এই দম্পতি নিজেদের নিয়েই এত ব‍্যস্ত যে, জানেই না করো’না ভাই’রাসের ভয়ে কাঁপছে গোটা বিশ্ব

0
375

গোটা বিশ্ব জুড়ে যখন করো’না তার কালো ছায়া মর্মান্তিক ভাবে বিস্তার করেছে এবং গোটা বিশ্ব জুড়ে যেখানে করো’না আক্রা’ন্তের সংখ্যা ২৭ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে সেখানে এই দম্পতি এতদিন পর্যন্ত জানতেনই না যে বিশ্ব জুড়ে এমন মহা’মারি ছেয়ে রয়েছে। এই দম্পতির নাম হল রায়ান এবং এলিনা। রায়ান হলেন ম্যাঞ্চেস্টারের বাসিন্দা এবং এলিনা হলেন ইতালির বাসিন্দা।

একঘেয়ে জীবনে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন দুজনে। অফিস আর বাড়ি। এই বাধা গণ্ডিতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছি দুজনের। তাই একদিন ঠিক করলেন, এবার চাকরি ছেড়ে বিশ্বভ্রমণে বেড়িয়ে পড়বেন দুজনে মিলে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ।

সারা পৃথিবী যখন করো’না আ’তঙ্কে ত্রস্ত তখন এরা ব্যস্ত ছিলেন বিশ্বভ্রমণে। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। জানতেনই না একটা ছোট্ট ভাই’রাসের জন্য পৃথিবী ওলোটপালোট হয়ে যেতে বসেছে। এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ মা’রা গিয়েছেন। আক্রা’ন্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৭ লক্ষ। অথচ তারা দু’জন জানতেনই না পৃথিবীতে করো’না ভাই’রাস নামে কিছু আছে!

ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ দুজনে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। তাঁরা আটলান্টিক মহাসাগর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে ক্যারিবিয়ান যাত্রা করার জন্য একটি নৌকা কিনেছিলেন। তার পর থেকে দুজনে ছিলেন গোটা দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে। বিশ্বের কোনও খবরই তাঁরা রাখেননি। ভ্রমণের সময় তাঁরা কেউই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা কোনও খারাপ সংবাদ শুনতে চান না, সেই জন্য পরিবারের লোকজনকেও বলেছিলেন যোগাযোগ না রাখতে। একদিন ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা রায়ান ও এলিনা ক্যারিবিয়ান দ্বীপের একটি ছোট্ট বন্দরে তাঁদের নৌকো ভিড়িয়ে সব জানতে পারেন।

এলিনা উত্তর ইতালির লম্বার্ডির বাসিন্দা। করো’নায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলোর মধ্যে লম্বার্ডি অন্যতম। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে আমরা শুনেছিলাম চিনে একটি ভাই’রাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ২৫ দিনের মধ্যে ভাই’রাসটি নির্মূল হয়ে যাবে এবং এটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পৌঁছবে না বলে শুনেছিলাম। তবে আমরা যখন ক্যারিবিয় উপকূলে পৌঁছেছিলাম তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে, ভাই’রাস শুধু চিন নয় সমগ্র বিশ্ব সংক্রা’মিত হয়েছে।’

সূত্র