দেখুন পৃথিবীর কয়েকটি ভয়ঙ্কর রেলপথ, ভারতেও একটি আছে

0
1132

বার্মা রেলওয়ে, মায়ানমার

‘ডেথ রেলওয়ে’ অর্থাৎ মৃত্যুর রেলপথ নামে পরিচিত মায়ানমারের এই বার্মা রেলপথ। এটি বানানো হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জাপানি সেনারা এই রেলপথটি তৈরি করেছিলেন। এই রেলপথটি তৈরি করার সময় এক লক্ষ দশ হাজার কর্মী উপর থেকে পড়ে মারা যাএন। তাই এর নামকরণ হয় ডেথ রেলওয়ে। এক দুই কিলোমিটার নয়, এর দৈর্ঘ্য ৪১৫ কিলোমিটার। এরও এক পাশে গভীর খাদ ও অন্য পাশে খাড়াই পাহাড় রয়েছে।

ফেরুকারেল সেন্ট্রাল আন্দিনো, পেরু

আন্দিজ পর্বত্মালায় রয়েছে আরও একটি বিপজ্জনক রেলপথ। এটি হল পেরুর ফেরুকারেল সেন্ট্রাল আন্দিনো। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম রেলপথ। এর দৈর্ঘ্য ৫৩৫ কিলোমিটার। এই রেলপথটিতে রয়েছে ৬১টি সেতু ও ৬৫টি টানেল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৫ হাজার ৮৬৭ ফুট। এটি তৈরি করা হয়েছিল ১৮৭১ সালে। তৈরি করতে সময় লেগেছিল পাঁচ বছর। এত উচ্চতায় থাকার কারণে এখানে হাওয়ার পরিমাণ অত্যাধিক। তাই এই রেলপথে ট্রেন খুবই ধীরগতিতে চলে।

নারিজ দে ডিয়া ব্লো, ইকুয়েডর

ডেভিলস নোস নামে পরিচিত ইকুয়েডরের এই বিপজ্জনক রেললাইনটি। এটি খুবই সংকীর্ণ ও আঁকাবাঁকা রাস্তার ওপর দিয়ে পাতা রয়েছে। এই রেলপথের এক পাশে রয়েছে গভীর খাড়াই খাদ ও অন্য পাশে খাড়াই আন্দিজ পর্বতমালা। এই রেললাইনের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় নয় হাজার ফুট। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এই রেললাইনটি কতটা বিপজ্জনক ভাবে অবস্থান করছে। কিন্তু তবুও এই বিপদের আশঙ্কা ও ঝুঁকির টানেই প্রতি বছর প্রচুর অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষ এই রেলপথে সফর করেন।

রামেশ্বরমের পাম্বান সেতু, ভারত

ভারতের সমুদ্র সেতুগুলির মধ্যে সব থেকে পুরোনো হল রামেশ্বরমের পাম্বানসেতু। ১৯৪০ সালে এটি তৈরি হয়েছিল। এর দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার। এটি ভারতের মূল ভূ-ঘণ্ডের সঙ্গে পাম্বান দ্বীপকে যুক্ত করে। ১৪৩টি কংক্রিটের স্তম্ভ রয়েছে এই সেতুতে। এই স্তম্ভগুলি সমুদ্রের লবণজল আর ঝোড়ো হাওয়ায় প্রায় প্রতি দিনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রায় প্রতি দিনই এর মেরামতির প্রয়োজন হয়।

জেলমারবান ফার্নিকুলার, সুইৎজারল্যান্ড

ইউরোপের সবচেয়ে খাড়া রেলপথ। কোনো কোনো জায়গায় এটি ৮০ ডিগ্রির থেকেও বেশি খাড়া। ১৯২৬ সালে এটি তৈরি হয়েছিল।

ট্রেন এলাস নিউবস, আর্জেন্তিনা

‘দ্য ট্রেন টু দ্য ক্লাউডস’ নামে পরিচিত আর্জেন্তিনার ট্রেন এ লাস নিউবস রেলপথটি। এটি পৃথিবীর উচ্চতম রেলপথের মধ্যে একটি। এর দৈর্ঘ্য ২০৯ কিলোমিটার। রেলপথটির মধ্যে মধ্যে রয়েছে ২৯টি ব্রিজ, ২১টি টানেল। এই সেতু বানাতে সময় লেগেছিল ২৭ বছর। এটি বানানোর সময় উপর থেকে পড়ে প্রায় ৫০০ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।