উদ্বাস্তু শিবিরে থাকা অভুক্ত কৃষ্ণবর্ণের সেই তরুণী আজ বিশ্বসেরা মডেল

0
498

গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত সুদান থেকে পালিয়ে আসার পথে উদ্বাস্তু শিবিরে কেটেছে শৈশবের অনেকটাই। তবুও স্বপ্ন দেখতে ভুলতেন না। প্রচণ্ড খিদের জ্বালায় অস্থির সুদানের কিশোরী ন্যাকিম গাটওয়েক প্রথমে কেনিয়া, তারপর ইথিয়োপিয়ার উদ্বাস্তু শিবিরে বসে বসে ভাবতেন ‘আমেরিকায় অপেক্ষা করে আছে তার স্বপ্নের জীবন’। সেই স্বপ্নে জীবন পেতে একদিন আমেরিকায় পৌঁছেও গেলেন। তবে আমেরিকায় গিয়ে আরও চুরমার হয়ে গেল তার যাবতীয় আশা-ভরসা।

কেননা, সেখানে তার ভালভাবে থাকা তো দূর সমাজ তো গ্রহণ করতেই নারাজ তাকে। কারণ, তিনি যে ঘোর কৃষ্ণাঙ্গী। শ্বেতাঙ্গ প্রধান দেশে এসে সুদানের কিশোরী ন্যাকিম গাটওয়েক জীবনে প্রথম জানলেন কাকে বলে বর্ণবিদ্বেষ।

View this post on Instagram

Feeling sexy in my @fashionnova fit❤️ Fashionnovapartner ad #queenofdark🍫 #melaninpoppin #blackgirlmagic #melanin #southsudanesebeauty🇸🇸 #selfloveisthebestlove #confidenceiskey

A post shared by Nyakim Gatwech (@queennyakimofficial) on

প্রতি মুহূর্তে তার মনে হত, তিনি এই দেশের নন। স্কুলে গিয়ে আরও প্রকট হয় সমস্যা। প্রথমত ইংরেজি বুঝতে বা বলতে না পেরে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন। ইংরেজি বুঝতে শেখার পরে আরও গভীর হয় ক্ষত। কারণ তাকে শুনতে হয়, বন্ধুরা তাকে গোসল করতে বলছে! তাতে যদি গায়ের ময়লা কিছুটা দূর হয়!

এমন কটুক্তি শুনতে শুনতেই বড় হয়ে উঠা কৃষ্ণাঙ্গী তরুণী ন্যাকিম আজ প্রথম সারির মডেল। মডেলিং করেছেন আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডের জন্য। যে রঙের জন্য বিদ্রূপ সহ্য করতে হত, এখন সেটাই তার তুরূপের তাস। সামাজিক মাধ্যমে ট্রেন্ডিং ন্যাকিমের ছবি।

ইনস্টাগ্রামের অনুরাগীর সংখ্যা ২০ হাজার থেকে রাতারাতি পৌঁছেছে সাড়ে তিন লাখের কাছাকাছি। ন্যাকিমকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান বিশ্বের নানা প্রান্তের অসংখ্য ভক্ত। মিনেসোটার বাসিন্দা ন্যাকিমকে অনেকেই বলেন, ‘অন্ধকারের রানি’। সেটাও তার কাছে প্রশংসা, অপমান নয়। তবে এই সাফল্যের মাঝেও ফিরে আসে অতীতের অপমানের দগদগে ক্ষত।

View this post on Instagram

It been real Las Vegas until next time✌🏿 #MELANINMONDAY🍫

A post shared by Nyakim Gatwech (@queennyakimofficial) on

যখন আংশিক সময়ের শিক্ষকতা আর টুকটাক মডেলিং করে জীবিকা নির্বাহ করতে হত। আরও মনে পড়ে, একদিন অ্যাপক্যাব চালক তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ব্লিচ করানোর! চালককে তিনি পাল্টা বলেছিলেন, তিনি যেমন, তাতেই তিনি খুশি। অথচ অতীতে একদিন ন্যাকিম-ই ভেবেছিলেন ব্লিচ করাবেন।

তখন তাকে বুঝিয়েছিলেন তার বোন। বোনের কথায় ব্লিচ করানোর ভাবনা থেকে সরে এসেছিলেন ন্যাকিম। আজ নিজের জীবন নিয়ে খুশি এই কৃষ্ণাঙ্গী তরুণী। সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কোনও অভিযোগ নেই। একদিন যে সমাজে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, আজ তারাই সাদরে আপ্যায়ন করেছে তাকে।

অতীতে উদ্বাস্তু শিবিরে থাকা মেয়েটি জানতেন না কোথা থেকে আসবে রাতের খাবার। এক তাঁবু থেকে অন্য তাঁবুতে পৌঁছনোর প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করত অনিশ্চয়তা। আজ, তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে বিশ্বের সেরা ফ্যাশন পত্রিকাগুলি।

যশ-খ্যাতি-অর্থ সব পেয়েছেন ন্যাকিম। তবে জানিয়েছেন, তার জীবনের সেরা পুরস্কার হল সেই কিশোরীরা। যারা তাকে দেখে নিজেদের ঘোর কৃষ্ণবর্ণকে ভালবাসতে পেরেছে। অপমান ভুলে নতুন করে বাঁচতে শিখেছে।

View this post on Instagram

Is Monday right? #MELANINMONDAY🍫🍫👸🏿👸🏿

A post shared by Nyakim Gatwech (@queennyakimofficial) on

ন্যাকিমের অন্যরকম লুক এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় চাহিদার তুঙ্গে। নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতাও করেন এই সুদানিজ সুন্দরী। বলেন, তার ত্বক সূর্যরশ্মি বেশি শোষণ করে। আর এক মাথা ঝাঁকড়া চুল?

তারা নাকি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মানে না। তাই সবসময় উঁচু হয়ে থাকে। নিজেকে ভালবেসে এভাবেই কালো নিয়ে মানুষের মনের কালোকে দূর করে যেতে চান এই অন্ধকারের রানি।

View this post on Instagram

I remember I went through a big a period of time where I didn’t embrace my ‘chocolatines, I️ remember talking to my mom telling her how much I️ want to change this dark complexion of mine that nobody loves, “Are you crazy?’ She said, ‘You are absolutely gorgeous, she told me how beautiful I was and how rare my dark skin was and that what make me unique and one day I’ll see it too. now I️ can honestly say I️ truly see it. A big thank you to my amazing followers who don’t make me forget not one bit every single day of how beautiful my skin color is I’m very grateful to you all🙏🏿🙌🏿❤️ #drippingmelanin🍫 #queenofdark🍫🖤👸🏿 #southsudanmade🇸🇸

A post shared by Nyakim Gatwech (@queennyakimofficial) on