ভারতের এই ৮ টি ভূতুড়ে জায়গায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ

0
1617

ভূত এমন এক জিনিস তা নিয়ে অধিকাংশ মানুষের কৌতুহলে শেষ নেই। হলিউড থেকে বলিউড, টলিউড সর্বত্রই তৈরি হয়েছে ভূত নিয়ে সিনেমা। ভূত নিয়ে লেখা হয়েছে একাধিক গল্পও। ভূত আছে কী নেই, তা নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলেছে, চলছে, চলবে। এদেশে ভুতূড়ে জায়গা হিসেবে রাজস্থানের ভানগড় ফোর্ট, পুণেতে বাজিরাও-এর শনিওয়ারওয়াডা, দিল্লির অগ্রসেন কী বাওলি তো পুরো সেলেব্রিটি স্ট্যাটাসে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু এই ইট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে, এখনও এমন কিছু ভূতুড়ে জায়গা রয়েছে, যেগুলোর হদিশ খুব কম মানুষই জানে!

অনেক মানুষই আছেন যারা ভূত খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য রইল এমন ৮ টি জায়গার খোঁজ! এইসব জায়গায় সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রবেশের। কারণ অনেক মানুষই প্রাণ হারিয়েছেন এইসব জায়গায় গিয়ে। আসুন দেখে নেওয়া যাক ভারতের অন্যতম ভয়ঙ্কর ৮ টি ভূতুড়ে স্থান।

১. ভানগড় ফোর্ট, রাজস্থান

youtube

সূর্যাস্তের পর রাজস্থানের ভানগড় দূর্গে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ভারতীয় সরকারের তরফ থেকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই ফোর্টে রাতের অন্ধকারে ঢোকার পর অনেক মানুষেরই মৃত্যু অবধি হয়েছে, যে কারণে জায়গাটি বর্তমানে অত্যন্ত ভীতিদায়ক একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে।

২. ডুমাস বীচ, সুরাট

সুরাটের এই ডুমাস বীচে রাতের বেলা নানাধরণের ভীতিজনক গলার স্বর শোনা যায়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, এই বীচে মৃত মানুষের সৎকার করে তাদের ছাই এখানে পুঁতে ফেলা হয়, সেই কারণেই এখানে এই সমস্ত ভৌতিক ঘটনা ঘটে থাকে। ভারত সরকারের তরফ থেকে এটিকে ভৌতিক জায়গা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

৩. শনিয়ারওর্দা ফোর্ট, পুনে

লোকের মুখে শোনা যায় যে, এই সুন্দর শনিয়ারওর্দা ফোর্টে এক অল্প বয়সী রাজকুমারের আত্মা থাকে, যাকে তার স্ত্রীর খুড়তুতো ভাইয়েরা মেরে ফেলে। প্রতি বার পূর্ণিমার দিনে এখানে নানাধরণের ভৌতিক কাণ্ড ঘটতে দেখা যায়।

৪. সঞ্জয় বন, দিল্লী

দিল্লীর সঞ্জয় বন বহুদিন যাবৎ একটি ভৌতিক জায়গা হিসেবে পরিচিত। এখানে আগত ভ্রমণার্থীদের অনেকেই দেখেছেন সাদা শাড়ি পরিহিত মহিলাকে এই বনের ভিতর ঘুরে বেড়াতে।

৫. অগ্রসেন কি বাউলি

এই স্মৃতিস্তম্ভটি দিল্লীতে রয়েছে। অগ্রসেন কি বাউলি তে এলে আপনি সত্যিই অনেক ধরণের ভৌতিক ক্রিয়াকলাপের অভিজ্ঞতা পেতে পারবেন। স্থানীয় লোকজনের মতে এই স্মৃতিস্তম্ভ -এর ভিতরে থাকে কুয়োতে অনেক মানুষকে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের আত্মারই উপস্থিতি এখানে লক্ষ্য করা যায়।

৬. ব্রিরাজ ভবন প্যলেস, কোটা

রাজস্থানের কোটাতে অবস্থিত এই ব্রিরাজ ভবন প্যালেসে সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মনে করা হয় যে, ১৮৫৭ সালে হওয়া সিপাহী বিদ্রোহের সময় মারা যাওয়া মেজর বার্টন এবং তার পুত্রের আত্মা রয়েছে এখানে। এই প্যালেসের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত গার্ডরাও অনেকেই এই ভবনের ভিতর ভৌতিক ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করেছেন।

৭. ডি’সু্জা চাল, মুম্বাই

মুম্বাইয়ের ডি’সুজা চাল সমস্ত মহারাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক ভৌতিক জায়গা। এই চালে থাকে থাকা একটি কুয়ো থেকে জল তোলার সময় এই চালেরই এক মহিলা বাসিন্দা তাতে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারান। মনে করা হয় যে, সেই মহিলাটির আত্মাই এখানে ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় মানুষজনও ওই অভিশপ্ত কুয়োর ধারে যেতে সাহস পান না।

৮. জিপি ব্লক, মিরাট

এখানে বসবাস করা বাসিন্দারা এখানে থাকা আত্মার অস্তিত্ব বুঝতে পারেন। কিছু বাসিন্দা বলেন যে তারা ৪ জন ছেলের এক দলকে দেখতে পায়, যারা সবাই মিলে মদ্যপান করছে। আবার অন্য কিছু বাসিন্দা বলেন যে, তারা এক মহিলাকে লাল শাড়ি পড়ে এই বাড়ির ছাদে হাটতে দেখেছেন। তবে কোন বিষয়টি সত্যি, তার কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।