মানবদেহের উপর ‘ব‍্যর্থ’ হল করো’না ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষা!

0
458
প্রতীকী ছবি

প্রথমে প্রাণীদের ওপর করো’না ভ্যাকসিনের যে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তা সফল হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, গোটা বিশ্ব জুড়ে করো’না ভাই’রাসের মোকাবিলায় প্রায় ৭০টি ভ্যাকসিনের ওপর কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩টি মানব শরীরে পরীক্ষা হবে। রিপোর্ট জানায়, চিনা গবেষকরা ইতিমধ্যেই বাঁদর ও ইঁদুরের ওপর যে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করেছিলেন, তা সফল হয়েছে। SARS-CoV-2-এর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ভ্যাকসিনটি।

করো’না ভাই’রাসের ওষুধ হিসেবে যে ড্রাগের ওপরে ভরসা রেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা, মানুষের ওপর পরীক্ষায় তার ফল আশানুরূপ নয় বলে জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। পরে অবশ্য সেই রিপোর্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পরে ওই পোস্টটি সাইট থেকে সরিয়ে নিলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকার করে নিয়েছে, তথ্যে কোনো ভুল নেই। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই পোস্টে বলা হয়, রেমডেসিভির রোগীর শারীরিক অবস্থার যেমন উন্নতি করতে পারেনি, তেমনি করো’না ভাই’রাসের উপস্থিতিও কমাতে পারেনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ২৩৭ জন করো’না রো’গীর মধ্যে ১৫৮ জনের ওপর এই ড্রাগ পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বাকি ৭৯ জনের সাধারণ ভাবে চিকিত্‍সা করা হয়। দেখা গিয়েছে যে রেমডেসিভির দেওয়া রো’গীদের মধ্যে ১৩.৯ শতাংশের মৃ’ত্যু হয়েছে। অন্য রোগীদের মধ্যে মৃ’ত্যু হয়েছে ১২.৮ শতাংশের।

পরীক্ষা নিরীক্ষা অনেকদিন ধরেই চলছিল। কিন্তু প্রথমেই ধাক্কা খেলেন বিজ্ঞানীরা। রিপোর্ট বলছে প্রাথমিকভাবে মানব শরীরে করো’না ভাই’রাসের ভ্যাকসিন কাজ করল না। ক্লিনিকাল ট্রায়ালেই আটকে গিয়েছে এই কাজ। দুটি ভিন্ন ডোজে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চলে। ৩ ও ৬ মাইক্রোগ্রাম ভ্যাকসিন ইঁদুর ও বাঁদরদের দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে শুধু করো’না ভাই’রাস নয়, কমপক্ষে আরও ১০ রকমের ভাই’রাস নির্মূল করতে সক্ষম এই ভ্যাকসিন। তবে এই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা গিলইয়াড সায়েন্সেস অবশ্য দাবি করেছে যে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলার সময় এখনও আসেনি।

অন্যদিকে গিলইয়াড সায়েন্সের দাবি, যেসব রোগীর শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে কো’ভিড–১৯ ধরা পড়েছে, তাঁদের উপরই রেমডিসিভির কাজ করেছে। ওষুধটির কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও ছিল। যে কারণে ওষুধটির প্রয়োগ আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেমডেসিভিরের উৎপাদন গিলইয়াড সায়েন্স অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই পোস্টকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করছে। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা মনে করছি, ওই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোস্টে গবেষণাটির বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে চিত্রায়িত হয়নি। খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তি পাওয়া যাওয়ায় দ্রুতই ওষুধ প্রয়োগ বন্ধ করা হয়েছিল। ফলে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে এটি অর্থবহ নয়।

সূত্র –