এবার রাজ‍্যে সিভিক গোয়েন্দা নিয়োগ করা হবে বাছাই করা সিভিক ভলেন্টিয়ারদের নিয়ে

0
662

প্রস্তাব এসেছিল ন’মাস আগেই। কিন্তু তখন সায় দেয়নি নবান্ন। লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে এ বার রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগেও সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের অনুমোদন দিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। লোকের মুখে মুখে তাঁরা হয়ে উঠছেন ‘সিভিক গোয়েন্দা’। ১৮ জুন স্বরাষ্ট্র দফতরের আদেশনামা অনুসারে ৫২৮৫ জন সিভিক গোয়েন্দা এখন নবান্নের জন্য খবর সংগ্রহে নেমে পড়ছেন। নতুন নিয়োগ নয়, থানার সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্য থেকে বাছাই করে গোয়েন্দা বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

নবান্নের পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৮৫ জনকে গোয়েন্দা বিভাগের কাজে লাগানো হবে বলে নোটিশ জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন নিয়োগ নয়, বর্তমান সিভিক ভলান্টিয়ার বাহিনী থেকেই বাছাই করে গোয়েন্দা বিভাগের কাজে নিযুক্ত করা হবে।

প্রতীকী ছবি

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ‍্যম আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে জানা গেছে নবান্ন সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩১৭, বারাসত-বসিরহাটে ৩০০, বাঁকুড়ায় ২৮৫, পুরুলিয়ায় ২৫৫, হাওড়া গ্রামীণে ২৩৬, মুর্শিদাবাদে ২৫০, দার্জিলিঙে ২২০, পূর্ব বর্ধমান ২১৫ এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ২২৩ জন সিভিক গোয়েন্দা কাজ শুরু করছেন। পুলিশ কমিশনারেটের মধ্যে সব চেয়ে বেশি সিভিক গোয়েন্দা দেওয়া হয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুরে (৩১৮ জন)। বিধাননগরে ২৫০ এবং ব্যারাকপুরে ১৮৮ জন। ‘‘লোকসভা ভোটে যেখানে বিজেপি জিতেছে, সেখানকার খবরেই জোর দিতে হবে। সে-ভাবেই লোক বাড়ানো হয়েছে,’’ বলেন স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্তা।

প্রতীকী ছবি

আরও এক সংবাদ মাধ‍্যম কলকাতা 24×7 তাদের প্রতিবেদনে জানান রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার সন্ত্রাস চলছে। অনেক জায়গায় ঘটনা ঘটার অনেক পরে পুলিশ খবর পাচ্ছে। ফলে যা প্রতিরোধ করতে বেগ পেতে হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনকে। তাই এবার আগাম খবর পেতে মমতা সরকারের হাতে তৈরি সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশকে রাজ্যের অতি-স্পর্শকাতর গোয়েন্দা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলে গোয়েন্দা বিভাগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ।

প্রতীকী ছবি

কিন্তু কি কাজ করবে এই সিভিক ভলেন্টিয়ার-রা? এদের কাজ হবে পাড়ায় পাড়ায় নজর রাখা, মানুষের সাথে মিশে থাকা। কোথাও কোন গোলমাল হতে পারে কিনা তাঁর আভাস বোঝা। ঝামেলার গন্ধ পেলেই তাঁরা জানাবেন নির্দিষ্ট এলাকার থানায়। এদের ট্রেনিং দেওয়া হতে পারে বলে খবর সূত্রের। উল্লেখ্য এই মুহুর্তে রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে। তবে যাই হোক এটা অবশ‍্যই ভাল খবর সিভিক ভলেন্টিয়ারদের জন্যে।

প্রতীকী ছবি

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেন। ট্র্যাফিক, থানা, ফাঁড়ি এবং বিভিন্ন অফিসে তাঁদের রাখা হয়েছিল। এক লক্ষ ৩৭৭ জনকে কাজ দেওয়া হয় থানা ও পুলিশ-জেলায়। ছ’টি পুলিশ কমিশনারেটে ১৫৪৩৮, রেল পুলিশের চার ডিভিশনে ৪০০০ জনকে নিয়োগ করা হয়। এক লক্ষ ১৯ হাজার ৮১৫ জনকে এই ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। এখন ৫২৮৫ জনকে আইবি-তে দেওয়া হল।

প্রতীকী ছবি

যদিও ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিক ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় পোড়িয়া জানিয়েছেন, এতে মমতা সরকারের কোনও লাভ হবে না৷ এর আগেও ডিআইবির কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারকে ব্যবহার করা হয়েছে৷ এছাড়া কিছুদিন আগেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে৷ বাকিদের মধ্যেও অনেকেই এই সরকারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এতে বিজেপিরই লাভ হবে।