অন্তর্বাস পরিহিত ম্যানিকুইন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলো ভারতের এই রাজ‍্য

0
833

খোলা রাস্তায় হোক বা শপিং মলে, অন্তর্বাস পরা ম্যানিকুইন আর সাজিয়ে রাখতে পারবেন না দোকানীরা, এমনি ফতোয়া জারি করেছে শিবসেনা। জানানো হয়েছে, ব্যস্ত রাস্তার দু’ধারে এমন অন্তর্বাসে সজ্জিত ম্যানিকুইন অত্যন্ত অশোভন। হামেশাই এই ম্যানিকুইন দেখিয়ে মহিলাদের দোকানে টেনে আনার চেষ্টা করা হয়। এতে অনেক মহিলাই বিব্রত হন। সুতরাং, এমন দেখনদারিতে কাজ নেই। বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)কে অবিলম্বে এমনতর ম্যানিকুইন হঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে কোনও বড় শহরের বাজার এলাকায় দেখা যায়, অনেক জামাকাপড়ের দোকানে অন্তর্বাস পরিহিত ম্যানিকুইন, হোর্ডি বা বিজ্ঞাপন দেওয়া রয়েছে। ভারতে কোনও রাজনৈতিক দল বা সাংস্কৃতিক সংগঠন এনিয়ে আপত্তি তোলেনি, কারণ, বিষয়টি একেবারেই যৌনগন্ধী নয়। ব্যবসায়ীর স্বার্থে এটি ব্যবহার করা হয়। যেমন এসবের বিজ্ঞাপন দেখা যায় টিভিতে, শোনা যায় রেডিওতেও।

 

শীতল মাত্রে জানিয়েছেন, প্রায়ই দেখা যায় দোকানের সামনে গাছের ডালে অন্তর্বাস পরা ম্যানিকুইন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দোকানদারদের মস্তিষ্কপ্রসূত এমন অদ্ভুত চিন্তাধারা ও ম্যানিকুইনের এ হেন প্রদর্শনীতে রাস্তাঘাটে যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়তে হয় মহিলাদের। তাঁর দাবি, ‘‘কোন দোকানে কী পাওয়া যায় সেটা আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না, সুতরাং অন্তর্বাসের প্রদর্শনী বন্ধ হোক।’’

 

এই ধরণের অন্তর্বাস পরিহিত ম্যানিকুইন রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে রাখলে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর প্রভাব পড়তে বাধ্য। শিবসেনা কর্পোরেটর এবং পুর আইন কমিটির চেয়ারম্যান শীতল মাত্রে জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের যে দোকানগুলিতে মহিলাদের পোশাক ও অন্তর্বাস রাখা হয়, তার সবকটিতেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এমন অশোভন ও কুরুচিকর সমস্ত ম্যানিকুইন দোকান থেকে তুলে ফেলতে হবে। সময়ের মধ্যে না সরালে দোকানের লাইসেন্স বাতিল করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শীতল মাত্রের কথায়, ‘‘বিএমসি-র কাছে আগেও এমন প্রস্তাব এসেছিল। তখনও আমরা দোকানদারদের সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু, ফের একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এ বার অনেক কঠোর হাতে আমরা এর ব্যবস্থা নেবো।’’  তিনি আরও বলেন, দোকানে ম্যানিকুইন রাখাটা মোটেও আইনের চোখে অপরাধ নয়। তবে সবকিছুরই একটা সঠিক নিয়ম থাকা প্রয়োজন। ম্যানিকুইনকে পরানো পোশাক এমন হওয়া উচিত যেটা রুচিকে আঘাত করবে না। দৃষ্টিনন্দন নয়, এমন জিনিস দেখিয়ে ক্রেতাদের টেনে আনার প্রচেষ্টা মোটেও শোভনীয় নয়। তবে নির্দেশিকায় ‘‌অবৈধ ম্যানিকুইন’‌ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যার মানে বৈধ ম্যানিকুইন না সরালেও চলবে। সরাতে হবে কেবল অবৈধ ম্যানিকুইনগুলি।

সূত্র –