করো’নার হাত থেকে রেহাই পেতে ২০২২ সাল অবধি মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব – জানালো হাভার্ডের গবেষকরা

0
311
প্রতীকী ছবি

করো’না ভাই’রাস গত কয়েক মাসে যেভাবে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ২০২২ সাল অবধি দফায় দফায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। না হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ অতিমারিতে আ’ক্রান্ত হবেন। হাসপাতালে তাদের জায়গা দেওয়া যাবে না। এককালীন লকডাউনে পুরপুরি সংক্র’মণ মুক্ত করা যাবে না বিশ্বকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন দাবি করেছেন হাভার্ডের গবেষকরা (Harvard University)।

লকডা’উনের মেয়াদ দ্বিতীয় ধাপে ১৯ দিন বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। বারবার সরকারি নির্দেশে জোর দিয়ে বলা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। তার মধ্যে বুধবার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলেছেন দফায় দফায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ২০২২ সাল পর্যন্ত।

প্রতীকী ছবি

করো’না সংক্র’মণে বিধস্ত আমেরিকা। সেই মুহূর্তে হাভার্ডের এই গবেষণা তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সায়েন্স জার্নালে দাবি করা হয়েছে, ধীরে ধীরে এই সংক্র’মণ প্রকোপ কমিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঘুরে ফিরে আসবে। এখন যেভাবে সর্দি, জ্বর, ইনফ্লু’য়েঞ্জা আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে ঘুরে ফিরে সংক্র’মণ ঘটায়। সেভাবেই ভাই’রাল আকার নেবে এই করো’না। কিন্তু এখনও এই ভাই’রাসের অনেক কিছু রহস্য জনক।

প্রতীকী ছবি

আগামিদিনে নির্দিষ্ট ঋতুতে একাধিকবার ফিরে আসতে পারে করো’না। বিজ্ঞানীদের অন্যতম স্টিফেন কিসলার বলেন, ‘আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, কিছুদিনের জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়। আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ভবিষ্যতে দফায় দফায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। করো’নার নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। রোগ ঠেকাতে বারেবারে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বজায় রাখাই হল পথ।’

বড় কথা আমরা এখনই রোগটি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না। একবার যদি কেউ এই রোগে সংক্র’মিত হয়, তাহলে তার শরীরে কি ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায়, কিংবা সেই ক্ষমতা কত দিন বজায় থাকে তারা কিছুই জানিনা আমরা। ভবিষ্যতে যখনই এই রোগটি ফের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে তখনই আবার র‍্যাপিড টেস্ট করার প্রয়োজন।

একই সঙ্গে টানা দীর্ঘদিন লকডা’উন বা সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের বিরোধিতা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সময় জনসাধারণের মধ্যে কোনও প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। সেই কারণেই মাঝে মাঝে লকডা’উনে ছাড় দেওয়া দরকার। বিজ্ঞানীরা গবেষণাপত্রের শেষে লিখেছেন, করো’না সম্পর্কে একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চিত ভাবেই জানতে পেরেছি, রোগটা এখন থাকতে এসেছে। ২০০২–০৩ সালে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সা’র্স নামে একটি রোগ। কিন্তু এখন তা বিলুপ্ত। করো’নার ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ‌

প্রতীকী ছবি/indian express

তবে করো’নার ভ্যাক্সিন তৈরি হলে লকডা’উনের সময়সীমা কমানো যেতে পারে। লকডা’উনের সময় কিছু ছাড়ো দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যতদিন না ভ্যাকসিন বেরোচ্ছে ততদিন মাঝে মাঝেই লকডা’উন চালিয়ে যেতে হবে। আর যখনই ছাড় দেওয়া হবে তখনই বাড়বে রোগীর সংখ্যা। মাঝে মাঝে লকডা’উন হলে হাসপাতালগুলিতে ক্রিটি’ক্যাল কেয়ার ইউনিটের ক্ষমতা বাড়াতে পারবে।

সূত্র –   ২