ভোটার কার্ডের নামের পাশে মানুষের ছবির বদলে কুকুরের ছবি!

0
670

একেই তো এনআরসি সিএএ আতঙ্ক। তার উপরে আবার ভুলে ভরা নতুন ভোটার ছবি। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বিভিন্ন বুথে নতুন ভোটারদের ভোটার কার্ড বিলির কাজ শুরু হয়। এদিন হাতে ভোটার ছবি পান বেওয়া ২ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের ৪০ নম্বর বুথের  রামনগরের বাসিন্দা সুনীল কর্মকার(৬০)। ভোটার কার্ড হাতে পেয়ে কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েন তিনি। ভোটার কার্ডে তাঁর ছবির জায়গায় কুকুরের ছবি।

একই চিএ লক্ষ করা গেল নির্বাচক মন্টু দাস। তিনি পুরুষ থাকলেও ভোটার কার্ডে তার স্বামীর নাম উল্লেখ করে তাতে লেখা রয়েছে মনিরুল শেখ! এদিকে নিজের ছবির জায়গায় কুকুরের ছবি বসায় রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সুনীল কর্মকার।

তিনি জানান, মানুষ হিসেবে আমাকে অপমান করা হয়েছে। আমাকে পশু হিসাবে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতি দিয়েছে। আমি ফরাক্কা ব্লক নির্বাচন কমিশনের আধিকারীকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। ৪০ নম্বর বুথের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএলও বিনয় চন্দ্র রায় জানান, সুনীল কর্মকার ৬ জানুয়ারি সংশোধনের জন্য ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। ৮ জানুয়ারি সেই ফর্ম আমি জমা দিই ফরাক্কা ব্লকের দায়িত্ব প্রাপ্ত জুনিয়ার ইঞ্চিনিয়ার রাজা মৈত্র-র কাছে। সেখানে দেখা যায় খসড়া ভোটার তালিকায় সুনীল কর্মকারের ছবির জায়গায় কুকুরের ছবি ছাপা আছে। রাজা মৈএ আমাকে দ্রুত সুনীল কর্মকারের বাড়ি গিয়ে পাসপোর্ট ছবি আনার নির্দেশ দেন।

আমি তড়িঘড়ি গিয়ে ছবি এনে উনাকে জমা দিয়েছিলাম। তা সত্বেও এত বড় ভুল কি করে হল ভেবে পাচ্ছি না।বিষয়টির সত্যতা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে ফরাক্কার বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি। গত জানুয়ারি মাসের সংশোধনের জন্য যে আবেদন পত্র জমা পড়েছে তাঁর নতুন ভোটার কার্ড এপ্রিল মাসে দেওয়া হবে। তাতে এই এুটি থাকবে না। এটি ডিসেম্বর মাসের আবেদন করা ভোটার কার্ড। ফলে এই এুটি দেখা দিয়েছে। এদিকে নতুন তালিকা ও ভোটার ছবি কার্যত বেশিরভাগই ভুলে ভরা। অনলাইনে সংশোধন করার জন্য আবেদন করার পরেও এধরনের ভুলে ভরা ভোটার ছবিতে ক্ষুব্ধ মুর্শিদাবাদবাসী।

সুনীলবাবুর দাবি, তাঁকে অপমান করার উদ্দেশে ইচ্ছে করেই তাঁর ভোটার পরিচয়পত্রে কুকুরের ছবি ছাপা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা আমার ভোটার পরিচয়পত্র দেখেছে, তারা প্রকাশ্যে ঠাট্টা করছে। নির্বাচন কমিশনকে আমি আদালতে টেনে নিয়ে যাব।’ ভোটার পরিচয়পত্র সংশোধনের কাজে যুক্ত এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটার কার্ডের এই ভুল আগেই ধরা পড়েছিল। কিন্তু কী কারণে তা সংশোধন করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনও আলোকপাত করতে পারেননি। ফরাক্কার বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সুনীল কর্মকারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক স্তরে অনুসন্ধান করা হবে। তিনি জানান, ‘ওঁকে নতুন ভোটার পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এই কাজে জড়িত সরকারি কর্মীদের শো কজ করা হবে।’