গার্লস হোস্টেলে বাঙালি মেয়েরা যে উদ্ভট কাজগুলি করে থাকে!

0
2866

পড়াশোনা হোক, কিংবা কর্মক্ষেত্র—মেয়েরা আজ সর্বত্রই ছেলেদের সমকক্ষ হয়ে উঠেছে। পেশা কিংবা লেখাপড়ার প্রয়োজনে আজকের মেয়েদের অনেক সময়েই নিজেদের আত্মীয়স্বজনের থেকে দূরে অন্য কোনও শহরে গিয়ে থাকতে হয়। সে সময়ে প্রধানত হোস্টেলই হয় তাদের আশ্রয়। গার্লস হোস্টেল বা লেডিজ হোস্টেল মানেই মেয়েদের নিজস্ব জগত। পুরুষদের প্রবেশ সেখানে নি’ষিদ্ধ।

ফলে হোস্টেলের বাইরের দুনিয়ায় যে সমস্ত কাজ মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘নি’ষিদ্ধ’, ‘অশো’ভন’ কিংবা ‘অদ্ভুত’ বলে বিবেচিত হয়, তার অনেকগুলিই বিন্দাস চলতে পারে লেডিজ হোস্টেলের ভিতরে। কী সেই সমস্ত কাজ? হোস্টেলে দীর্ঘ দিন থেকেছেন, এমন কিছু বাঙালি মেয়ে জানালেন সেই প্রশ্নের উত্তর—

১. অন্ত’র্বাস পরে ঘুমনো:

ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে স্বল্প পোশাকে ঘুমনো প্রায় সব সময়েই আরামদায়ক। কিন্তু বাবা-মার সঙ্গে থাকলে স্বল্পবসনা অবস্থায় ঘুমনোর সুযোগ মেয়েরা সাধারণত পায় না। কিন্তু হোস্টেলে তেমনটা করতে বাধা নেই। কাজেই অনেক সময়ে, বিশেষত টায়ার্ড থাকলে, শুধু প্যা’ন্টি আর ব্রা পরেই ঘুমিয়ে পড়ে মেয়েরা।

২. বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা:

হোস্টেলে যে খাবার দেওয়া হয়, অনেক সময়েই তা মুখে তোলার যোগ্য হয় না। কোনও কারণে খেতে একটু রাত হয়ে গেলে, মেলে না কোনও খাবারই। ফলে তখন হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তা-ই খেয়েই মেটাতে হয় খিদে। ডাল-ভাতের সঙ্গে চানাচুর, কিংবা ঝুড়িভাজা দিয়ে রুটি খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে হোস্টেল-নিবাসী অনেক মেয়েরই। আর ম্যাগি তো হোস্টেল-জীবনে খিদের মুহূর্তে প্রায় অনিবার্য সঙ্গী হয়ে থাকে।

৩. বাথরুম নিয়ে ঝগড়া:

হোস্টেল মানেই যত সংখ্যক বাসিন্দা, তার চেয়ে অনেক কম সংখ্যক বাথরুম। কাজেই বাথরুমে যাওয়ার তাড়া থাকলেও সব সময়ে বাথরুম খালি মেলে না। সেই সময়ে যে মেয়ে বাথরুমটি এনগেজ করে রেখেছে, সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে তার উপরেই। তাকে বেশি তাড়া দিলেই শুরু হয় চেঁচামিচি, লেগে যায় ঝগড়া।

৪. দল বেঁধে প’র্ন ফিল্ম দেখা:

ইন্টারনেট, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন আজকের দিনে কার্যত সকলের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছে প’র্ন ফিল্মকে। বাবা-মায়ের সঙ্গে যখন মেয়েরা থাকে, তখন সব সময়ে নিশ্চিন্তে প’র্ন ফিল্ম দেখার সুযোগ মেলে না। বন্ধুদের সঙ্গে বসে চুটিয়ে প’র্নের আনন্দ উপভোগের সুযোগ তো হয় না বললেই চলে। কিন্তু হোস্টেল-জীবনে সেই কাজ করার বাধা নেই কোনও।

৫. অল্পসল্প নে’শা করা:

সমাজ যতই ‘আধুনিক’ হয়ে থাকুক, মেয়েদের মদ খাওয়া বা নে’শা করাকে এখনও মোটেই ভাল চোখে দেখে না সমাজের একটা বড় অংশ। কিন্তু গার্লস হোস্টেলের চার দেওয়ালের অন্দরে মেয়েদের অবাধ স্বাধীনতা। ফলে হোস্টেলের ঘরে মাঝেমধ্যে নে’শা করতে তাদের বাধা নেই কোনও।

৬. মেক-আপ কিট নিয়ে ঝগড়া:

ঘর একটা, ঘরে ড্রেসিং টেবিল একটা, কিন্তু বাসিন্দা হয়তো চারটি মেয়ে। একটি ড্রেসিং টেবিলেই জমা হচ্ছে তাদের মেক-আপের যাবতীয় জিনিসপত্র। ফলে ‘তুই আমার লিপস্টিকটা নিলি কেন?’, ‘মোটেই না, বরং তুই-ই আমার আই লাইনারটা ইউজ করেছিস’।

৭. টাওয়েল পরে ঘুরে বেড়ানো

মেয়েদের হোস্টেল মানে বাইরের লোকজনের অনধিকার অনুপ্রবেশ বন্ধ। তাই স্নানের পর টাওয়েল পরেই দিব্যি ঘুরে বেড়ানো, রুপচর্চা সবই করা যায়।

৮. পাগলের মতো নাচ

নাচতে কে না ভালোবাসে। আর আশেপাশে যদি নিজেদের চেনা বান্ধবী থাকে তাহলে নাচতে আর আপত্তি কিসের। নাচের স্টেপের জন্য আফগান জালেবি, দিলবর দিলবর, শিলা কি জওয়ানি তো রয়েইছে।

৯. ক্রাশ আর বয়ফ্রেন্ডের গল্প

মেয়েদের গল্পের সিংহভাগ জুড়ে থাকে তাদের ক্রাশ এবং বয়ফ্রেন্ডের গল্প। ‘এই জানিস তো আজ কি হয়েছে’ – বলে যে গল্পের সূত্রপাত হয় তা ঘন্টাখানেকের আগে থামার নয়। তবে শ্রোতারাও বেশ আগ্রহী থাকে এইসব গল্প শোনার জন্য।

১০. শুধুমাত্র সেলফি তোলার জন্যই মেকআপ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপিটা অনেকদিন চেঞ্জ করা হয়নি, আজ চেঞ্জ করতেই হবে। কিন্তু আজ বাইরে ঘুরতে যেতে ভালো লাগছে না। তাই অগত্যাই সেলফি তোলার জন্যই বসে মেকআপের আসর।

সুতরাং এসব থেকে বুঝতেই পারছেন, হোস্টেল জীবন শুধুমাত্র ছেলেরা নয়, মেয়েরাও সমান এনজয় করে।

সূত্র – এবেলা