জন্ম বার এবং মাস অনুসারে কোন দেব-দেবীর পুজো করা উচিৎ, জানেন কি?

0
959

হিন্দু ধর্মের উপর লেখা একাধিক প্রাচীন পুঁথি অনুসারে অন্ধের মতো ভগবানের আরাধনা করলে কোনও ফলই মেলে না। উল্টে সময় নষ্ট হয় বইকি। তাই তো কোন বার এবং কোন মাসে জন্মেছেন, তা জেনে নিয়ে সেই মতো ঠাকুরের আরাধনা করা উচিত। কারণ এমনটা করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ তো হবেই, সেই সঙ্গে কোনও ধরনের বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। একেবারেই ঠিক শুনেছেন, ইষ্টদেবতা নির্বাচনের সময় আপনি কোন রাশির জাতক বা জাতিকা সে বিষয়টি যেমন বিবেচনা করা উচিত, তেমনি কোন দিন এবং কোন মাসে জন্মেছেন সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এমনটা করলে মনের মতো ফল মিলতে সময় লাগে না। তাই তো বলি আর অপেক্ষা না করে বাবা-মার থেকে জেনে নিন কোন দিন জন্মেছেন এবং সেই মতো জেনে নিন কোন দেবতার পুজো করা উচিত!

১. জানুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে যারা জন্মেছেন:

শাস্ত্র মতে যারা এই দুই মাসে জন্মেছেন তাদের শিব ঠাকুর বা গণেশ ঠাকুরের পুজো করা উচিত। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই নিয়মটি যদি মেনে চলা যায়, তাহলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে জীবনে চলার পথে আসা যে কোনও বাঁধার পাহাড় সরে যেতেও সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, কালো যাদুর প্রকোপ থেকেও রক্ষা মেলে।

২. ফেবরুয়ারি:

এই মাসে জন্ম যাদের, তাদের দেবাদিদেবের স্বরণাপন্ন হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে নিয়মিত সকাল বেলা স্নান সেরে “ওম নমঃ শিবায়”, এই মন্ত্রটি পাঠ করতে করতে যদি ভগবান শিবের আরধনা করতে পারেন, তাহলে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদ আপনার উপর থাকার কারণে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করার পাশাপাশি পকেট ভর্তি টাকার মালিক হয়ে উঠতেও দেরি লাগে না।

৩. মার্চ এবং ডিসেম্বর:

বেজায় গরম এবং প্রচন্ড ঠান্ডায়, মানে এই দুই মাসে যাদের জন্ম তাদের ইষ্টদেবতা হওয়া উচিত ভগবান বিষ্ণু। শাস্ত্র মতে এই নিয়মটি যদি মানতে পারেন, তাহলে জীবনে কোনও দিন কাঁদতে হবে না! তাই তো বলি, অফুরন্ত খুশির সন্ধান যদি পেতে চান, তাহলে শ্রী বিষ্ণুর নাম নিতে ভুলবেন না যেন!

৪. এপ্রিল, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর:

কী মশাই, এই তিন মাসের কোনও একটা সময়ে কি এই পৃথিবীতে এসেছেন? তাহলে কিন্তু প্রতিদিন লাডডু বা মোদক বানাতে হবে আপনাকে। কেন এমন কথা বলছি তাই ভাবছেন তো? আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে এই সময়ে যাদের জন্ম তাদের নিয়মিত গণেশ ঠাকুরের আরাধনা করা উচিত। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে যে গণেশ ঠাকুর হলেন সমৃদ্ধির দেবতা। তাই তো বাপ্পার পুজো করলে সুখ-সমৃদ্ধির ঝাঁপি কখনও খালি হয় না। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটে চোখে পরার মতো।

৫. মে এবং জুন:

হিন্দু ধর্মের উপর লেখা বেশ কিছু বই অনুসারে এই দুই মাসে যাদের জন্ম, তাদের মা দুর্গা বা তাঁর যে কোনও অবতারের পুজো করা উচিত। আপনার যদি মন চায়, তাহলে মা কালিরও আরাধনা করতে পারেন। প্রসঙ্গত, মা এই ধরাধামে এসেছিলেন খারাপ শক্তিকে বিনাশ করতে। তাই নিয়মিত মায়ের নাম নিলে আপনার অন্দরে জায়গা করে নেওয়া খারাপ শক্তি দূরে পালাবে। ফলে জীবনে আনন্দের অভাব কখনও হবে না।

৬. জুলাই এবং অগাষ্ট:

এই মাসে যারা জন্ম নিয়েছেন তাদের আরাধ্য দেবতা হওয়া উচিত ভাগবান বিষ্ণু এবং গণেশ ঠাকুর। এমনটা করলেই কিন্তু বেশি উপকার পাওয়া যায়। তাই অন্যপথে যদি গিয়ে থাকেন, তাহলে পথ বদলে ফেলতে ভুলবেন না যেন!

এখন প্রশ্ন হল, জন্ম বার অনুসারে কোন কোন দেবকার পুজো করলে বেশি ফল মেলে জানেন কি?

১. রবিবার:

এই দিনে জন্ম হলে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করতে হবে। তবে মন চাইলে ভগবান বিষ্ণুর যে কোনও অবতার, যেমন শ্রী কৃষ্ণ অথবা ভগবান রামেরও পুজো করতে পারেন।

২. সোমবার:

এই দিনটি হল দেবাদিদেবের। তাই যদি সোমবার জন্ম নিয়ে থাকেন, তাহলে ভগবান শিবের আরাধনা করতে ভুলবেন না যেন!

৩. মঙ্গলবার:

এই দিন আরাধনা করতে হবে হনুমান জির। এমনটা করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে দেখবেন সময় লাগবে না।

৪. বুধবার:

এই দিন যদি আপনি জন্ম গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে আপনার ঠাকুর ঘরে ভগবান গণেশকে প্রতিষ্টিত করতেই হবে। কারণ এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বুধবার বাপ্পার আরাধনা করলে দারুন ফল মেলে।

৫. বৃহস্পতিবার:

সোমবারের মতো সপ্তাহের এই দিনটিও ভগবান শিবের। তাই তো বৃহস্পতিবার যারা জন্ম গ্রহণ করেছেন, তারা যদি নিয়মিত সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেন, তাহলে দেখবেন মনের সব ইচ্ছা পূরণ হতে সময় লাগবে না।

৬. শুক্রবার:

যদি সপ্তাহের এই দিনে জন্ম গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে মা দুর্গার আরাধনা করতে হবে। ইচ্ছা হলে মায়ের যে কোনও রূপেরও পুজো করতে পারেন।

৭. শনিবার:

সপ্তাহান্তে যদি জন্ম নিয়ে থাকেন, তাহলে হনুমান জি অথবা কাল ভৈরবের পুজো করা মাস্ট।

Courtesy : Boldsky

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here