জেলের বন্ধু ও খাবার মিস করছিলেন, তাই পুনরায় চুরি করে জেলে যেতে চাইলেন চেন্নাই এর এক ব‍্যক্তি

0
574

পেটে টান পড়লেই পুলিশের নজর কারত পিকে। যে কোন প্রকারে জায়গা জুটিয়ে নিত গারদে। ২০১৪ সালে সিনেমার পর্দায় এমনই চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেতা আমির খান। এ বার বাস্তবেও এমন এক পিকের হদিশ মিলল তামিলনাড়ুতে। জেলের খাবার এবং বন্ধুদের টানে স্বেচ্ছায় হাজতে ঢুকল এক চোর। এই ব্যক্তির নাম জ্ঞাননপ্রকাশম। বয়স ৫২ বছর। চুরির দায়ে গত মার্চ মাসে চেন্নাইয়ের পুঝাল জেলে ঠাঁই হয়েছিল।

তিনবেলা ভরপেট খাবার আর সহবন্দিদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করে দিনগুলি বেশ ভালই কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু, জেলে থাকার মেয়াদ ফুরোতেই মন খারাপ হয়ে যায় ৫২ বছরের জ্ঞাননপ্রকাশমের। চারিদিক কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগতে থাকে। জেলের বন্ধুদের মিস করার পাশাপাশি তিনবেলা খাবারের অভাবও হাড়েহাড়ে অনুভব করছিল সে।

জেলের বন্ধুরা, সেখানকার খাবার এতটাই পছন্দ ছিল যে, শেষপর্যন্ত ফের একবার জেলে ফেরার ব্যাপারেই মনস্থির করে ফেলে জ্ঞাননপ্রকাশম। কিন্তু এটা তো আর কোনও হোটেল নয়, যে চাইলেই ফেরা যায়। তাই জেল থেকে ছাড়া পেয়েও সেখানেই ফিরে যেতে শেষ পর্যন্ত অভিনব কাণ্ড ঘটাল ওই ব্যক্তি। ফের একবার চুরি করে জেলে ফিরল জ্ঞাননপ্রকাশম। কোনও উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত ফের জেলে ফিরে যেতেই মরিয়া হয়ে উঠে।

দিন কয়েক আগে সিসিটিভি বসানো পশ্চিম তাম্বরমের কৈলাসপুরম ফার্স্ট স্ট্রিটে পৌঁছয় জ্ঞাননপ্রকাশম। সেখান থেকে প্রথমে একটি মোটর সাইকেল চুরি করে। বহুক্ষণ ধরে এদিক-ওদিক ঘোরার পর ফুরিয়ে যায় বাইকের পেট্রল। তখন রাস্তার ধারে পার্কিংয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি গাড়ি থেকে পেট্রলও চুরি করে জ্ঞাননপ্রকাশম। আর গোটা চুরিটাই সে সারে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, যাতে তাকে চিনতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয় পুলিশের।

চোখের সামনে এই ঘটনা দেখে দৌড়ে আসেন স্থানীয়রা। আর তারপর হাতেনাতে তাকে ধরে তুলে দেয় পুলিশের হাতে। তখন পুলিশকে বাইক চুরির কথাও খুলে বলে সে। ধৃতকে জেরা করে সমস্ত ঘটনা জানার পর হতবাক হয়ে পড়েন পুলিশকর্মীরা। পরে আদালতে তোলা হলে তাকে ফের পুঝাল জেলেই পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

প্রতীকী ছবি

জানা গিয়েছে, জ্ঞাননপ্রকাশমের বাড়ির লোকেরা এমনকি তার স্ত্রী–সন্তানরাও তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করত না। কিন্তু জেলে যাওয়ার পর সেখানে ভাল সময় কাটাতে শুরু করে গন্নাপ্রকাশম। আর তাই জামিন পেলেও তার মন পড়েছিল জেলের ভিতরেই। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর স্ত্রী এবং ছেলে মেয়েরা সারা ক্ষণ গঞ্জনা দিত। তিন বেলা পেট ভরে খাবারও জুটছিল না। সুখ-দুঃখের গল্প করা হচ্ছিল না বন্ধুদের সঙ্গে। তাতেই তিতিবিরক্ত হয়েই জেলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন জ্ঞাননপ্রকাশম।

সূত্র –