এইবার মহাকাশে নভোশ্চররা খাবেন বিরিয়ানী এগরোল ইডলি পোলাও থেকে ফলের রস এর মতন লোভনীয় খাবার

0
63

এবার মহাকাশেও পাওয়া যাবে ঘরের খাবারের স্বাদ। ইসরোর গগনযানে মহাকাশে পাড়ি দেওয়া নভোশ্চরেরা পাবেন এমনই জিভে জল আনা খাবার। নতুন বছরের প্রথম দিনেই গগনযান অভিযানের ঘোষণা করেছে ইসরো। এবার সামনে এল মহাকাশচারীদের জন্য ইসরোর নির্ধারিত লোভনীয় মেনু। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিই সরকারিভাবে গগনযান অভিযানের কথা ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্য়ান কে শিবন। এই অভিযানে প্রথমবার মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। সেই অভিযানের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে।

মঙ্গলবার প্রকাশ করা হল মহাকাশে থাকার সময় ভারতীয় মহাকাশচারীরা কী খাবেন, কীই বা পান করবেন। ২০২২ সালের পয়লা জানুয়ারি মিশন গগনযানের ঘোষণা করে ইসরো। মিশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে ৪ মহাকাশচারী। তারা কী খাবে সেই নিয়ে জোর আলোচনা। মহাকাশচারীদের জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ পাত্র।

প্রতীকী ছবি

সূত্রের খবর, মেনুতে রয়েছে ২২ রকমের খাওয়ার ও ফলের রস। তাতে রয়েছে ভেজ পোলাও, ভেজরোল, ইডলি, এগরোল, মুগ ডাল হালুয়ার মতো দেশি খাবার। এছাড়াও থাকবে মোট ১০০ কেজির উপর ফলের রস। বিশেষ পদ্ধতিতে সেই খাবার বানাচ্ছে ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাব। এখানেই শেষ নয়, খাওয়ার গরম করে খাওয়ার মহাকাশচারীদের সঙ্গে জন্য বিশেষ হিটারও দেওয়া হবে। মাধ্যাকর্ষণহীন জায়গায় জল ও ফলের রস খাওয়ার জন্যেও তাদের বিশেষ পাত্র তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরো। সেই সঙ্গে মহাকাশে তাঁদের দেওয়া হবে খাওয়ার গরম করার ফুড হিটার। প্যাকেটবন্দী এগরোল, ইডলি, বা পোলাও নভোশ্চররা সেই হিটারে গরম করে খেতে পারবেন।

ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান হতে চলেছে গগনযান। এর জন্য টেস্ট ফ্লাইট এই বছরই মহাকাশে পাঠানো হবে। ইসরো প্রধান শিবন জানিয়েছেন, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাছাই করা ৪ মহাকাশচারীর প্রশিক্ষণ শুরু হবে রাশিয়াতে। ২০১৯ সেপ্টেম্বর মাসে গগনযানের জন্য ১২ জনকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। এরা সকলে স্ক্রিনিংয়ের প্রথম লেভেল উত্তীর্ণ করেছেন। এরপর দ্বিতীয় স্ক্রিনিংয়ে সাতজনকে এবং চূড়ান্ত তালিকায় চারজনকে নির্বাচন করা হয়েছে।

তবে, মহাকাশে অভিকর্ষ বল বা গ্র্যাভিটি না থাকায় জল বা অন্য কোনও পানীয় গ্রহণ করাটা অত্যন্ত সমস্য়ার। টিনটিন-এর কমিকস যাঁরা পড়েছেন তাঁদের মনে থাকবে, ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মহাকাশে হুইস্কি খেতে গিয়ে কী অবস্থা হয়েছিল। গ্লাসে থাকা হুইস্কি বল হয়ে উড়ে গিয়েছিল। ভারতীয় নভোশ্চরদের যাতে সেই দশা না হয়, সেই কারণে জল বা ফলের রসের মতো পানীয় গ্রহণের জন্য বিশেষ পাত্র তৈরি করা হয়েছে। আর এই বিশেষ উপায়ে তৈরি খাদ্য ও পানীয়ের পাত্র-এর সবটাই তৈরি করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ। আরও বিশদে বললে মাইসোরে অবস্থিত ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবরেটরি।

ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, গগনযানের জন্য ২০২২ সাল লক্ষ্য মাত্রা রাখা হয়েছে ৷ শিবন এদিন আরও জানান, ফের চাঁদে পাড়ি দেব ভারত ৷ এর জন্য ১৪-১৬ মাস সময় লাগবে ৷ ফলে ২০২১ সালে চন্দ্রযান ৩ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৷ ২০২১-এ চন্দ্রযান-৩ মিশন লঞ্চ করারও ঘোষণা করল ইসরো ৷ সরকার এর জন্য সম্মতি দিয়ে দিয়েছে ৷ প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দও করেছে কেন্দ্র বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান ৷ চন্দ্রযান ২-এর উপরে ভিত্তি করে হবে এটি। চন্দ্রযান ও গগনযানের কাজ সমানতালে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here