ম’দ্যপানের পর বেসামাল মহিলাদের সামলানোটা সবচেয়ে কঠিন, তাই বর্ষবরণের পার্টিতে চাহিদা বাড়ছে মহিলা বাউন্সারদের

0
712

বর্ষশেষের পার্টিতে মহিলাদের সুরক্ষায় বাড়তি জোর দিতে চাইছেন নাইট ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং আয়োজকরা। সেই সূত্রে লেডি বাউন্সারদের চাহিদা তুঙ্গে। কিছু বছর আগেও রাতভর পার্টি করে বেসামাল হয়ে পড়া মহিলাদের সংখ্যাটা সমাজের এক অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বদলে যাওয়া সময়ে বদলেছে পরিস্থিতি। মহিলাদের অংশগ্রহণ এখন অনেক বেশি। নাইট ক্লাবগুলিতে বেসামাল পুরুষদের সামলানোর জন্য এতদিন পুরুষ বাউন্সার রাখারই চল ছিল। বেশ কিছুদিন হল মহিলা বাউন্সারদের প্রয়োজন বাড়তে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা সংস্থা গ্রিন ওয়ারিয়রের নিরাপত্তা আধিকারিক মহম্মদ রিয়াজুদ্দিনের কথায়, ‘কলকাতার অধিকাংশ নাইট ক্লাবে বাউন্সার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ম’দ্যপানের পর বেসামাল মহিলাদের সামলানোটা সবচেয়ে কঠিন।

প্রতীকী ছবি

নিয়ম অনুযায়ী আমরা কারও গায়ে হাত দিই না। তবে কোনও ব্যক্তি পড়ে গেলে তাঁকে উঠিয়ে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজটা করি। কোনও মহিলার সে অবস্থা হলে মহিলা বাউন্সার ছাড়া সামলানো সম্ভব হয় না। ম’দ খেয়ে কার্যত অচৈতন্য হয়ে পড়া মহিলাদেরও অনেক সময় সুষ্ঠু ভাবে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এসেছেন আমার টিমের বহু মহিলা বাউন্সার।’ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাউন্সার সরবরাহকারী সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, কয়েক মাসে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ধ’র্ষণ, শ্লীল’তাহানির ঘটনার কারণে লেডি বাউন্সারদের চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। গ্রিন ওয়ারিয়র সংস্থার কর্ণধার মজহার বদগুজার বলেন, ‘এ বার একজনের জায়গায় তিনজন বাউন্সার চাইছে ক্লাবগুলো। মহিলা বাউন্সারদের চাহিদাও প্রায় এক হারে বেড়েছে।’

প্রতীকী ছবি

ন’বছর ধরে মহিলা বাউন্সার হিসেবে কাজ করছেন মুনমুন তাঁতি। অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘অনেক সময় কোনও মহিলাকে তাঁর সঙ্গের পুরুষ সঙ্গীটিও টেনে তুলতে পারেন না। তখন আমরা হাত লাগাই।’ শহরের একটি নামজাদা ক্লাবের এক মহিলা বাউন্সার বলেন, ‘একবার একজন ম’দ খেয়ে এত বমি করছিলেন যে তাঁকে সামলানো যাচ্ছিল না। তিনি নিজে নিজে বাড়ি ফেরার অবস্থাতেও ছিলেন না। আর ওঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন না। বাধ্য হয়ে তাঁর বাড়িতে ফোন করে লোক আনাতে হয়। পরে জেনেছিলাম, উনি একজন নামজাদা মডেল।’

স্পার্টান্স প্রোটেকটিভ সলিউশনস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সন্দীপ মিত্র বলেন, ‘এখন অনেক মহিলাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বাউন্সারের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য।’ কী বলছে ক্লাবগুলি? শহরের অন্যতম নামজাদা নাইটক্লাব নকটার্নের মালিক অমনদীপ সিং বলেন, ‘মহিলাদের নিরাপত্তার উপরে আমরা খুবই জোর দিই। এ বার আমাদের ক্লাবে ২ জন মহিলা বাউন্সার থাকবেন।’

সূত্র – এই সময়