বিদেশে নিষিদ্ধ হওয়া এই জিনিসগুলি প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় আমাদের দেশে! জানলে চমকে যাবেন

0
1417

একটি উন্নত দেশ এবং একটি উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জীবনের মূল্য কি আলাদা হতে পারে? উন্নয়নশীল দেশের লোকজনের জীবন নিয়ে কি ছেলেখেলা করা যেতে পারে? এই সমস্ত প্রশ্নই আমার মনে প্রথম আসে যখন সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার একটি খবর আমার চোখে পড়ে। সেই রিপোর্টে বলা হয়, ইঞ্জেকশনের যে সিরিঞ্জ ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ, সেই সিরিঞ্জ ভারতে এবং আমাদের মতো আরও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আমাদের দেশের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট ২০১০ সালে Graseby Syringe কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু এই কোম্পানি তাদের নিষিদ্ধ হওয়া সিরিঞ্জগুলি ফেলে দেওয়ার বদলে, ভারত, নেপাল, আফ্রিকার মতো বিভিন্ন দেশে দান করে দেয়। এখনও কিছু কিছু জায়গায় এই সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়।

আপনি কি জানেন প্রতিদিনই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়।

কারণ কি আমাদের দেশে এমন কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলি বিদেশে ব্যান করা হলেও আমাদের দেশে নিত্যদিন ব্যবহার করা হয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক এরকমই কয়েকটি জিনিস যেগুলি বিদেশে ব্যান হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে ব্যবহার হয়।

রেড বুল

কোম্পানির বিজ্ঞাপন অনুযায়ী এটা খাওয়ার পর আপনার ডানা লাগবে না, কিন্তু ডিপ্রেসন, হাইপার টেনশন এবং হৃদরোগ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই পানীয়টি ফ্রান্স এবং ডেনমার্কে ব্যান করা হয়েছে।

ডিসপ্রিন

ব্যথা কমানোর এই ওষুধটি বিদেশে নিজের গুণগতমান প্রমাণ করতে পারেনি তাই এটিকে ব্যান করা হয়েছে।

আনপাস্তুরাইজড মিল্ক বা পাস্তুরাইজেশন না করা দুধ

পাস্তুরাইজেশন না করা দুধ আমেরিকা এবং কানাডাতে নিষিদ্ধ। কারণ এতে নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে শোধিতর থেকে বেশি অশোধিত দুধই সর্বত্র পাওয়া যায়।

জেলি

জেলি দিয়ে তৈরি যেকোনো ধরণের লজেন্স বা মিস্টি জাতীয় সামগ্রী আমাদের দেশের সর্বত্রই সব বেশিরভাগ দোকানে পাওয়া যায়। কিন্তু আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াতে এটি নিষিদ্ধ কারণ এটি বাচ্চাদের গলায় আটকে শ্বাসরোধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টাটা ন্যানো

এই গাড়িটি ক্রাশিং টেস্ট পাস করতে পারেনি, তাই বিদেশে গাড়িটিকে ব্যান করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও এই গাড়ি বিক্রি হয়।

ডি-কোল্ড

সর্দি-কাশি ঠিক করার জন্য এই ওষুধ ব্যবহার করা হয় কিন্তু এটি কিডনিতে রোগের সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিদেশে এই ওষুধকে ব্যান করা হয়।

কিন্ডার জয়

এটি আমাদের দেশের বাচ্চাদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার জিনিস। কিন্তু এথেকে বাচ্চাদের শ্বাসরোধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই আমেরিকাতে এটি নিষিদ্ধ।

নিমুলিড

পেন কিলার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ওষুধ থেকে লিভারের রোগ হয়। তাই অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং কানাডাতে এই ওষুধ নিষিদ্ধ।

লাইফবয়

এই সাবানে সমস্ত জীবাণু পরিষ্কার হবে কি না সেটা পরের বিষয়। কিন্তু এই সাবান থেকে ত্বকের সমস্যা হতে পারে। বিদেশে এই সাবান টয়লেটে বা পশুদের পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

কীটনাশক

ফসলের বেশি পরিমাণ উৎপাদন এবং ফসলের ক্ষতিকারক কীট পতঙ্গকে বিনাশ করতে আমাদের দেশে ব্যাপকহারে কীটনাশকের ব্যবহার হয়। এই ক্ষতিকারক কীটনাশক আমাদের শরীরে প্রবেশ করে আমাদের শরীরে নানারকম রোগের সৃষ্টি করে। এই কারণেই কীটনাশকে ব্যবহার বিদেশে নিষিদ্ধ।

চুইং গাম

চুইং গাম যেখানেই ফেলা হয় সেখানেই আটকে যায় এবং এটা পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। সিঙ্গাপুরে চুইং গাম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।