ভারত যখন লকডাউন শিথিলের পথে তখন পুনরায় লকডাউন করতে হল চিনে, স্কুল বন্ধ করতে হল ফ্রান্সে

0
306

চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় প্রায় ১০ কোটি মানুষের বসবাস। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন করো’না আ’ক্রান্ত রো’গীর সন্ধান পাওয়ার পর ফের লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে এই অঞ্চলকে। ব্লুমবার্গ নিউজ এই তথ্য সম্বলিত খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, চীনের জিলিন প্রদেশে ৩৪ জন নতুন রো’গী শনাক্ত হয়েছে। মা’রা গেছেন ১ জন। এরপর ১০.৮ কোটি মানুষ অধ্যুষিত অঞ্চলটিতে ফের লকডাউন আরোপ করা হয়।

খবরে আরও বলা হয়, শনিবার ৩ জন রো’গী পাওয়া গেছে, রোববার ২ জন। মোট জিলিন প্রদেশে ১২৭ জন রো’গী আছেন এই মুহূর্তে। মা’রা গেছেন ২ জন। এই ভাই’রাস প্রথম দেখা যায় চীনের হুবেই প্রদেশে।

সেখানে এখন পর্যন্ত ৬৮১৩৪ জন রো’গী রয়েছে। জিলিন প্রদেশে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো গাড়ি ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছে না। স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। শুলান শহরে কর্মকর্তারা সবচেয়ে কড়া বি’ধিনি’ষেধ আরোপ করেছেন। সেখানেই আ’ক্রান্ত বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রো’গী যেখানে পাওয়া গেছে, সেসব স্থানে পুরো বাড়িঘরই বন্ধ রাখা হচ্ছে। শুধু সেখানকার পরিবারের একজন সদস্যকে প্রতি দুই দিন পর দুই ঘণ্টার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে রো’গের সং’ক্রমণ দেখা যাওয়ার পর শুলানে শাসক দল কম্যুনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বলা হয়, ৫ জন সরকারি কর্মকর্তাকেও ছাটাই করা হয়েছে। এটি স্পষ্ট নয় যে নতুন করে এই রো’গ কীভাবে ছড়ালো। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া থেকে ফেরত আসা মানুষজনের কারণেও রো’গ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে রাশিয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রো’গীর বসবাস। সেখানে ২ লাখ ৯০ হাজার রো’গীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

জানুয়ারিতে মূল শহর উহানে কড়াকড়িভাবে লকডাউন আরোপ করার পর সেখানে সংক্র’মণ থামানো সম্ভব হয়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন লকডাউন তাড়াতাড়ি প্রত্যাহার করা হলে ভাই’রাস পুনরায় দেখা যেতে পারে। গত সপ্তাহে উহানে নতুন করে ৬ রো’গীর সন্ধান পাওয়া যায়। এর আগে ৩৫ দিন ধরে সেখানে কোনো রো’গী পাওয়া যায়নি। তবে শহরের কর্তৃপক্ষ উহানে নতুন করে লকডাউন আরোপ করেনি।

তারা এই মুহূর্তে শহরের ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার সকলকেই পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রসঙ্গত, আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত বলছে, দেশটিতে ১৪ লাখ মানুষ আ’ক্রান্ত হয়েছে। মা’রা গেছে প্রায় ৯০ হাজার জন।

করো’না ভাই’রাস ছড়িয়ে যাওয়ার জেরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল ফ্রান্স সরকার। তবে সপ্তাহখানেক আগে নতুন করে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এরইমধ্যে নামকরা সাতটি বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, করো’না ভাই’রাসে শিশুরা আ’ক্রান্ত হওয়ার জেরে বিদ্যালয়গুলো আবারো বন্ধ করে দেওয়া হলো।

এর আগে গত সপ্তাহে ফ্রান্সের ৪০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন ভাবে খুলে দেওয়া হয়। সে দেশের শিক্ষামন্ত্রী জঁ মাইকেল ব্লাঙ্কার বলেছেন, গত সোমবার ৭০ জন শিশু আ’ক্রান্ত হয়েছে। বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পর তারা ক্লাসে এসেছিল। ফ্রান্সের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করো’না আ’ক্রান্তের জেরে নামকরা সাতটি বিদ্যালয় আবারো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র –