ভারতের কয়েকটি ভূতুড়ে রেল স্টেশন!

0
406

সাধারণত স্টেশনগুলো সবসময় লোকে লোকারণ্য থাকে। আর স্টেশনটা যদি রেল স্টেশন হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু জানেন কি, ভারতের এমন অনেক রেল স্টেশন আছে যেখানে যাত্রীরা প্রায় সময় নানা অদ্ভুত সব ভূতুড়ে উপদ্রবের সম্মুখীন হন। কথাটি শুনে আষাড়ে গল্প মনে হলেও ভারতে সত্যিই এমন অনেক রেল স্টেশন আছে যেখানে ভূত চলাচল করে বলে ধারণা করেন স্থানীয়রা। আজ এমন কয়েকটি স্টেশনের কথা বলবো যেখানে যাত্রীদের অভিযোগ সত্যিই ভূত আছে!

রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন, কলকাতা –

ভারতে ভুতুড়ে স্টেশনগুলোর মধ্যে একটি কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন। এই স্টেশন কয়েকটি আত্মহত্যা ঘটনার সাক্ষী। অনেকে এই স্টেশনকে আত্মহত্যার স্টেশনও বলে। বলা হয় যে, যারা এখানে আত্মহত্যা করেছে তাদের আত্মা এখানে ঘোরাফেরা করেন এমনকি অনেক যাত্রীই এখানে রাতে বেলায় অদ্ভুত কান্নার আওয়াজ ও অদৃশ্য ছায়ামূর্তি দেখতে পান।

নৈনী জংশন, উত্তর প্রদেশ –

উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে অবস্থিত ‘নৈনী জংশন’ রেলওয়ে স্টেশন ভূতীয়া নামেও পরিচিত। রেলওয়ে স্টেশনের কাছেই নৈনী জেল রয়েছে। দেশের স্বাধীনতায় সহায়ক মুক্তিযোদ্ধা অনেককেই এই কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল, যাদের এখানে বিভিন্ন ধরণের ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। নির্যাতনের কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন। কথিত আছে যে, একই মুক্তিযোদ্ধার আত্মারা এই রেলস্টেশনে ঘুরে বেড়ায়।

বারোগ রেলওয়ে স্টেশন, হিমাচল প্রদেশ –

হিমাচল প্রদেশের সোলান জেলায় অবস্থিত বারোগ রেলওয়ে স্টেশনও দেশের অন্যতম ভয়ঙ্কর রেলওয়ে স্টেশন। কালকা-সিমলা রেল রুটে আসা এই ছোট্ট রেলস্টেশনটি দেখতে যেমন সুন্দর,তেমন ততই ভয়ঙ্কর এবং ভুতুড়ে। এই রেলস্টেশনের ঠিক পাশেই একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে, একে বলা হয় বারোগ সুড়ঙ্গ। আসলে, এই টানেলটি একজন ব্রিটিশ প্রকৌশলী কর্নেল বারোগ তৈরি করেছিলেন। পরে তিনি এখানেই আত্মহত্যা করেন। কথিত আছে যে, কর্নেল বড়োগের আত্মা বারোগ টানেলে ঘুরে বেড়ায়।

মুলুন্দ রেলস্টেশন, মুম্বাই –

মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই এ অবস্থিত মুলুন্ড রেলওয়ে স্টেশনটি দেশের সবচেয়ে ভুতুড়ে রেলস্টেশনগুলির মধ্যে গণ্য করা হয়। এই রেলস্টেশনের যাত্রী এবং আশেপাশের লোকেরা দাবি করেন যে, তারা এখানে চিৎকার এবং কান্নার শব্দ শুনতে পান,এর পাশাপাশি কান্নার শব্দও শুনতে পান। তারা বলেছিলেন যে, এই আওয়াজ গুলি সেই লোকদের যারা এই রেলস্টেশনের লাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন।

ডম্বিবিলি রেল স্টেশন, মহারাষ্ট –

ভারতের মহারাষ্ট্রের আরেকটি ভয়ঙ্কর রেল স্টেশনের নাম ডম্বিভিলি রেল স্টেশন। প্রায়ই গভীর রাতে এ স্টেশনে এক মহিলাকে কাঁদতে দেখা যায়। এই সময় কোন যাত্রী তার কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তিনি বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু ট্রেন মিস করার কারণে যেতে পারেননি। কিন্তু অবাক করার বিষয় হল যে তার সাথে কথা বলে শুধু সেই মহিলাটিকে দেখতে পায় অন্য কোন ব্যক্তি দেখতে পায় না।

বেগুনকোদার রেলস্টেশন, পুরুলিয়া –

বেগুনকদার রেলস্টেশনটির নিজস্ব একটি গল্প রয়েছে।এটি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। এটি দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রেলওয়ে স্টেশনগুলির মধ্যে গণ্য করা হয়। বেগুনকোদার রেল স্টেশন সম্পর্কে বলা হয় যে এখানে আসা যাত্রীরা সাদা শাড়ি পরা মহিলা ভূতকে দেখেছেন। এগুলি ছাড়াও এই রেলস্টেশনের সাথে আরও অনেক ভুতুড়ে গল্প যুক্ত রয়েছে। স্টেশন সম্পর্কিত এই ভুতুড়ে দাবিগুলির কারণে, এটি ৪২ বছর ধরে বন্ধ ছিল। তবে ২০০৯ সালে এটি আবার খোলা হয়েছিল।

লুধিয়ানা স্টেশন, পাঞ্জাব –

মনে করা হয় যে রিজার্ভেশন কাউন্টারের পাশে একটি ছোট ঘরে সুভাষ নামে একজন অফিশিয়ালের আত্মা তাড়া করে বেড়ায়, যিনি ২০০৪ সালে এই ঘরেই মারা যান। এই ঘরে বসা সবাই কিছু না কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটতে দেখেছেন।

চিত্তুর রেলস্টেশন, অন্ধ্র প্রদেশ –

দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রেলওয়ে স্টেশনগুলির তালিকায় অন্ধ্র প্রদেশের চিত্তুর জেলায় অবস্থিত চিত্তুর রেলওয়ে স্টেশনটির নামও রয়েছে। স্টেশনের আশেপাশের লোকেরা বলছেন যে, একবার সিআরপিএফ জওয়ান হরি সিং এই স্টেশনে নামেন। ট্রেন থেকে নামার পরে তাকে আরপিএফ এবং টিটিই একসাথে এত মারধর করেছিল যে তিনি সেখানেই মারা যান। সেই থেকে সিআরপিএফ জওয়ান হরি সিংয়ের আত্মা কেবল ন্যায়বিচারের জন্য এই রেলস্টেশনে ঘোরাঘুরি করছে।

সূত্র – ইন্টারনেট