মানুষের মত দেখতে বাচ্চার জন্ম দিল শূকর! জেনে নিন আসল রহস্য (ভিডিও সহ)

0
1709

‘ফেক নিউজ’ বা ‘ভুয়ো খবর’ শব্দটিকে ২০১৭ সালে কলিন্স ডিকশনারির তরফ থেকে ওয়ার্ড অফ দা ইয়ার ঘোষণা করে হয়েছিল, কারণ সেটির ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু এই ভুয়ো খবরের রমরমা এই বছরেও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মানুষ ও শূকরের সংকর এক প্রাণীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ভাইরাল হয় এবং তা নিয়ে রীতিমত শোরগোলও পড়ে যায়। একটি ভিডিও এবং কয়েকটি ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মধ্যে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক শূকর মানব শিশু সদৃশ এক বাচ্চার জন্ম দিয়েছে ।

তবে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই লোকজন সেই ভিডিও এবং ছবি সকলকে শেয়ার করতে শুরু করেন, এমনকি তা হোয়াটস্‌ অ্যাপেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সংবাদে এমনও দাবি করা হয় যে, বাচ্চাটির জন্মের পরই সে মারা যায়।

কেনিয়ার কাকামেগা এবং মুরাঙ্গাতে এই অদ্ভুত ঘটনার ছবি প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়। এরপর একের পর এক পোস্ট শুরু হয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এমনকি সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনা দেখে তাজ্জব হয়ে যান।

লোকজন বিস্মিত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করতে শুরু করেন। কেউ লেখেন, ‘শূকর, মানব শিশুর মতো দেখতে সন্তান প্রসব করেছে। কেউ বা অবাক হয়ে লিখেছেন, ‘কাকামেগার বাসিন্দারাই অবাক শূকরের এরকম বাচ্চা দেখে’।

যদিও এই ছবিগুলির এবং ভিডিওর পিছনের আসল সত্য হল, এটি শূকরের গর্ভে জন্মানো কোনো সন্তান নয়। এটি ইতালির এক বিখ্যাত শিল্পী যার নাম Laira Maganuco, তিনি রাবার ও সিলিকন দিয়ে এই অদ্ভূত আকৃতির শিশুটিকে তৈরি করেছেন।

ছবিগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল Etsy store নামের এক অনলাইন শপিং পোর্টাল থেকে। আর নাভিযুক্ত শিশুটির কম্পনের ভিডিওটি সংগ্রহ করা হয়েছিল শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে।

শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিও যেটি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় –

“This piece a set of silicones, arts and other details in silicone paste is an acetic silicone made in moldable paste through a body and head process. They are super soft platinum silicone,”- অনলাইন শপিং পোর্টালটিতে এটি উল্লেখ করাই রয়েছে যে, বস্তুটি সিলিকন দিয়ে প্রস্তুত এবং বর্তমানে ওই প্রোডাক্টটি সব বিক্রি হয়ে গেছে।

যাইহোক অনেকেই হয়তো খবরটি পড়ে থাকবেন বা হোয়াটস্‌ অ্যাপে পেয়ে থাকবেন। তবে এটুকু নিশ্চিত যে এরকম কোনো অদ্ভুত ঘটনা আদও ঘটেনি। সবটাই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে।