নিজের ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করেছেন এই মহিলা!

0
1006

নিজের মেয়েকে বিয়ে করায় শাস্তি হিসেবে দুই বছর কারাগারে কাটাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক নারীকে । ৪৫ বছর বয়সী প্যাট্রিসিয়া অ্যান স্প্যানকে এই কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে ।

সমকামিতা বৈধ হলেও ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের আইনে খুব নিকট আত্মীয়দের এই ধরনের যৌনাচার নিষিদ্ধ । ওকলাহোমায় সমকামী বিয়ে বৈধতা পাওয়ার পর প্যাট্রিসিয়া তার ২৬ বছর বয়সী মেয়ে মিস্টি ভেলভেট ডন স্প্যানকে বিয়ে করেছিলেন ।

প্যাট্রিসিয়ার গর্ভে মিস্টির জন্ম; তবে মিষ্টি ছোট থাকতেই তার মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন । কিছুদিন আগে  মা-মেয়ের পুনর্মিলন হয় । এর দুই বছরের মাথায় বিয়ে করেন তারা । শিশুদের পরিচর্যা নিয়ে কাজ করে আসা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হিউমেন সার্ভিস প্রথম মা-মেয়ের বিয়ের বিষয়টি ধরেন । পরে তা আদালতে গড়ায় ।

রাজ্যের সংবাদপত্র ওকলাহোমান জানিয়েছে, মিষ্টি গত অক্টোবরে এই বিয়ে বাতিল করেছিলেন । তাতে তিনি যুক্তি দেখান, তাকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারিত করা হয়েছিল ।

মিষ্টি বলেন, তার মা তাকে বলেছিলেন, এই ধরনের বিয়েতে আইনি কোনও বাধা নেই । বিষয়টি নিয়ে তিনজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা মেয়েকে বলেছিলেন প্যাট্রিসিয়া, যা মিথ্যা ছিল বলে এখন বুঝতে পারছেন মিষ্টি । তবে একই অপরাধে শাস্তি এড়াতে পারেননি মিষ্টিও । তাকে ১০ বছরে পর্যবেক্ষণ ও কাউন্সিলিংয়ের মধ্যে থাকতে হবে ।

গত মঙ্গলবার থেকে কারাজীবন শুরু হওয়া প্যাট্রিসিয়াকেও মুক্তির পর আট বছর পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে । বিয়ের ক্ষেত্রে প্যাট্রিসিয়ার যুক্তি ছিল, মিষ্টির জন্ম সনদে যেহেতু মা হিসেবে তার নাম নেই, সেহেতু এই বিয়ে বৈধ বলেই তিনি মনে করেছিলেন । মেয়ের আগে ছেলেকেও বিয়ে করেছিলেন প্যাট্রিসিয়া । তার ছেলে পরে এই বিয়ে বাতিল করে দেয় ।

এবিষয়ে বিস্তারিত খবর

তাঁদের মধ্যে জৈবিক সম্পর্ক রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কোনও আইনি সমস্যা হবে না । কার্যত এ কথা বুঝিয়েই নিজের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন বছর চুয়াল্লিশের মহিলা প্যাট্রিসিয়া স্প্যান । ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই মা-মেয়ে দু’জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ । মার্কিন মুলুকের ওকলাহোমার ঘটনা ।

তিন সন্তানের মা প্যাট্রিসিয়া । দুই ছেলে ও এক মেয়ে । বিবাহবিচ্ছিন্নের পর তাঁর তিন সন্তানকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয় তাদের দাদি । তার পর থেকে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ ছিল না প্যাট্রিসিয়ার । কিন্তু বছর দুয়েক আগে মেয়ে মিস্টি স্প্যানের (২৬) সঙ্গে যোগাযোগ হয় প্যাট্রিসিয়ার । তার পরে বিয়ে এবং একসঙ্গে থাকা শুরু । তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে ।

প্যাট্রিসিয়ার দাবি ঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা । আশ্চর্যজনক ভাবে, দেখা যায় মেয়ের জন্মসনদে জন্মদাত্রী হিসাবে দাদির নাম রয়েছে ! শুধু তাই নয়, প্যাট্রিসিয়া তাঁর স্প্যান পদবীটিও বদলে ফেলে অ্যান ক্লেটন করে নেন ম্যারেজ সার্টিফিকেটে এবং সেখানে তিনি দেখান প্রতিবেশী কাউন্টির মেয়ে মিস্টিকে বিয়ে করছেন !

এখানেই শেষ নয় । আরও চমক অপেক্ষা করছিল তদন্তকারীদের জন্য । মিস্টি প্রথম নয়, এর আগে ২০০৮-এ নিজের ১৮ বছরের ছেলেকেও বিয়ে করেছিলেন ঠিক একই ভাবে বুঝিয়ে । ২০১০-এ মায়ের বিরুদ্ধে ‘ভুল বুঝিয়ে শারীরিক সম্পর্ক’ করার অভিযোগ আনে সেই ছেলে । পরে মিস্টিও প্যাট্রিসিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন । কেন এ ধরনের সম্পর্ক গড় তুলতেন প্যাট্রিসিয়া বিষয়টি খুব একটা স্পষ্ট হয়নি তদন্তকারীদের কাছে ।