এবার থেকে ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন লিখবে বাংলায়!

0
52

আমরা প্রেসক্রিপশন মানেই বুঝি ডাক্তারদের দুর্ভেদ্য হাতের লেখা। আর সেই সাথে থাকে ওষুধ খাওয়া ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দুর্বেধ্য সব সংকেত। আর ডাক্তারদের লেখা এই প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের হয় চরম ভোগান্তি। তাই এবার প্রতিদিনের এই ভোগান্তি দূর করার জন্য রাজ্য স্বাস্থ দফতর বাংলায় লেখা ওষুধের ডোজের বিবরণ দিয়েই ই-প্রেসক্রিপশন লেখার নির্দেশ দিলো। এই নতুন ই-প্রেসক্রিপশন চালু হয়েছে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে। রুগীদের সুবিধার্থেই বংলায় ডোজ লেখার নতুন নিয়ম চালু হবে গোটা রাজ্যে।

এখন থেকে প্রেসক্রিপশনে ওষুধের ডোজ বাংলায় লিখতে হবে। নিত্যদিনের ভোগান্তি মেটাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর বাংলায় লেখা ওষুধের ডোজের বিবরণ দিয়ে ই–‌প্রেসক্রিপশন চালু করেছে। ওষুধের ডোজের ভাষা বাংলায় হওয়ায় রোগীরা তা সহজেই বুঝতে পারবেন।

দেখা গেছে, ওষুধের ডোজ শুধু রোগীরাই নন, ওষুধের দোকানের কর্মচারীরাও প্রেসক্রিপশন বুঝতে পারেন না। দোকান থেকেই অনেকে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে ফোন করে ডোজ জেনে নেন। পরীক্ষা–নিরীক্ষা নিয়েও রোগীরা সমস্যায় পড়েন। চিকিৎসকদের হাতের লেখা বুঝতে অসুবিধা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে নতুন এই প্রকল্পটি চালু হয়েছে।

ওষুধ দিনে খাবেন না রাতে, খাওয়ার আগে না খাওয়ার পর, দিনে এক বার না তিন বার–‌ এসব তথ্য সাঙ্কেতিক ভাষায় ওডি, বিডি, বিমি লেখার ফলে রোগীদের বুঝতে কালঘাম ছুটে যায়। এই সমস্যা মেটাতে বাংলায় লেখা থাকছে ই–প্রেসক্রিপশনে। বিশেষ সফটওয়্যারে মাউসের এক ক্লিকেই ওষুধের নির্দিষ্ট বিবরণ বাংলায় লেখা থাকছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‌রোগীদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা ই–প্রেসক্রিপশনে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করেছি।

আপাতত যে সমস্ত হাসপাতালে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে ই–প্রেসক্রিপশন চালু হয়েছে সেখানে মাস দুয়েক হল বাংলা হরফে লেখা হচ্ছে ওষুধের ডোজ। ধাপে ধাপে রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেই এইরকম পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ওষুধের নাম ইংরেজিতে থাকবে তবে খাওয়ার বিবরণ বাংলাতে থাকছে। বোঝার অসুবিধার জন্য রোগীরা ওষুধ ঠিকমতো খেতেন না। এখন সবটাই কম্পিউটারে হওয়ায় বাংলায় চিকিৎসকদের সময়ও বেশি লাগছে না।’‌

কম্পিউটার ব্যবহারে সড়গড় বলে নতুন ব্যবস্থায় হাসপাতালে নবীন চিকিৎসকদের সমস্যা হচ্ছে না। অভ্যাস হয়ে গেলে প্রবীণ চিকিৎসকদের আর অসুবিধা হবে না বলে জানান স্বাস্থ্য দপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা। আপাতত এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল, ন্যাশনাল মেডিক্যাল, বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি–‌সহ কয়েকটি জায়গায় চালু হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজির বিভাগীয় প্রধান ডাঃ শঙ্করচন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘‌এই ব্যবস্থায় অবশ্যই রোগীদের সুবিধা হবে। নিয়ম করে ঠিকমতো ওষুধ খেতে পারবেন। ভুলভ্রান্তি এড়ানো যাবে।’

সূত্র – আজকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here