আপনার স্তন কি আসল? আপনি কি বাচ্চার জন্ম দিতে পারবেন? শিক্ষিকাকে ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করা হয় এমন প্রশ্ন

0
572

শিক্ষকতার চাকরির জন্য ইন্টারভিউতে ৩০ বছর বয়সী সুচিত্রা দে – কে এমন কিছু প্রশ্ন করা হয়, যা শুনলে যে কোনও মহিলা লজ্জা পাবেন। সুচিত্রার সাথে এই ঘটনা একবার হয়নি, যতবারই তিনি ইন্টারভিউ দিতে গেছেন ততবারই এরকম অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। তার যোগ্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন করা বাদ দিয়ে তার গোপনাঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার স্তন নিয়ে, তার পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে এমনকি তিনি বাচ্চার জন্ম দিতে পারবেন কিনা সেসব নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সুচিত্রা সম্প্রতি তার ইন্টারভিউয়ের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেটা শুনলেই আপনি বুঝতে পারবেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বাদ দিয়ে, তাকে বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গ এবং অসুবিধা সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়।

ইন্টারভিউতে প্রশ্ন করা হয় স্তন নিয়ে

Suchitra Dey’s Facebook

সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট সার্জারি (লিঙ্গ পরিবর্তন) করার পর সুচিত্রা নিজের জন্য চাকরি খুঁজছিলেন এবং বিভিন্ন চাকরির ইন্টারভিউতে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় অদ্ভুত সব প্রশ্ন। তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার পরিবর্তে তার স্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তার স্তনযুগল কি আসল? এরকম উদ্ভট প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া সুচিত্রার ডাবল M.A. রয়েছে (ভূগোল এবং ইংরাজি) এবং তার বি.এড. ডিগ্রিও রয়েছে। শিক্ষকতার ১০ বছরের অভিজ্ঞতাও রয়েছে সুচিত্রার, কিন্তু সেসব ব্যাপারে প্রশ্ন না করে তাকে প্রশ্ন করা হয় তার গোপনাঙ্গের ব্যাপারে।

ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করা হয় – আপনি কি বাচ্চার জন্ম দিতে পারবেন?

Suchitra Dey’s Facebook

আসলে সুচিত্রা ২০১৭ তে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের সার্জারি করান। লিঙ্গ পরিবর্তন করার পর তিনি হিরণ্ময় দে থেকে সুচিত্রা দে হয়ে যান। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী সুচিত্রা বলেন, লোকজন তার যোগ্যতা দেখার বদলে শুধু দেখত কিভাবে একটা ছেলে একটা মেয়েতে রুপান্তরিত হল। তাকে জিজ্ঞেস করা হত সে কি বাচ্চার জন্ম দিতে পারবে? তার সমস্ত রেজাল্টেই ছেলে অবস্থায় ছবি রয়েছে, তাই তার ছেলেদের পোশাক পরা উচিৎ।

তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে লোকজনের চিন্তাধারা

Suchitra Dey’s Facebook

সুচিত্রা এমআরএস সার্জারি করার পর ঠাকুরপুকুরের সেই স্কুলেই পড়াতে শুরু করেন যেখানে তিনি আগেও পড়াতেন। কিন্তু সে চাকরি পরিবর্তন করার কথা ভাবে, তাই সে কলকাতা শহরের বড় বড় স্কুলগুলিতে ইন্টারভিউ দেওয়া শুরু করে, কিন্তু সেইসব ইন্টারভিউয়ের স্মৃতি অত্যন্ত ভয়ানক ছিল। ছেলে থেকে মেয়েতে রুপান্তরিত হওয়ার কারণে লোকজন তাকে বাঁকা নজরে দেখত।

Suchitra Dey’s Facebook

সুচিত্রা বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে সাধারণ লোকজনের চিন্তা-ভাবনা সত্যিই হাস্যকর। একটা বড় স্কুলের ইন্টারভিউয়ের সময় সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল বলেন, তার সমস্ত রেজাল্টেই পুরুষ থাকাকালীন সময়ের ছবি রয়েছে, তাই তার পুরুষের পোশাক পরা উচিৎ।

মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন

Suchitra Dey’s Facebook

সুচিত্রা এইসব অপমান ও তিরষ্কারের শিকার হয়ে গত ১১ই জুন পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং বলেন সাধারণ মানুষ ট্রান্সজেন্ডারদের সাথে কিরকম ব্যবহার করে। সুচিত্রা বলেন, তিনি আর অপমান সহ্য করতে পারছিলেন না, তাই বাধ্য হয়ে তিনি কলকাতার একটি বড় স্কুলে জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন। সুচিত্রা বলেন, আমার মতো শিক্ষিতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের যদি এরকম দশা হয় তাহলে যারা নিরক্ষর তাদের কি হবে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে দেওয়া হয় নির্দেশ

Suchitra Dey’s Facebook

২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ট্র্যান্সজেন্ডারদের ‘থার্ড জেন্ডার’ বা তৃতীয় লিঙ্গের স্বিকৃতি দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ট্র্যান্সজেন্ডাররাও যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ীই তারা কাজ করবেন। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও ট্র্যান্সজেন্ডারদের বাঁকা নজরেই দেখা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here