নীল ছবি বিখ‍্যাত মিয়া খালিফার সম্বন্ধ‍্যে কিছু অজানা কথা

0
757

মিয়া খলিফা! নীল পর্দা কাঁপানো একটা নাম ৷ রাতের অন্ধাকারে অন্য রসায়ন বইয়ে দেয় বিছানাতে । উঠতি এই নীল-তারকাকে নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই পুরুষদের মনে ৷ এমনকি বিশ্বের কুটনৈতিক মহলেও এই নীল তারকা বেশ চর্চিত । এই লেবাননী  নীল-সুন্দরীর পোশাক নিয়েই রয়েছে কোটি কোটি সমালোচনা । মুখ-মাথা ঢাকা হিজাব পরা মেয়েটি কি আসলে কারও প্রতিনিধি ? পুরুষতান্ত্রিক মধ্যপ্রাচ্যে নানা রক্ষণশীল প্রথাকে দু’পায়ের তলায় মাড়িয়ে আজ বিশ্বের বুকে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি । এসবের পিছনে আছে তার জীবনের কিছু কষ্ট, না পাওয়ার বেদনা ।

২০১৪-য় ইউটিউবে হঠাৎ ভাইরাল হয়ে, এখন জেন ওয়াইয়ের অনেক রাতের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই তারকা সুন্দরী ৷ অনেকের তো প্যাশন রয়েছে মিয়ার সব ভিডিও সংগ্রহে রাখার ৷ তবে মিয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়ে গিয়েছে আপনার অজানা ৷ যার তথ্যের জানান আপনাকে দেব আমরা ।

১৯৯৩ সালে লেবাননের বেইরুটে জন্ম ৷ লেবাননের বেইরুটে জন্ম হলেও ২০০০ সালে, সাত বছর বয়সে তার পরিবারের সঙ্গে মার্কিন মুলুকে উড়ে গিয়েছিল মিয়া ৷ তার আসল নাম- মিয়া কালিস্তা । মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা শুরু ৷ সেই ২০০০ সালে স্কুল পেরিয়ে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট এল পাসো থেকে ইতিহাস বিষয়ে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন ৷ ২০১৪ সালে স্থানীয় ফাস্ট ফুড রেঁস্তোরায় কাজ শুরু করেন ৷

যখন তিনি একটি রেস্তোরায় কাজ করছিলেন, তখন এক কাস্টমার তাকে রেড লাইট ইন্ডাস্ট্রির খোঁজ দেন ৷ রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতো, এক চান্সে বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মিয়া ৷ গত বছর ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে তাকে পর্ণহাব তাদের ওয়েবসাইটের বিশ্বের ১ নম্বরের পর্ণোতারকা হিসাবে খ্যাতি দেয় ।

মধ্যপ্রাচ্যে নানা রক্ষণশীল প্রথায় জর্জরিত মহিলা সমাজের কাছে এই ঘটনা অবাক করার মতই । অন্তত, যে দেশে আইএসআইএসের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতারা মহিলাদের বাজার বসাতেও পিছু পা হন না । ‘দস্যি মেয়ে’ এখানেই থেমে থাকেননি । সম্প্রতি মিঁয়া ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে নিজের একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে মিঁয়ার হাতে আরবি ভাষায় লেখা লেবাননের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম লাইন ।

মিয়ার প্রথম ভিডিও-ই তাকে সমালোচনার শীর্ষে তুলে দেয় ৷ প্রথম ভিডিও-তে হিজাব পরে দেখা যায় মিয়াকে ৷ ফলে নিজের দেশ লেবানন ও অন্যান্য মুসলিম দেশে তাকে বিতর্কের মুখে ফেলে । স্বাভাবিকভাবেই মিঁয়ার উত্থানে হইচই পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে । মৌলবাদী সংগঠনগুলিও বসে নেই সমালোচনা করতে ৷

রেড লাইট ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার পরে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছিল পরিবার ৷ এমনকি মুসলিম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হয়েছিল আপনার ইউটিউব সেনসেশেন মিয়া খালিফা । মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১১-এ বিয়ে করেন মিয়া ৷ বর্তমানে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে থাকেন তিনি ।

কিছুদিন আগে নিন্দার জবাবও দিয়েছেন নিজের টুইটারে ৷ মিঁয়া লিখেছেন, ‘আমাকে ছাড়া কি মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনও গুরুতর সমস্যা নেই ? দেশের একটা প্রেসিডেন্ট খুঁজে পাওয়া গেল ? আইএসআইএস জঙ্গিদের বিষয়ে কী ভাবছে মধ্যপ্রাচ্য ?’ ২১ বছরের মিয়া খলিফার এই সব মন্তব্য শুনে অনেকেই থমকে গিয়েছে ।

ব‍্যাপারটা মোটেও অস্বাভাবিক নয় ৷ একজন আরব দেশের পর্ন স্টার হয়ে ইসলামকে অপমান করবেন তাও পর্ন ভিডিওতে ? এর মানে হচ্ছে আপনি আজরাইলকে মিস্কল দিচ্ছেন । সে যাই হোক, পরবর্তীতে ওয়াশিংটন পোষ্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নীল-সুন্দরী বলেছেন,  ব্যাপারটাকে স্যাটায়ার হিসেবে নিয়েছেন তিনি ৷ ব্যাপারটা এভাবেই দেখা উচিত ।

মিয়া খালিফা বলেছেন, এককালে লেবানীজ জাতি নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের সর্বাধুনিক বলে গর্ব করত ৷ তারা পাশ্চাত্য রীতিনীতি এতটাই অনুকরণ করত যে, নিজেদের নিয়ে গর্বিত ছিল ৷ আজ তারা আদিম রীতিতে বিশ্বাসিত হয়ে শোষিত হয়ে গিয়েছে । তারা ভুলে গিয়েছে নারী অধিকার ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here