করো’না বিরুদ্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়তে প্রাণ যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের!

0
60

গোটা বিশ্বে করো’না এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণ কাড়লেও ভাই’রাসের প্রকোপ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ। আর এর থেকেই একটা ধারণা ক্রমশ বদ্ধমূল হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন, ধীরে ধীরে করো’না ভাই’রাসের বিরু’দ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে মানুষের শরীরে। অন্যান্য ফ্লু বা ভাই’রাল সং’ক্রমণের মতো এ ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয়তো এমনিতেই সেরে উঠবে মানুষ!

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO জানিয়েছে, এই ধারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক! তাই করো’নার থেকে বাঁচতে এখনই আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। করো’না ভাই’রাসের ক্ষেত্রে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র ধারণা আদৌ কার্যকর কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

হার্ড ইমিউনিটি কথার মানে কী?

যখন কোনও দেশের বেশির ভাগ মানুষের শরীরে কোনও ভাই’রাস বা ব্যা’ধির বিরু’দ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে তখন ওই ভাই’রাস বা ব্যা’ধির বিস্তার বা সং’ক্রমিত হওয়ার গতি স্বাভাবিক ভাবেই ধীরে ধীরে কমে আসে এবং একটা সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। একেই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বলা হয়। করো’না ভাই’রাসের ক্ষেত্রে এমনটা না-ও হতে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি কতটা বাস্তবসম্মত?

এখনও খোঁজ মেলেনি ভ্যাকসিনের? আবিষ্কার হয়নি কোনও ওষুধ। এই পরিস্থিতিতে বারে বারেই হার্ড ইমিউনিটির কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। খাতায়-কলমে হার্ড ইমিউনিটির দৌলতে করো’নার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। সংক্র’মণের শুরুতে এই হার্ড ইমিউনিটির ভরসাতেই ছিল সুইডেন, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইতালির মতো দেশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি এখনো।

ভারতের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি ‘অবাস্তব’?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মতো দেশে হার্ড ইমিউনিটি বাস্তবসম্মত তো নয়ই, হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্যও নয়। চিকিৎসকদের মতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে, সমাজের অন্তত ৭০% মানুষকে করো’না আ’ক্রান্ত হতে হবে অর্থাৎ ৭০% মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হলে বাকিরাও নিরাপদ।

করো’না মোকাবিলায় হার্ড ইমিউনিটির ভরসায় বসে থাকেনি। দেশে সংক্রমণ শুরু হতে না হতেই লকডাউন জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আজীবন লকডাউন বাস্তবসম্মত নয়। তাই কখনও না কখনও এই লকডাউন তুলতেই হবে।

ভারতের জনসংখ্যা ১৩৫ কোটিরও বেশি। খাতায় কলমে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে হলে দেশের ৭০% মানুষকে করো’না আ’ক্রান্ত হতে হবে অর্থাৎ কিনা দেশের প্রায় ৯৫ কোটি মানুষের মধ্যে সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে হবে। মোট আ’ক্রান্তের ১০ শতাংশকে অর্থাৎ কিনা দেশের ৯৫০ লক্ষ মানুষকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার পরিকাঠামো নেই আমাদের দেশের। মোট আক্রান্তের ১ শতাংশ মানুষ মারা গেলেও, প্রায় ১ কোটি কাছাকাছি প্রাণহানি হবে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র –