জামাইষষ্ঠীর সঙ্গে আসলে জামাইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই, জানুন আসল কথা

0
581

জানেন কী, জামাইষষ্ঠীর তাৎপর্য আসলে কী? এই অনুষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে মেয়েদের মঙ্গল কামনার অনুষ্ঠান। ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় সংস্কার ছিল কন্যা যতদিন না পুত্রবতী হয় ততদিন কন্যার পিতা বা মাতা কন্যাগৃহে পদার্পণ করবেন না। এই ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিল সন্তানধারণে সমস্যা বা সন্তান মৃ’ত্যুর (শিশুমৃ’ত্যু) ফলে কন্যার পিতামাতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত কন্যার বাড়ি যাওয়ার জন্য।

সেক্ষেত্রে বিবাহিত কন্যার মুখদর্শন কীভাবে ঘটে? তাই সমাজের বিধানদাতা জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন জামাই ষষ্ঠী হিসাবে। যেখানে মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে সমাদর করা হবে ও কন্যার মুখ দর্শন করা যাবে।

আর সেই সঙ্গে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে খুশি করা যাতে কন্যা শীঘ্র পুত্রমুখ দর্শন করতে পারে। বর্তমানে অবশ্য এই সংস্কার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কন্যার পিতামাতা অথবা যে ব্যক্তি কন্যা সম্প্রদান করবেন তিনি এক বৎসর কন্যার বাড়ি যাবেন না বা গেলেও কন্যার বাড়ির অন্নগ্রহণ করবেন না।

যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এই সংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় না। সংস্কার যাই হোক না কেন, মেয়ে জামাইকে ডেকে এনে সমাদর করা ও সেই সঙ্গে কন্যা যাতে সন্তানবতী হয় সেই লক্ষ্যে ‘মা ষষ্ঠীকে’ জুড়ে দিয়ে উৎসবের নামকরণ হল ‘জামাইষষ্ঠী’৷

আর কথায় বলে, ”যম-জামাই-ভাগ্না, তিন নয় আপনা।” তো সেই জামাই ‘যার হাতে কিনা নিজের আদরের মেয়ের সারা জীবনের ভাল-মন্দের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে’ তাকে তো খাইয়ে-দাইয়ে তৃপ্ত করতেই হবে। তাই জামাই আদরের এই বিপুল আয়োজন।

যদিও এ নেহাতই তদানিন্তন সময়ের মানসিকতা, আজকের দিনের আধুনিক সময়ে জামাইকে নেহাত ‘স্নেহ’ করেই আপ্যায়ন করেন শ্বশুর শাশুড়ি একথাও সত্যি। যাক তাহলে এটা জানা গেল তো যে, ‘জামাই ষষ্ঠী’ আসলে জামাইদের হাইজ্যাক করা অনুষ্ঠান, আসল কিন্তু সেই মেয়েই।