প্রায় দেড় লাখ টাকার সোনার গয়না সবজির সাথে খেয়ে নিল ষাঁড়! গোবরের অপেক্ষায় গৃহস্থ

0
334

আগের দিন রাতে ছিল বিয়ের অনুষ্ঠান ফিরতে দেরি হওয়ায় আর খোলা হয়নি গহনা গুলো তাই পরের দিন রান্না করতে গিয়ে খুলে রান্নাঘরে একটি পাত্রে গহনাগুলো রেখেছিলেন বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও পুত্রবধূ। পরে ভুল করে সেই পাত্রেই সবজির উচ্ছিষ্ট ফেলা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খেয়াল হয় ওই মহিলার। তবে ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। কাটা সবজির আবর্জনার সঙ্গে ওই সোনার গয়নাও খেয়ে ফেলেছে একটি ষাঁড়! অদ্ভুত এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার শীর্ষ গ্রামে।

ওই পরিবারের প্রবীণ সদস্য জনকরাজ জানান, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ সবজি কাটতে বসে কোনও কারণে নিজেদের কিছু গয়না গা থেকে খুলে হাতের কাছে থাকা একটি পাত্রে রাখেন। কথা বলতে বলতে ওই গয়নার পাত্রের উপরেই কাটা সবজির আবর্জনা জমা করতে শুরু করেন দু’জনে। সবজি কাটা শেষ হতেই কাটা সবজির আবর্জনা ধরে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেন।

প্রতীকী ছবি

গয়নার কথা মনে পড়ার পর খুঁজতে গেলে রান্নাঘরের দরজার কাছে একটি কানের দুল পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, স্বর্ণ রাখা পাত্রেই উচ্ছিষ্ট ফেলে তা ষাঁড়টিকে খেতে দেওয়া হয়। স্বর্ণ গিলে খাওয়া বেওয়ারিশ ষাড়টিকে খুঁজতে লেগে যায় পাঁচ ঘণ্টা। ষাড়টিকে খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই সেটিকে প্রচুর পরিমাণে খাইয়ে চলছে পরিবারটি। কারণ ষাঁড়টি মল ত্যাগ করলে গিলে ফেলা স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বেয়ারা ষাঁড়টি গত তিনদিন মলত্যাগই করছে না। এতে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। কখন তার প্রকৃতির ডাক আসবে! আর কখন ‘তারা’ পটাং করে বেরিয়ে আসবে!

ষাঁড়ের মলত‌্যাগের অপেক্ষায় ঘুম ছুটেছে জনকরাজের। কারণ পাড়ার এই ষাঁড় গিলে নিয়েছে তাঁর পরিবারের গয়না। যার ওজন অন্তত ৪০ গ্রাম। হরিয়ানার সিরসার কালানাওয়ালি এলাকায় জনকরাজের স্ত্রী ও পুত্রবধূর গয়না খেয়ে ফেলা ষাঁড়কে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই।

প্রতীকী ছবি

এ ঘটনার পর জেলার লাজপত রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞানের ডিরেক্টর রবিন্দর শর্মা বলেন, ‘আগে এক্স-রে করে দেখতে হবে ষাঁড়ের পেটে স্বর্ণ আছে কি না। তারপর অপারেশন করে তা উদ্ধার করতে হবে।’ রবিন্দর শর্মা আরও বলেন, ‘গোবরের মাধ্যমেও স্বর্ণ উদ্ধার করা যায়, তবে তা জটিল প্রক্রিয়া।’

প্রতীকী ছবি

ষাঁড়টিকে খাবার দেওয়া হচ্ছে ভুড়ি ভুড়ি। দিব্যি খাচ্ছেও সে। মলত্যাগও করছে ষাঁড়টি। তবে কেন যে সোনার গয়না মিলছে না, তা বুঝতেই পারছেন না জনকরাজ। বুধবার সকালেও গোবরের সঙ্গে কোনও গয়না না বেরনোয় হতাশ ওই ব্যক্তি। আপাতত ষাঁড়ের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে বসে রয়েছেন প্রত্যেকেই। কখন যে গোবরের সঙ্গে উদরস্থ করা সোনার গয়না মিলবে, সেই প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন জনকরাজ-সহ তাঁর পরিবারের সকলেই।