৩৫ বছরের সংসার, তবুও করোনার আতঙ্কে ভিনরাজ‍্য থেকে ফেরায় স্বামীকে ঘরে ঢুকতে দিলেন না স্ত্রী

0
337

এবার করোনার জেরে ভাঙনের মুখে সংসার! ৩৫ বছরের সাংসারিক জীবনে স্বামীকে এক রকম অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড় করালেন স্ত্রী! এমনই ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মণ্ডল পরিবারের। উত্তরবঙ্গ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন স্বামী। মুখের ওপর সপাটে দরজা বন্ধ করে দিলেন স্ত্রী। কারণ, করোনা আতংক। এই ঘটনা এখন এলাকায় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখে মুখে ঘুরছে মন্ডল পরিবারের ঘটনা। ঠিক কী ঘটেছে ওই পরিবারে?

গত ৬ মার্চ বাড়ির অমতেই দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়েছিলেন অরুণবাবু। ফেরেন ১৩ তারিখ। কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে দেননি স্ত্রী। স্পষ্ট বলে দেন, আগে করোনাভাইরাস নেগেটিভের রিপোর্ট দেখাও। ডুয়ার্স ভ্রমণ থেকে ফিরে বিপাকে কাটোয়ার অরুণ মণ্ডল।

বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির বাইরে বসে থেকেও সুরাহা মেলেনি। চিকিত্সকরা করোনামুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত ঘরে ঢোকার ছাড়পত্রই দিলেন না স্ত্রী। কোন উপায় না দেখে সোজা  কলকাতার বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে পৌঁছে যান স্বামী। সেখানের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাঁকে ফিট সার্টিফিকেট দেন। করোনা মুক্ত সার্টিফিকেট দরজায় দেখিয়ে তবেই ঘরের চৌকাঠ ডিঙোনোর ছাড়পত্র পান অরুন মন্ডল নামে ওই ব্যক্তি। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। বাড়িতে ঠাঁই হয়েছে। তবে সতর্ক স্ত্রী অরুণবাবুকে আপাতত সিঁড়ি নীচে এক চিলতে ঘরে থাকতে দিয়েছেন।

এই সময় দূর থেকে  বিশেষ পর্যবেক্ষণ চলছে তার ওপর। এরমধ্যে আবার জ্বর সর্দি কাশি হলে পরিনাম কি হবে ভেবে উঠতে পারছেন না তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, সাবধানের মার নেই। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মানতে হবে। করোনামুক্ত সার্টিফিকেটের জন্য  ছুটলেন কলকাতার বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে। কিন্তু চাইলেই কি এভাবে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়! তবে এমন আবদার শুনে অবাক হন ডাক্তাররা। কিন্তু তা না পেলে দাম্পত্যে বিচ্ছেদ অনিবার্য বোঝাতে  চিকিৎসকদের হাতে পায়ে  ধরেন অরুনবাবু। অবশেষে মেলে সেই সার্টিফিকেট।

সূত্র –   ২ ছবি