৭২টি বাড়িতে পিৎজা ডেলিভারির পর জানা গেল ডেলিভারি বয়ের করো’না পজেটিভ, তারপর…

0
543

দক্ষিণ দিল্লির এক ডেলিভারি বয় সাম্প্রতিক সময়ে মোট ৭২ টি পরিবারকে খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এই ১৯ বছর বয়সী যুবক ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় খাবার ডেলিভারির কাজ করেছিলেন। এরপর ১৪ এপ্রিল তিনি করো’না টেস্টিং করতে যান। তারপরই ধরা পড়ে রোগ। ফলে দক্ষিণ দিল্লি জুড়ে আপাতত ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তার জেরে কোয়া’রেন্টা’ইনে পাঠানো হলো দক্ষিণ দিল্লির ৭০ টিরও বেশি পরিবারকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার জানিয়ে এসেছে করো’না আক্রা’ন্তর খোঁজ মিললে তাঁর সংস্পর্শে আসা সকলকে কোয়া’রেন্টা’ইনে পাঠাতে। গত ১৫ দিনে এই যুবক খাবার পৌঁছে দিয়েছে প্রায় ৭২ টি পরিবারের কাছে। ওই যুবক খাবার পৌঁছে দিয়েছে হজ খাস, মালভিয়া নগর ও সাবিত্রী নগরের মতো দিল্লির ব্যস্ত জায়গায়।

প্রতীকী ছবি

জেলাশাসক বলছেন, “মালব্য নগরে একটি বিখ্যাত পিজার দোকানে কাজ করতেন এই ডেলিভারি বয়। মঙ্গলবার আমরা জানতে পারি তিনি সংক্র’মিত। কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি তাঁর ১৬ জন সহকর্মীকে কোয়া’রেন্টা’ইনে পাঠান। খোঁজ শুরু হয় তাঁর থেকে খাবার নিয়েছে এমন পরিবারগুলির। ৭২টি পরিবারকে চিহ্নিত করে হোম কোয়া’রেন্টা’ইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রতীকী ছবি

এক বিবৃতিতে ফুড ডেলিভারি জায়ান্ট কোম্পানী জানিয়েছে, ওই ডেলিভারি বয়ের বিদেশ ভ্রমণের কোনও ইতিহাস নেই। সন্দেহ করা হচ্ছে যে কোনও আ’ক্রান্ত পরিবারে পিৎজা দেওয়ার সময়েই তাঁর শরীরে ওই রোগটি বাসা বাঁধে। তারা আরো জানান যে, “ওই ডেলিভারি বয় যাঁদের যাঁদের বাড়িতে পিৎজা দিয়ে এসেছে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সরকারি তরফে তাঁদের কোয়া’রান্টা’ইন করে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে”। পাশাপাশি ওই ডেলিভারি বয় যে রেস্তোঁরা থেকে নিয়মিত ডেলিভারি নিয়ে যেত সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী ছবি

উল্লেখ্য, ধবারই দিল্লি সব জেলাকে হটস্পট বা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লিতে করো’না আক্রা’ন্তের সংখ্যা ১,৫৭৮। মৃ’ত্যু হয়েছে ৩২ জনের।  গতকালই কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০ এপ্রিলের পর বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়া হবে। তার মধ্যে অন্যতম ই-কমার্স। তবে, দিল্লির এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিল, ই-কমার্স ক্ষেত্রকে ছাড় দিলে কতটা সুরক্ষিত থাকবে মানুষ। কেননা বাড়ি-বাড়ি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডেলেভারি বয়রাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।