অষ্টম শ্রেণীতে ফেল! মাত্র ২১ বছর বয়সে ২০০০ কোটির কোম্পানির মালিক এই যুবক

0
1788

‘ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়’ আর এই কথাটিকেই বাস্তব রুপ দিয়েছেন এই প্রতিভাবান যুবক। পাঞ্জাবের চন্ডীগড়ের বাসিন্দা ত্রিশনিট আরোরা। ত্রিশনিট আরোরা এমন একজন সিইও, যিনি কম্পিউটারের পড়াশুনা ছাড়াই এথিকাল হ্যাকিংয়ে ফোর্বসের 30 জনের তালিকায় নিজের নাম তুলতে সক্ষম হয়েছেন। 21 বছর বয়সে ত্রিশনিট নিজের কোম্পানী খুলেছেন ।

এই কারণে, তাঁর নাম ইয়ং সিইওতে রয়েছে। ত্রিশনিট অষ্টম শ্রেণীতে ফেল করার পর বাবা-মাকে বলেন তিনি পড়াশুনা করতে চান না। তিনি পড়াশুনা ছাড়ার অনুমতি নেন। এখন তাঁর টিএসি সিকিউরিটি নামের সাইবার সিকিউরিটির কোম্পানি কোটি কোটি টাকা আয় করছে। ত্রিশনিট জানিয়েছেন, তিনি তাঁর শখকে ব্যবসা বানিয়েছেন, যার ফলে তিনি আজ এখানে পৌঁছেছেন।

বর্তমানে ত্রিশনিটের বয়স মাত্র 24 বছর। লুধিয়ানার মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার পরিবর্তে কম্পিউটারে দিকে আগ্রহ বেশি ছিল। তিনি সারা দিন কম্পিউটারে হ্যাকিংয়ের কাজ শিখতেন। যার কারণে তিনি পড়াশুনা করতেন না এবং অষ্টম শ্রেণীতে ফেল করেন। ফেল করা পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা দেন।

তিনি একজন এথিকাল হ্যাকার। যেখানে নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। পর্যবেক্ষণ সার্টিফাইড হ্যাকার করে যাতে নেটওয়ার্ক বা সিস্টেম অবকাঠামোর নিরাপত্তা গোপনে থাকে।

যখন তিনি তাঁর কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। তখন তাঁর বাবা তাকে 75 হাজার টাকা দেয়। মাত্র 24 বছর বয়সে তিনি কাজের মাধ্যমে এই উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

মাত্র 21 বছর বয়সে টিএসি সিকিউরিটির নামে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি তৈরি করেন। ত্রিশনিট বর্তমানে রিলায়েন্স, সিবিআই, পাঞ্জাব পুলিশ, গুজরাট পুলিশ, আমুল এবং এভন সাইকেল এর মতো কোম্পানিগুলিতে সাইবার সম্পর্কিত সার্ভিস দিচ্ছেন। ‘হ্যাকিং টক উইথ ত্রিশনিট আরোরা ‘ ‘হ্যাকিংয় উইথ স্মার্টফোন’ এর মতো বই লিখেছেন ত্রিশনিট।

দুবাই এবং ইউকেতে একটি ভার্চুয়াল অফিস আছে। । প্রায় 40% ক্লায়েন্ট এই অফিসে ডিল করেন। বিশ্বব্যাপী 50 টি ফরচুন এবং 500 টি কোম্পানি হল ক্লায়েন্ট। তিনি উত্তর ভারতের প্রথম সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম প্রতিষ্ঠা করেন।

ত্রিশনিট জানান যে, তার ছোটো থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে এথিক্যাল হ্যাকিং নিয়ে পেশাগত কিছু করার। যদিও তার বাবা, যিনি একজন ট্যাক্স কনসাল্ট্যান্ট এবং মা, যিনি একজন গৃহবধূ, এই কাজ খুব একটা পছন্দের ছিল না। ত্রিশনিট আরও বলেন, দেশে যেভাবে ডিজিটাইজেশন বাড়ছে, তার জন্য সাইবার সিক্যুরিটির চাহিদা আরও বাড়বে। সকলেই চাইবেন তাদের ওয়েবসাইট এবং সার্ভারকে হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে। তিনি জানান, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের দেশে সাইবার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অন্তত ১০০০ টি এরকম কোম্পানির প্রয়োজন হবে।

সুতরাং বলা যেতেই পারে, সফলতা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র পড়াশোনাটা শেষ কথা নয়, মনের ইচ্ছেশক্তি থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি। আপনারা কি মনে করেন? কমেন্ট করে জানান।

Source