সকাল সকাল এক শালিক দেখা কি আদও অশুভ?

0
1890

বাঙালি সমাজ পশু-পাখিদের নিয়ে বিশ্বাস এবং অন্ধবিশ্বাসের এক আজব দুনিয়ার আজও আবদ্ধ। এখনও অনেকে বিশ্বাস করেন সকাল সকাল এক শালিক দেখা বেজায় অশুভ! যেখানে দু’শালিক দেখলে ভাগ্য ফিরে যেতে সময় লাগে না, একথা মানতেও অনেকে পিছপা নয়। এখন প্রশ্ন হল এই ধরণাগুলি কি আদৌ বাস্তবসম্মত? শালিক পাখির সঙ্গে আমাদের ভাগ্যের ভাল-মন্দের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে তেমন একটা জানা না গেলেও একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে এমনটা উল্লেখ পাওয়া যায় যায় যে বেশ কিছু প্রাণী বা ঘটনার সঙ্গে বাস্তবিকই আমাদের ভাগ্যের পথ ঘুরে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

তাই তো এই প্রবন্ধে সেই সব প্রাণীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যাদের সঙ্গে আমাদের জীবনের পথ উন্নতির দিকে যাবে, না অবনতির দিকে, তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আগামী দিনে কী ঘটতে চলেছে, তা আমরা কোনও ভাবেই জানতে পারি না। তাই তো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেশিরভাগই আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি। সাধারণত যে যে প্রাণীদের সঙ্গে আমাদের ভাল বা খারাপ হওয়ার সম্পর্ক রযেছে, সেগুলি হল…

১. বাড়িতে বিড়াল থাকা কখনই উচিৎ নয়

বেশ কিছু প্রাচীন গ্রন্থে এমনটা উল্লেখ পাওয়া যায় যে বাড়িতে বিড়াল থাকা একেবারেই শুভ নয়, তা সে যে কোনও রঙেরই হোক না কেন। বিশেষত সাদা বিড়াল বাড়িতে থাকলে পরিবারের কারও কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, যেখানে কালো বিড়াল থাকার আর্থ হল বিশ্বাসঘাতকতা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়া। তাই বিড়ালের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা যায়, ততই শ্রেয়।

২. অফিস যাওয়ার পথে গরুকে দেখা:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে অফিস যাওয়ার পথে বা যে কোনও শুভ কাজের আগে যদি হঠাৎ করে সামনে গরু চলে আসে, তাহলে তা খুবই শুভ ঘটনা। এই কারণেই খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই সকাল সকাল গরুকে খাবার খাইয়ে থাকেন। কারণ এমনটা করলে ভাগ্য খারাপ দিকে মোর নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৩. বাড়িতে প্রজাপতি আসে কি?

প্রজাপতি শুভ সময়ের প্রতীক। এই কারণেই তো বাঙালি বিয়ের সময় প্রজাপতির চিহ্ন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাহলে কি এমনটা ভেবে নেওয়া ঠিক যে বাড়িতে প্রজাপতির আগমন মানেই শুভ কিছু ঘটনা ঘটতে চলেছে? একেবারেই! একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে লেখা রয়েছে কালো রঙের প্রজাপতি বাড়িতে আসার অর্থ হল কোনও অতিথি ভাল কোনও খবর নিয়ে আসছেন। আর যদি উজ্জ্বল রঙের প্রজপতি আপনার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার লাভ লাইফ সম্পর্কিত কোনও ভাল খবর আসতে চলেছে। তবে তাই বলে প্রজাপতিকে ধরে বাড়িতে বন্ধ করে রাখলে কিন্তু চলবে না। এমনটা করলে ভাল তো হবেই না, উল্টে খারাপ কিছু ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যাবে বেড়ে।

৪. পাখির পটি!

রাস্তায় যেতে যেতে মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির কৃতকর্মের সাজা আপনার মাথা বা শার্টকে পেতে হয়েছে অনেকবারই। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে পাখির পটি মাথায় পরা বেজায় শুভ! এমনটা মেনে নিতে কষ্ট হলেও লিখিত নথি পাওয়া গেছে এ সম্পর্কে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, এমনটা হওয়া বেজায় শুভ। তাই এবার থেকে অফিস যাওয়ার পথে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে মন খারাপ করবেন না, বরং জানবেন সেদিন কোনও ভাল ঘটনা ঘটতে চলেছে আপানাদের সঙ্গে।

৫. বারে বারে হাত কাঁপা:

এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাঁ হাত কাঁপা বেজায় শুভ। এমনটা হলে জানবেন অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে চলেছে। কিন্তু যদি ডান হাত কাঁপে তাহলে কিন্তু চিন্তার বিষয়। কেন চিন্তার কেন? কারণ এমনটা হওয়ার অর্থ হল পকেট খালি হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ নানাভাবে খরচের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়া।

আরও পড়ুন ঃ সাবধান: বাস্তুশাস্ত্র মতে এই জিনিসগুলি পকেটে রাখলে কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে

৬. ভুল করে উল্টো জামা পরে ফেলা:

অনেক সময়ই তাড়াহুড়োর চোটে আমরা উল্টো জামা পরে ফেলি। এমনটা হঠাৎ করে ঘটে যাওয়ার অর্থ কি জানেন? বিশ্বাস করা হয় উল্টো জামা পরলে ভাল কোনও খবর আসার সম্ভাবনা বাড়ে। সেই সঙ্গে খারাপ সময় কেটে গিয়ে ভাল সময় আসার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে ইচ্ছাকৃত উল্টো জামা পড়লে কিন্তু জীবনে কোনও পরিবর্তনই আসবে না।

৭. তারা খসা দেখা:

ছোট থেকেই আমার মতো অনেকেই নিশ্চয় এমনটা বিশ্বাস করে আসছেন যে তারা খসা দেখা খুব শুভ ঘটনা! কিন্তু আদৌ কি এই ধরণাটা ঠিক? একেবারেই! তারা খসা দেখার সময় মনে মনে যা চাওয়া হয়, তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়িত হয় বলে মনে করেন অনেকে। শুধু তাই নয়, আপনি যদি অসুস্থ থাকাকালীন তারা খসে পরতে দেখেন, তাহলে জানবেন আপনার সুস্থ হয়ে উঠতে আর বেশ সময় লাগবে না।

Source