রাজ‍্যে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তান্ডবের কিছু চিত্র, কোথাও জলে ভাসছে প্লেন, কোথাও জলের নীচে ট‍্যাক্সি তো কোথাও…

0
68

আয়লা, বুলবুল, ফণী ক্ষতি হয়েছে অনেক। কিন্তু আমফান সেই সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। আমফানের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রাজ্য জুড়ে। রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গুড়িয়ে গিয়েছে দুই পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, তছনছ হয়েছে কলকাতা। বুধবার রাতে কলকাতা শহরের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ঘন্টায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। ৬ ঘণ্টা ধরে চলে এই তাণ্ডব। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কলকাতা শহর ও শহরতলী।  সুপার সাইক্লোন আমফানে মৃ’ত্যু বহু মানুষের। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৭২ জনের মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

সকাল হতেই সামনে এল গোটা রাজ্য জুড়ে সুপার সাইক্লোনের ধ্বংসলীলা। বহু এলাকাই এখনও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ নেই। টেলি যোগাযোগ ব্যাবস্থাও সম্পূর্ণ ভাবে বিপর্যস্ত। দেশের কোনও মেট্রো শহরে সাম্প্রতিক অতীতে এভাবে ধ্বংসলীলা চলেনি। দুর্যোগ ঠিক কতটা ভয়াবহ, তার প্রমাণ দিয়েছে এই ছবি গুলি।

সূত্র

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দাপটে ভেসে গেছে কলকাতা বিমান বন্দরের রানওয়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা বিমান বন্দরও। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিমানবন্দরের টারম্যাক, রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গার পানিতে তলিয়ে যায়। একটি ভবনের ছাদেও ভাঙন ধরেছে। তবে করোনার কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে বিমানবন্দরটির সব ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ঝড়ে কোনো প্রা’ণহা’নি ঘটেনি বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

সূত্র

তাণ্ডবের সময় অন্তত ৪২টি বিমান ছিল বিমানবন্দরে। ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কায় ৪০ টন ওজনের প্রতিটি বিমানই রীতিমত কেঁপে ওঠে, জানান বিমানবন্দরের কর্মীরা।

কলকাতায় গল্ফগ্রীন থেকে হাওড়া গামী মিনি বাস স্ট‍্যান্ডের ঘটনা। সেখানে স্ট‍্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের উপর রাস্তার পাশের একটি গাছ পড়ায়, বাসটি প্রায় দুমড়ে যায়। যদিও সেই সময় বাসে কেউ না থাকায় কোন তেমন কোন দূর্ঘ’টনা ঘটেনি।

সূত্র

একটি অ্যাম্বুলেন্স ডুবে গেল জলের তলায়। ঘটনা পাতিপুকুরের। আর.জি. করের দিকে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। তবে সে পথে এতটা জল জমে যে, জলের তলায় চলে যায় সেটি। স্থানীয়দের নজরে আসায়, তারা কোনও মতে চালককে উদ্ধার করেন।

উঁচু বিল্ডিংয়ে কাজের জন‍্য ব‍্যবহৃত ক্রেন পড়ে আছে মাটিতে লুটিয়ে। গ্রাম পেরিয়ে শহরেও এই সাইক্লোনের প্রভাব মারাত্মক। আমফানের প্রভাব বাংলা ছাড়াও উড়িষ্যাতেও পড়েছে।

সূত্র

সাইক্লোন গেল কিন্তু যাবার বেলায় সে শহরকে ভাসিয়ে দিয়ে গিয়েছে সেটা অঙ্ক ও বাস্তব চিত্র দেখেই বোঝা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় শহরে প্রায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

একসময় চন্দননগর ছিল ফরাসি উপনিবেশ। ইংরেজশাসিত কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে ফরাসিশাসিত চন্দননগর। কলকাতার মতো চন্দননগরেও আছে স্ট্র্যান্ড, বড়বাজার, বাগবাজার, বউবাজার। ফরাসি আমলে চন্দননগরের প্রভূত উন্নতি হয়।

রাস্তাঘাট, নিকাশি সবেতেই ফরাসি দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। এবার সেই স্ট‍্যান্ডের ধারের বহু পুরাতন গাছ পরে গিয়ে এলাকায় যান চলাচল ব‍্যহত হয়ে পরে।

ভেঙ্গে পরে শ্রীরামপুর ক্ষেত্রমোহন শা স্ট্রীটের মেলাবাড়ির একাংশ। যেখানে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে শিবরাত্রী উপলক্ষ‍্যে মেলা।

রাস্তার ধারের একটি গাছ, যা ঝড়ের তান্ডবে পিট পাথর ফাটিয়ে শিকড় সমেত উবড়ে বেড়িয়ে এসেছে।

এটি সম্ভব‍্য কলকাতা সেন্ট্রাল এভিনিউ এর চিত্র।

রাস্তার ধারে মাথা গোজার ছাদ টুকুও চলে গেছে।

হাওড়া ব্রীজ (চিত্র Whatsapp)

এছাড়াও রাজ‍্যের কিছু ভয়াবহ দৃশ‍্য –

কোথাও পুলিশের গাড়ির উপর ভেঙ্গে পরেছে গাছ।

কোথাও গাড়ির গ‍্যারেজের উপর ভেঙ্গে পরেছে গাছ।

কোথাও গাছ পরে ভেঙ্গে গেছে রাস্তার পাশের দোকান।

অতি প্রাচীন গাছও এই ঝড়ের সামনে নিজেকে রুখতে পারেনি।

কোথাও গাছ পরে আটকে রাস্তা।

কোথাও বিদ‍্যুতের খুঁটি হেলে আছে।

কোথাও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গেছে গাছ কেটে রাস্তা সচল রাখার কাজ।

কোথাওবা অবস্থা এমন হয়ে আছে, যে সত‍্যিই কেউ জানিনা কবে এই বিপর্যয় থেকে আমরা পুরোপুরি মুক্তি পাবো।

একদিকে লকডাউনে বাংলা তথা দেশের অর্থনীতির অবস্থা তালানিতে। তার মধ্যে আমফানের ক্ষতি এই আর্থিক সমস্যা আরও কয়েকগুণ বাড়াবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে শনিবার দুই চব্বিশ পরগণায় আকাশ পথে পরিদর্শন করার কথা বৃহস্পতিবার নবান্নে জানান মুখ্যমন্ত্রী।