ট্রেনে দেখা হওয়া প্রেমিকার খোঁজ পেতে ৪০০০ পোস্টার লাগালেন কলকাতার যুবক

0
3593

গল্পটা পড়ে হয়তো আপনাদের ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়ে লে জায়েঙ্গে’র শাহরুখ আর কাজলের কথা মনে পড়তেই পারে। কিন্তু বাস্তবেও এরকমই এক ঘটনা ঘটিয়েছেন কলকাতার এক যুবক। চলন্ত ট্রেনে একবার দেখা, আর তাতেই মনের কোণে দাগ কেটেছেন এক তরুণী। কিন্তু মুখ ফুটে সে কথা বলতে পারেননি যুবক। সেই তরুণীর খোঁজে রোজ একবার ট্রেনে ওঠেন ওই যুবক, যদি একবার দেখা হয়ে যায়! এখানেই থেমে থাকেননি, নিজের ছবি দিয়ে প্রায় ৪ হাজার পোস্টারও সাঁটিয়েছেন কলকাতার ওই প্রেমিক !

দক্ষিণ কলকাতার জোকা অঞ্চলের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পোদ্দার (২৯) পেশায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পরিবেশ দফতরের কর্মী। গত ২৩ জুলাই বীরভূম জেলার তারাপীঠ থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন বিশ্বজিৎ। প্রথমে তারাপীঠ থেকে বর্ধমান লোকাল ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনের কামরায় ঠিক উল্টো দিকের আসনে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন এক তরুণী। তরুণীটিকে এক দেখাতেই মনে ধরে বিশ্বজিতের। মেয়েটি যে খুব সুন্দরী তা নয়, তবু বারে বারেই চোখ পড়ছিল তার ওপর।

তারাপীঠ থেকে বর্ধমান পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টার পথ এভাবেই আসেন বিশ্বজিৎ। এরপর বর্ধমান স্টেশনে নেমে ট্রেন পাল্টে হাওড়াগামী ট্রেন ধরেন এবং ট্রেনে উঠে নিজের আসনে বসেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ওই ট্রেনেও তার উল্টো দিকের আসনে বসে ওই তরুণীর পরিবার। স্বাভাবিকভাবেই গল্পেও নতুন মোড় নেয়।

বিশ্বজিৎ এবার একটু সাহস করেই ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করেন। একসময় নিজের ফোন নম্বর ওই তরুণীকে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু বাবা-মা সঙ্গে থাকায় তা আর হয়ে ওঠেনি। তিনিও ওই তরুণীর ফোন নম্বর চেয়েছিলেন। কোন্নগর প্লাটফরমে নামার পর বাবা-মার নজর এড়িয়ে নম্বর বলেছিলেন কিন্তু তা ভালো করে বুঝতে পারেননি বিশ্বজিৎ। এ ঘটনার পর থেকেই ওই স্বপ্নের সুন্দরীকে আর ভুলতে পারছেন না বিশ্বজিৎ।

পোস্টারের বড় বড় অক্ষরে লেখা হয় ‘কোন্নগরের কনে’, আর নিচে বিশ্বজিতের ফোন নম্বর। এরপর তা কোন্নগর (কোন্নগর-হিন্দমোটার-উত্তরপাড়া-বালি) থেকে বালি পর্যন্ত চারটি রেলস্টেশনে সেই পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বপ্নের ওই সুন্দরীকে উদ্দেশ্য করে বিশ্বজিতের ওই পোস্টারে এও লেখা রয়েছেÍ ‘চিনতে পেরেছো তো, সেদিন দেখা হয়েছিল ট্রেনে, আই উইল বি ওয়েটিং ফর ইউ…’। যাতে ওই তরুণীও একবার দেখলেই চিনতে পারেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তরুণীকে খুঁজে পেতে বন্ধুদের পরামর্শে সেই ট্রেনের গল্প নিয়ে ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি করেন বিশ্বজিৎ। এরপর ১৪ আগস্ট তা ইউটিউবে আপলোডও করে দেওয়া হয়।

বিশ্বজিৎ এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমার তাকে অপমান কোনোরকম ইচ্ছা নেই বা ওকে কোনোওভাবে বিপদে ফেলতে চাই না। আমি শুধু তাকে জানাতে চাই, আমি তাকে খুঁজছি আর যদি তার ইচ্ছা থাকে তাহলে ও আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারে, তাই এই ব্যবস্থা করেছি।”

বিশ্বজিৎ আরও বলেন, “প্রথমে তারাপীঠ থেকে ট্রেনে আসার সময় মেয়েটি আমাকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি তবে বর্ধমানে নেমে যখন ট্রেন চেঞ্জ করে লোকাল ট্রেনে উঠলাম তখন মেয়েটি আমার দিকে মাঝেমধ্যে তাকাচ্ছিল আর হাসছিল। কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছিল, ওরা কোন্নগরেই থাকে যদিও দু-একবার বালির নামও উল্লেখ করেছিল। এরপর যখন তারা কোন্নগর স্টেশনে নামতে উদ্যত হয়, তখন আমি ঈশারা করে মেয়েটির থেকে ফোন নম্বর চাই, কিন্তু মেয়েটি বাবা-মার সাথে থাকায় শুধু ঠোঁটের ঈশারায় নম্বর বলেছিল, যেটা আমি বুঝতে পারিনি।”

সুতরাং বন্ধুরা তোমরাও পারলে এই আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিও যদি বিশ্বজিতের প্রেমিকার কাছে খবরটা কোনওভাবে পৌঁছে যায়। আশা রাখি বিশ্বজিত তার মনের মানুষকে ঠিকই খুঁজে পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here