এবার ৮ ঘন্টা নয় ১২ ঘন্টা করে কাজ করতে হবে অফিসে! – বদল আসছে আইনে

0
316
প্রতীকী ছবি

করো’নার জেরে লকডাউন চলার সময় বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে বাড়িতে। কারণ অফিস বন্ধ। কাজ বলতে সেরকম কিছু করতে হয়নি। তারপর শুরু হয় ওয়ার্ক ফ্রম হোম। সেটা কাটিয়ে এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী–‌আমলাদের অফিসে যেতে হচ্ছে। ৫০ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হচ্ছে কর্মচারীদেরও। এবার কাজের সময় দিনে ৮ থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করে দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য সরকারগুলির হাতে তুলে দিতে দ্রুত অর্ডিন্যান্স আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

লকডাউনের দ্বিতীয় পর্যায় থেকেই লাগু চলেছে ১২ ঘণ্টার কাজের শিফট বলে খবর। করো’না ভাই’রাস ঠেকাতে এই দীর্ঘ লকডাউনের কারণে বহুদিন ধরে কাজ বন্ধ। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই মতো যোগানের চ্যালেঞ্জকে পূর্ণ করতে দরকার অতিরিক্ত শ্রম।

প্রতীকী ছবি

কর্মচারীদের অফিসে এবার থেকে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এটি করো’ন ভাই’রাস লকডাউনের তাৎক্ষণিক প্রভাব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একমাত্র বিভিন্ন সংস্থা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে পারবে। সর্বভারতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের ফলে বিভিন্ন রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাজের সময় বাড়াতে নমনীয় হবে। এর জন্য ১৯৪৮-এর দৈনিক শ্রমের জন্য তৈরি আইনে করতে হবে পরিবর্তন। শীঘ্রই এব্যাপারে পাশ হতে চলেছে অর্ডিন্যান্স।

প্রতীকী ছবি

বর্তমানে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয় চাকুরীজীবীদের। অর্থাৎ সপ্তাহে ৬ দিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয় কর্মীদের। তবে আইনে বদল ঘটলে কোম্পানিগুলি কর্মীদের কাজের শিফট বাড়ানোর অধিকার পাবে। দেশে যে ফ্যাক্টরি আইন রয়েছে তাতে কোনও পূর্ণবয়স্ক শ্রমিককে দিয়ে দিনে সর্বাধিক ৮ ঘণ্টা কাজ করানো যেতে পারে। সেই আইনেই সংশোধনী আনা হবে। রাজস্থান সরকার অবশ্য ইতিমধ্যেই কাজের সময় বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করে দিয়েছে। একই পথে হাঁটতে চলেছে পাঞ্জাবও। কাজের সময় বাড়লে সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক বাড়বে কি না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রতীকী ছবি

করো’না প্রকোপের জেরে বহু শ্রমিকই ভিনরাজ্যে নিজেদের বাড়ি ফিরে গিয়েছে। এমন অবস্থায় লকডাউন উঠে গেলেই যে তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া, লকডাউন উঠে গেলেও সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ এখনই ওঠার সম্ভাবনা কম, ফলে কম শ্রমিক দিয়েই কাজ চালাতে হবে কারখানাগুলিতে। এমন অবস্থায় পণ্যের চাহিদা পূরণ দিতে গেলে কাজের সময় বাড়াতে হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি কেন্দ্রের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কয়েকটি কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন পদস্থ আমলারা। পাশাপাশি, দেশের কিছু শ্রমিক সংগঠনের তরফেও সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। তার পরই অর্ডিন্যান্স আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র –