বিভিন্ন দেশের মানুষের রীতি অনুযায়ী কিছু অদ্ভুত খাবার

0
696

কথায় আছে ‘আপ রুচি খানা’ । তবে রুচি তো সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস, পরিবেশ সবটার ওপরেই নির্ভর করে । এলাকা ভেদে খাদ্যাভাসে রয়েছে বিস্তর ফারাক । তেমনই এক জনের কাছে যা বিশেষ প্রিয় খাবার, অন্য জনের কাছে তা খাওয়া দুঃস্বপ্নের মতো । নতুন খাবার চেখে দেখতে যারা ভয় পান না, তারা ট্রাই করতেই পারেন এই ডিশগুলো । তবে শর্ত একটাই,  ভয় পেলে চলবে না । বেঁচে থাকার তাগিদেই মানুষ খায় । বাঙালি হিসেবে আমাদের খাবারের তালিকাও বেশ লোভনীয় । কিন্তু আজ আপনাদের এমন আজব এবং অদ্ভুত খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যা শুধু আপনাদের হতবাক করবে না বরং চিন্তা করতে বাধ্য করবে, সত্যি কি মানুষ এগুলো খায় ? তাহলে চলুন দেরি না করে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া করা যাক অদ্ভুত সব খাবারের সাথে ।

প্রথমেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক সৌদি আরবের এই লোকের সাথে যিনি গিরগিটের কাটা পা থেকে রক্ত চুষে খাচ্ছেন । এখানকার অনেকেরই বিশ্বাস গিরগিটের পায়ের রক্ত অনেক রোগের ঔষধ, এছাড়া শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে । মধ্য আরবের অনেক দেশেই এটি খাওয়া হয় ।


অনেক ফলের জুসতো খেয়েছেন, এবার রয়েছে আপনাদের জন্য ব্যাঙের জুস । পেরুতে আপনি অতি সহজেই এই জুস পাবেন । ছবিতে পেরুর একজন ব্যাঙের জুস বিক্রেতা ব্যাঙের চামড়া ছিলে তা ব্লান্ডারের মধ্যে দিচ্ছেন । বলা হয় ব্যাঙের জুস কাম উদ্দীপনাতে সহায়ক ।
আফ্রিকার এই মহিলা বেশ আয়েশ করে বিড়াল কাটছেন । একটু পরেই এই বিড়ালের মাংস দিয়ে রান্না হবে কোন সুস্বাদু খাবার ।
ইন্দোনেশিয়ার বাজারে আপনি পাবেন এরকম সাপের বার্গার ।

ভিয়েতনামের রাস্তা ঘাটে এরকম ভাবে ফ্রাই করে রাখা কুকুর এবং ইঁদুরের রোষ্ট পাবেন । যা তাদের কাছে বেশ প্রিয় খাবার ।অদ্ভুদ খাবারের রাজ্য চায়নাতে আপনি পাবেন এরকম সাপের স্যুপ । তাদের মতে এই স্যুপ স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারি !

তাইওয়ানে আপনি পাবেন সাপের অনিষিক্ত বাচ্চা, মানে যে বাচ্চা এখনও ডিম ফুটে বেড় হয় নাই কিন্তু ডিমের মধ্যে সাপের বাচ্চা আছে । বলা হয় এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি !
আহ ! এই ছবির খাবারের কথা শুনলে আপনার জিভে জল চলে আসতে পারে । উপরের এই ছবিতে একজন চাইনিজ মহিলা গরু এবং কুকুরের অণ্ডকোষ গুলি বেশ আয়েশ করেই খাচ্ছেন । চায়ানার এরকম অনেক রোস্তারা আছে যেখানে আপনারা ৩০টি ভিন্ন প্রজাতির প্রানির অণ্ডকোষ খেতে পারবেন । বলা হয় মদের সাথে এই অণ্ডকোষ খাবার স্বাদ অতুলনিয় ।
লেমুর একধরেন বানর প্রজাতির প্রানি । এরা বিলুপ্ত প্রায় প্রানীর তালিকায় নাম উঠিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই । কিন্তু তারপরেও মাডাগাস্কায় আপনি পাবেন এই লেমুরের ঝলসানো মাংস ।

সেঞ্চুরি এগ – এবার অদ্ভুদ কিছু না, এগুলা মুরগির ডিম । তবে এগুলি রান্না করা হয়েছে ছোট বাচ্চাদের প্রস্রাবে । এই ডিম পাবেন চায়নাতে ।
ফ্রায়েড ট্যারেন্টুলা – আজ আমি জানলাম ক্যাম্বোডিয়ায় কেন স্পাইডার ম্যান যাবার সাহস পায় না । কারনে এখানের লোকজন আবার এই মাকড়সা খেতে বেশ পছন্দো করে আর এত বড় মাকড়সা পেলে কাঁচা খাওয়া শুরু করে দিতে পারে, কি বলেন ? যা হোক এখানে আপনি পাবেন রসুন দিয়ে কড়কড়ে করে ভাজা মাকড়সা ।
এগুলি পিপড়াদের সব থেকে বড় প্রজাতি । নাম শুনে একটু অবাক হবেন। নাম তার “বড় পাছা” (Big Ass), সে যাই হোক এই পিপড়া খেতে চাইলে চলে যান কলম্বিয়ায় । অনেক ধরনের খাবার তৈরি হয় এই পিপড়া দিয়ে ।
অক্স টাঙ্গ – কানাডায় ষাঁড়ের জিভ দিয়ে তৈরি হয় এই ডিশ । হাই ফ্যাট থাকে এই খাবারে ।
ফ্রুট ব্যাট স্যুপ – পালাওয়ের জনপ্রিয় খাবার এই বাদুড়ের স্যুপ ।
বালুট – ফিলিপাইনের জনপ্রিয় ডিশ হাঁসের ভ্রূণ দিয়ে তৈরি এই বালুট ।
ক্রোকোডাইল পাও ডিশ – হংকং, সিঙ্গাপুর এবং চীনে গেলে কুমিরের পায়ের এই রেসিপি ট্রাই করতে পারেন

ব্লাড স্যুপ – এক্সপেরিমেন্টাল ডিশ ট্রাই করার আদর্শ জায়গা চীন । মুরগি, হাঁস বা শুকরের রক্তের স্যুপ খেতে চাইলেও যেতে হবে চীনে ।

স্নেক ওয়াইন – রাইস ওয়ান অথবা গ্রেইন অ্যালকোহলে আস্ত সাপ ডুবিয়ে রাখা হয় । কোরিয়াতে এই খাবার বেশ জনপ্রিয় ।

টুনা ফিস আইবল – চীন এবং জাপানে গেলে টুনা মাছের চোখ দিয়ে তৈরি এই খাবার চেখে দেখতে পারেন ।

স্মালাহোভ – নরওয়েতে গেলে চেখে দেখতেই পারেন ছাগলের আস্ত মাথা দিয়ে তৈরি এই অভিনব ডিশ ।

স্কর্পিয়ান ললিপপ – ললিপপ তো অনেক খেয়েছেন । কিন্তু মেক্সিকোর কাঁকড়াবিছের ললিপপ খেয়েছেন কী ?

সন্নকজি – জ্যান্ত অক্টোপাস কেটে তৈরি করা হয় কোরিয়ার ফেভারিট ডিশ সন্নকজি ।
আরকি খেতে ইচ্ছা করছে ? আমি জানি না ঠিক আপনার কি ইচ্ছা হচ্ছে, তবে আমার খাবার খাওয়ার রুচি কিন্তু একদম উধাও হয়ে গেছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here