু করে যৌ’না’ঙ্গের গঠন সবকিছুই স্বাভাবিক। তবে তাঁর জরায়ু ও ডিম্বাশয় জন্ম থেকেই ছিল অনুপস্থিত। তাঁর শরীরে অ’ন্ডকো’ষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রতীকী ছবি

এই রোগে কেউ পুরুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর মধ্যে নারীর সব ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে। তাঁর কোনও সময়ই ঋ’তুস্রা’বের অভিজ্ঞতা হয়নি।’‌ তিনি জানিয়েছেন যে এটা খুবই বিরল ঘটনা এবং প্রত্যেক ২২ হাজার মানুষের মধ্যে একজনকে পাওয়া যায় এরকম। চিকিৎসার পরিভাষায একে Testic’ular fem’inisat’ion sy’ndro’me বলা হয়।

তিনি কোনওদিন সন্তানধারণ করতে পারবেন না বলে চিকিৎসকরা আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু লুকনো অ’ণ্ডকো’ষের বিষয়টি অজানাই ছিল। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যা’ন্সারে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে অন্ধ যো’নি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তলপেটে ব্যাথার জন্য বা’য়োপ’সি করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে তাঁর টে’স্টিকু’লার ক্যা’ন্সার ধরা পড়েছে বর্তমানে কে’মোথে’রাপি চলছে তাঁর।

প্রতীকী ছবি

ঘটনা প্রসঙ্গে হা’সপা’তালের অ’ঙ্কোল’জিস্ট ডা. সৌমেন দত্ত জানান, ‘যখন তার অ’ন্ডকো’ষগুলি দেহের অভ্যন্তরে অনুন্নত থেকে যায়, তাই ঋ’তুস্রা’ব হওয়ার কোনও লক্ষণ ছিল না, অন্যদিকে তাঁর নারীসুলভ হরমোন তাঁকে মহিলাদের মতো আচরণ করতে বাধ্য করছিল।’‌‌ দেখা যায়, তাঁর ক্রো’মোজো’মের গঠন পুরুষদের মতো। প্রসঙ্গত, মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌ’ন ক্রো’মোজো’মের গঠন XX আর পুরুষদের ক্ষেত্রে XY।

তাঁর অবস্থা আ’শঙ্কাজ’নক বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিন সপ্তাহ অন্তর অন্তর কে’মো দেওয়া হবে। অন্যদিকে তাঁর বোনের লুকনো অ’ণ্ডকো’ষ অ’স্ত্রোপ’চার করে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। রোগীর দুই মামারও এই রোগ ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা মনে করছেন এটি জিন থেকে প্রাপ্ত রো’গ।

প্রতীকী ছবি

তিনি একজনের সঙ্গে প্রায় ন’‌বছর বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি ডাক্তাররা তাঁর স্বামী ও রোগীর কাউন্সেলিং করাচ্ছে, পরামর্শ দিচ্ছে আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে।’‌ জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি বহু বছর ধরে সন্তানের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।

সূত্র –