খাওয়াতে পারবেনা ২০০ জনকে, নিমন্ত্রণ করেছে ২০০০ লোককে, বর্ষবরণের রাতে ইকো পার্কে হুলস্থুল কান্ড

0
486

বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ঘিরে ইকোপার্কে তীব্র উত্তেজনা। নিউ ইয়ার পার্টির আয়োজনে ক্ষুব্ধ হয়ে খাবার টেবল উল্টে দেওয়ার অভিযোগ। গত দু’তিন দিন ধরে বেশরম নামে একটি অর্গানাইজার অনলাইন ও অফলাইনে অনুষ্ঠানের পাস বিলি করছিল। বেশরম— বর্ষবরণে রাতের পার্টি। নাচগানের সঙ্গে মিলবে যত খুশি খাবার, ম’দও। দু’জনের জন্য পড়বে ‘মাত্র’ ২ হাজার টাকা। অভিযোগ, আনলিমিটেড খাবার থাকার কথা থাকলেও অনুষ্ঠান শুরুর আধ ঘন্টার মধ্যেই সব খাবার শেষ হয়ে যায়।

ডিসেম্বর মাসের গোড়া থেকেই বিভিন্ন অ্যাপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন বেরোয়, ৩১ ডিসেম্বর ইকো পার্কের ‘জাপানিস ফরেস্ট’-এ বর্ষবরণের পার্টির। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে এবং ইকো পার্কের কাউন্টার থেকেও টিকিট বিক্রি করে আয়োজক সংস্থা। ওই পার্টির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বেশরম’।

বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, খাবার এবং ম’দ— সমস্তই পাওয়া যাবে ‘অপর্যাপ্ত’। দু’ হাজার তো দূর অস্ত, দুশ লোকেরও আয়োজন ছিল না বলে অভিযোগ। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যে যার নিজের মতো খাবার নিয়ে খেতে শুরু করে। শুরু হয় ব্যাপক ঠেলাঠেলি। পরে পুলিস পৌছে পরিস্থিতি সামলায়। তবে উদ্যোক্তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পার্টিতে যোগ দিতে আসা লোকজনের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের কোনও পুলিসি অনুমতি ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, থানার একদম কাছে পুলিসের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এমন অনুষ্ঠান চলছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।

তার মধ্যেই বেপাত্তা হয়ে যান পার্টির আয়োজকরা। টিকিটে যে তিন জন আয়োজকের ফোন নম্বর দেওয়া ছিল, সেগুলোও ‘সুইচড অফ’। টাকা দিয়ে পার্টি করতে গিয়ে খাবার-ম’দ না পেয়ে তত ক্ষণে বিক্ষোভ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। তার মধ্যেই আবার একটা অংশ খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে পৌঁছে যান খাবারের জায়গায়। খাবার নিয়ে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। চেয়ার-টেবিল উল্টে, ভাত-বিরিয়ানির হাঁড়ি উল্টে পার্টিতে আসা ‘অতিথি’রা নিজেরাই তখন থার্মোকলের থালায় খাবার নিতে ব্যস্ত। যাঁরা হুড়োহুড়িতে জায়গা করতে না পেয়ে লাইনে পিছিয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের জন্য খাবারের ঝোল ছাড়া কিছু অবশিষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে অনুষ্ঠানের টিকিট বুক হচ্ছিল ‘বুক মাই শো’ এবং ‘পেটিএম’ থেকে অনলাইনে। অফলাইনে অনুষ্ঠানস্থলে এসে সরাসরি টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল। বেশ চড়া দামে অনলাইনে টিকিট কিনেছিলেন অতিথিরা। সেই রাগেই এদিন রাতে তারা খাবারের টেবিল উল্টে দেয়। নিজেদের ইচ্ছেমতো খাবার নিজেই তুলে খেতে শুরু করে অনেকেই।

সূত্র –