“দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ” – রেল প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর, প্রতিবাদের নামে রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা যাবে না

0
805

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে গোটা দেশের মতো এরাজ্যেও বিক্ষোভের আগুন জ্বলেছে। ট্রেনে বাসে আগুন লেগেছে। অবরোধে নাকাল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। মুর্শিদাবাদে একাধিক ট্রেন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার ক্রম এখন অনেকটাই কমে এসেছে। আর ঠিক তখনই ভয়ংকর এক নির্দেশের কথা শোনালেন রেল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সুরেশ অঙ্গদি। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করতে এলে ঘটনাস্থলেই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জামিয়া মিলিয়ার আশান্তির নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ ট্যুইটে তিনি লেখেন যে বিতর্ক, আলোচনা গণতন্ত্রের এক অঙ্গ৷ তবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা সাধারণ জনজীবন নষ্ট একেবারেই কাম্য নয়৷ প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্ত্যবের পরই রেল প্রতিমন্ত্রী গুলি করার কথায় উত্তেজনা আরও কিছুটা বেড়েছে৷

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি, কেউ রেলের সম্পত্তি নষ্ট করতে এলেই গুলি চালান। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেই আমি এই নির্দেশ দিয়েছি।’ নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কথা উল্লেখ করেছেন সুরেশ অঙ্গাদি৷ তিনি বলেন যেভাবে বল্লবভাই নিজামের হায়দরাবাদের দখল নিয়েছিলেন, তেমন সাহসিকতার সঙ্গে যে কোনও প্রতিবাদের বিরোধিতা করা হবে৷

তাঁর সংযোজন, ‘এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বে রেল লোকসানে চলছে। সেখানে ১৩ লাখ কর্মচারী মানুষকে ভালো পরিষেবা দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিরোধীরা সমাজবিরোধীদের দিয়ে এই কাজগুলো করিয়ে সেগুলি সমর্থনও করছেন।’

এদিন অবশ্য রেলের ক্ষয়ক্ষতি নিজের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, ‘পূর্ব রেলের ক্ষতির পরিমান ২৫০ কোটি টাকা। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ক্ষতি ১৬ কোটি টাকা। আর কত ক্ষতি হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হবেন ? রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙা ওনার সংস্কৃতি। যারা দেশ ভেঙেছিল, তারা বাংলা ভাঙছে এবার।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গুলি করার এই নির্দেশের পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দিকেদিকে। অনেকেরই প্রশ্ন, একজন রেলপ্রতিমন্ত্রী কি এমন নির্দেশ দিতে পারেন? গুলি চালালে যদি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেই দায়িত্ব কি রেল নেবে? স্বাভাবিকভাবেই রেল প্রতিমন্ত্রীর কথায় এর কোনও সদুত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি।