পেঁয়াজের পর এবার দাম বাড়লো দুধের

0
949

রাজধানী দিল্লিসহ দেশের একাধিক রাজ্যে দাম বাড়ল মাদার ডেয়ারির দুধের। মাদার ডেয়ারির সঙ্গে দুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমুল-ও। এক ও হাফ লিটার দুধের প্যাকেট কিনতে গেলে দিতে হবে বেশি মূল্য। মাদার ডেয়ারির তরফে জানানো হয়েছে, সবরকম দুধের ক্ষেত্রেই দাম বাড়ানো হয়েছে। বুথ থেকে টোকেন মারফত দুধ আনুন বা প্যাকেটে থাকা টেনড মিল্ক, সব ক্ষেত্রেই দিতে হবে বেশি দাম।

বর্তমানে প্রতি ৫০০ মিলিলিটার আমুল তাজা কলকাতায় পাওয়া যায় ২২ টাকা দরে। অর্থাৎ, লিটার প্রতি ২ টাকা বাড়লে ওই ৫০০ মিলিলিটারের জন্য বাড়তি ১ টাকা খরচ করতে হবে।

আমুল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক লিটার দুধের ক্ষেত্রে তারা দুটাকা দাম বাড়িয়েছে। দিল্লি ছাড়াও গুজরাত, বাংলা, মুম্বইসহ মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে মাদার ডেয়ারি ও আমুল-এর দুধ। আমুল অবশ্য ডবল টোনড মিল্ক এর দাম একই রাখছে।

সংস্থা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমুল ব্র্যান্ডের অধীনে দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহকারী গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (জিসিএমএমএফ) গুজরাত, দিল্লি এনসিআর, পশ্চিমবঙ্গ, মুম্বই এবং মহারাষ্ট্রের অহমেদাবাদ এবং সৌরাষ্ট্রের বাজারগুলিতে বিক্রি করা দুধের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে।”

ফুল ক্রিম, টোনড, ডাবল টোনড ও গরুর দুধের ক্ষেত্রে বাড়ছে দাম। হাফ লিটার দুধের প্যাকেট কিনতে গেলে এবার থেকে আগের চেয়ে এক টাকা বেশি দাম দিতে হবে। এক লিটার দুধের ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। মাদার ডেয়ারি ও আমুল-এর দেখানো রাস্তা ধরে এবার দেশের অন্য দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে প্লাস্টিকের ব্যবহার কম করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই জন্যই এই মূল্বৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার আগের থেকে অনেকটাই কম হতে পারে।

আমুল জানিয়েছে, গত তিন বছরে এটি পাউচের দুধের জন্য মাত্র দু’বার মূল্য সংশোধন করেছে। যার ফলে এই সময়কালে লিটারে মাত্র চার টাকা এবং সর্বোচ্চ খুচরো দাম বছরে তিন শতাংশেরও কম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমুলের দাবি, গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া প্রতি ১ টাকার জন্য সংস্থা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য প্রায় ৮০ পয়সা ব্যয় করে। ফলে দুধের উৎপাদকদের পারিশ্রমিক মূল্য বজায় রাখা এবং উচ্চতর দুধ উৎপাদনের জন্য তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই দুধের দাম প্রতি লিটারে দু’টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।