গরমে ফ্রিজের ঠাণ্ডা জল খেতে ভালোবাসেন, তাহলে জেনে নিন কি কি সমস্যা হতে পারে

0
1279

আমরা সবাই জানি যে, ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মের সময় শুরু হয়েছে। এমত অবস্থায় যখনই আমরা কোনও কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই, তারপর বাড়ি ফেরৎ আসার আগে তৃষ্ণার্ত হয়ে আমাদের হাল আরও খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি পৌঁছে আগে ঠান্ডা জল খেতে হবে, তারপর বাকি কাজ। গ্রীষ্মকালে রেফ্রিজারেটরে রাখা ঠাণ্ডা জল খাওয়ায় আমাদের সকলের জন্য একমাত্র লক্ষ্য। অনেক লোকের মতে, গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠান্ডা জল পান না করে তৃষ্ণা নিবারণ না হওয়া পর্যন্ত জল পান করার কোনো মজা নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন যে ফ্রিজের ঠাণ্ডা জল পান করে, আপনি কেবল আপনার স্বাস্থ্যের সাথেই খেলছেন না, উপরন্তু ভবিষ্যতের অসুস্থতাকেও ডেকে আনছেন। আজকের প্রবন্ধে, আমরা আপনাদের বলব ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা জল পান করলে কি কি সমস্যা হতে পারে, যেগুলি শুনলে আপনি চমকে উঠবেন –

যদিও গরমের দিনে ঠাণ্ডা জল খেলে আমাদের হৃদয় ভীষণ তৃপ্ত হয়। কিন্তু এই ঠাণ্ডা জলই আপনার হৃদয় অর্থাৎ  হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।  আসলে, যখনই আমরা ঠাণ্ডা জল পান করি তখন আমাদের হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং হার্টের নানারকম অসুখ দেখা দিতে পারে। ঠান্ডা জল ভেগাস নার্ভকে সংকুচিত করে দেয় যার ফলে হৃৎস্পন্দন ধীরে ধীরে কম হতে থাকে, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়।

ঠাণ্ডা জল এবং গরম জল একে অপরের বিপরীত কাজ করে। একদিকে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল যেমন আমাদের শরীরের পাচন প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করে তেমনি, ঠাণ্ডা জল পাচন প্রক্রিয়ার কাজে বিঘ্ন ঘটায়। এর প্রধান কারণ হল ঠাণ্ডা জল রক্তকোষগুলিকে সংকুচিত করে দেয় যার ফলে পাচন প্রক্রিয়া ধীরে হয়। অধিকাংশ লোকজনই খাওয়ার সময় বা খাওয়ার পরই জল খান, এই সময় ঠান্ডা জল খেলে সেই জল খাদ্য পাচনে সহায়তা করতে পারে না কারণ জলটিকে শরীরের কার্যকর তাপমাত্রায় পৌঁছাতে হয় আগে। এইভাবে পাচন প্রক্রিয়াও আস্তে হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ১০ টি ছবি যা আপনাকে জিমে যেতে অনুপ্রাণিত করবে

ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা জল খেলে শরীরের ইমিউনো সিস্টেমের সবচেয়ে ক্ষতি হয়। প্রকৃতপক্ষে শীতল জল আমাদের শরীরের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এই অবস্থায়, আমাদের গলাতে শ্লেষ্মা জমা হয়, যাতে আমদের দ্রুত সর্দি-কাশি হয়।

এই ব্যাপারটা অনেকেই খেয়াল করেছেন যে, বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিরা সাধারণত ঠান্ডা জল পান করেন না, কারণ তারা জানেন যে এথেকে সহজেই সর্দি-কাশি, গলা ব্যথার মত রোগের সৃস্টি হয়।

আপনি দেখেছেন যে যখনই আমরা ফ্রিজে কোনো মিষ্টিকে রাখি তখন সেটি আগের তুলনায় আরও বেশি কঠিন হয়ে যায় এবং কখনও তা বরফের মত জমতে শুরু হয়। একইভাবে, ঠান্ডা জল আমাদের পেটের মধ্যে থাকা খাদ্যকে জমিয়ে দেয়। যার ফলে মল বৃহদান্ত্রের মধ্যে জমতে থাকে। যার থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ হতে পারে।