মেয়েটি ছোটো থেকেই শুনতো তার ঠাকুমা কোনো আত্মীয়ের বাড়ি গেছে, শেষ অবধি ঠাকুমার সাথে দেখা হল বৃদ্ধাশ্রমে

0
1824

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক ঠাকুমা এবং তার নাতনিকে। এই ছবিতে রয়েছেন এক বয়স্ক মহিলা এবং তার সাথে স্কুলের ইউনিফর্ম পড়ে রয়েছে একটি ছোটো মেয়ে। আর দুজনকেই এই ছবিতে কাঁদতে দেখা যাচ্ছে। সমাজ সেবিকা এবং নারীদের অধিকারের জন্য লড়াই করা অনিতা চৌহান নামের এক ভদ্রমহিলা এই ছবিটি গত ২১ শে আগস্ট তারিখে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্যুইটারে শেয়ার করেন ।

এটিই ছিল অনিতা চৌহানের ট্যুইট –

অনিতা দেবী এই ছবিটি আপলোড করার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেক লোকজন সেটি শেয়ারও করেন। এই ছবিটি আপলোড করে অনিতা দেবী লিখেছিলেন , “একটি স্কুল সেখানকার পড়ুয়াদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রমে ট্যুরের আয়োজন করেছিল এবং এই মেয়েটি সেখানেই তার ঠাকুমাকে খুঁজে পায়। সে যখনই তার বাবা-মাকে তার ঠাকুমার কথা জিজ্ঞেস করতো, তাকে বলা হতো তার ঠাকুমা কোনো আত্মীয়ের বাড়ি গেছে। আমরা কি এই ধরণের সমাজ তৈরি করছি?” – এইভাবেই নিজের ক্ষোভ উগরে দেন সমাজসেবী অনিতা চৌহান। ছবিটি ট্যুইটারে ৫০ হাজারের বেশি লাইক পায় এবং সেটি ২২ হাজারের বেশি লোক শেয়ার করেন। এই ছবিটি ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং এবং দিল্লীর মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শেয়ার করেন।

যদিও এই ছবিটি এখনকার নয়, এই ছবিটি ১১ বছর আগে ২০০৭ সালে নেওয়া হয়। ঘটনা যেটা ঘটেছিল সেটা হল, নাতনি যার নাম ভক্তি পাঞ্চাল, সে স্কুলের তরফ থেকে একটি বৃদ্ধাশ্রমের ট্যুরে যায় আর সেখানে আচমকাই তার সাথে তার ঠাকুমার দেখা হয়ে যায়। নিজের ঠাকুমাকে দেখতে পেয়ে সে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে দেয়। আসলে ভক্তি অনেকবারই তার বাবা-মাকে তার ঠাকুমার কথা জিজ্ঞেস করেছিল, কিন্তু প্রতিবারই তার বাবা-মা এই বলে এড়িয়ে যেতে যে, তার ঠাকুমা আত্মীয়ের বাড়ি গেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা দময়ন্তী বেন-কে একটি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছিলেন।

ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি ২০০৭ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর Kalpesh S Bharech নামের এক চিত্র সাংবাদিক, গুজরাটের মানিনগরের GNC স্কুলে তুলেছিলেন। চিত্র সাংবাদিক যখনই ওই বৃদ্ধাশ্রমে ছবি তোলার ডাক পেয়েছিলেন তখনই তিনি ভেবেছিলেন এটা বেশ বেদনাদায়ক হবে। তবে এতটা বেদনাদায়ক হবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। হঠাৎই দেখা হয়ে যায় ভক্তির সাথে তার ঠাকুমার এবং তারা দুজনে এক অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে ।

সম্প্রতি ছবিটি এক প্রদর্শনীতে শোয়ে রাখা হয়েছিল এবং সেখান থেকেই ভাইরাল হয় ছবিটি। সেখানেই তার নাতনি ভক্তি পাঞ্চাল জানান, তার ঠাকুমা দময়ন্তী বেন পাঞ্চাল ওই সময় নিজের ইচ্ছেতেই ওই বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলেন। তার বাবা তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলেও তিনি ফেরেননি। এখনও ওই বৃদ্ধাশ্রমেই থাকেন দময়ন্তী বেন। তার নাতনি ভক্তি মাঝেমধ্যেই তার সাথে দেখা করতে যায় বৃদ্ধাশ্রমে।

নাতনির কথায় কতটা সত্যতা রয়েছে সেটা আমাদের জানা নেই। তবে সখ করে কেউ বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে যাবেন বলে মনে হয় না। এই ঘটনা আমাদের একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, “এটা কি ধরণের সমাজ আমরা তৈরি করছি, যেখানে বয়স্ক বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকার জায়গা হয় না?”

আপনাদের মতামত কমেন্ট করে জানান।