জানেন করো’নায় ট্রাম্প যে ঔষুধের জন্য ভারতের কাছে সাহায‍্য চাইছে, তা তৈরি হয় এই বাংলায়

0
373

করো’না ভাই’রাসের হাম’লায় থরহরি কম্পমান আমেরিকা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিশেহারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এহেন পরিস্থিতিতে কো’ভিড-১৯ ম’হামা’রীর প্রকোপ রুখতে ঔষুধ চেয়ে অনুরোধ ফেলতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করো’নার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হাই’ড্রোক্সিক্লো’রোকু’ইনের রফতানির উপর থেকে সব বিধিনিষেধ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। করোনার মতো অ’তিমা’রিতে যে সব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের ওই ঔষুধ সরবরাহ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প হাই’ড্রক্সিক্লো’রোক্যু’ইনের বিষয়ে সীমাহীন প্রশংসা করা সত্ত্বেও করো’না প্রতিরোধে এই ঔষধির ক্ষমতা এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। যদিও একাধিক দেশে করো’না সংক্র’মণের চিকিৎসা এই ড্রা’গসকেই সর্বাধিক মান্যতা দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধের প্রাক্কালে আবিষ্কৃত হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’ক্যুইন মূলত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী এবং রিউ’মাট’য়েড আর্থ্রা’ইটিসের ঔষধি হিসেবে খ্যাত। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের মতে, হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’ক্যুইন মূলত পেশি ও গাঁটের ব্যথা, চামড়ায় ফুসকুড়ি, হৃদয় ও ফুসফুস জনিত সমস্যা ও প্রবল জ্বরে নিরাময়ী হিসেবে কাজে লাগে। হাই’ড্রক্সিক্লো’রো’ক্যুইন ‘প্ল্যা’ক্যুই’নিল’ জেনেরিক নামে বাজারে পাওয়া যায়।

প্রতীকী ছবি

হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন নামক একটি ঔষুধ নিয়ে এই মুহুর্তে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে ভারতের দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন এই ঔষুধকে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তখন সবার প্রথম ভারতই এই ঔষুধ প্রদানে সচেষ্ট হয়েছিল। গোটা ভারতবর্ষের মধ্যে সর্বপ্রথম পশ্চিমবঙ্গেই তৈরি হয় হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন ঔষুধ। আর তা প্রথম তৈরি হয় ঐতিহ্যশালী বেঙ্গল কেমি’ক্যালসে। ১৯০১ সালে স্বদেশি ভাবনায় এই সংস্থাটি তৈরি করেছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।

আজ শতাব্দীপ্রাচীন এই সংস্থাটি একটি সরকারি অধিকৃত সংস্থা হিসেবে রয়ে আছে। বর্তমানে এর নাম বেঙ্গল কেমি’ক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। আর এই সংস্থাই ভারতবর্ষের প্রথম ঔষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন বানাতে সক্ষম হয়েছিল। এমনকি করোনা নিয়ে ভারতের টাস্ক ফোর্স ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চও এই ওষুধকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশ্বের এই কঠিন পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে বাংলার দিকে, বলা ভালো বেঙ্গল কেমি’ক্যালসের দিকে। তবে বর্তমানে কাঁচামালের অভাবে প্রয়োজনীয় হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন তৈরি করতে পারছে না বেঙ্গল কেমিক্যালস। তবে এই মুহুর্তে কেবল ১০ লক্ষ হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন ট্যাবলেট বানাতে সক্ষম বেঙ্গল কেমি’ক্যালস। এই মুহুর্তে ভারতবর্ষের অন্য কিছু জায়গায় এই ওষুধ তৈরি করলেও বেঙ্গল কেমি’ক্যালসের মত এত বিশাল পরিমাণে ওষুধ তৈরির সামর্থ্য নেই।

প্রতীকী ছবি

দেশে চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় সদ্যই দু’টি সংস্থাকে জরুরি ভিত্তিতে মোট ১০ হাজার কোটি হাই’ড্রক্সি’ক্লোরো’কুইন ট্যাবলেট সরবরাহের বরাত দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ভারতে প্রতি মাসে মোট ২০ কোটি ট্যাবলেট তৈরি করা সম্ভব। বিশ্ব জুড়ে সঙ্কট ও মানবাধিকারের জায়গা থেকেই গত ২৫শে মার্চ এই ঔষুধটি রফতানিতে আংশিক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে গত ৪ঠা এপ্রিল ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কারণ এর আগে, সার্বিয়াকে দস্তানা রফতানির অনুমতি দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় মোদী সরকারকে।

সূত্র –