জানেন, ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’-এর অর্থ কী? নাম রাখলো কোন দেশ? গতিবেগই বা কত হতে পারে?

0
248
প্রতীকী ছবি

উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বঙ্গোপসাগরের পৃষ্ঠদেশ ফলে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস রয়েছে। যার বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই লঘুচাপ থেকেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হবে ঘূর্ণিঝড়। যা পূর্ণ শক্তি নিয়ে ২৩শে থেকে ২৫শে মে-র মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী এলাকায়। এই সুপার সাইক্লোনের নামকরণ করা হয়েছে ‘যশ’। এর গতিমুখ থাকবে উড়িষা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম এলাকার দিকে।

প্রতীকী ছবি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই জানিয়েছে, এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, শক্তি বাড়িয়ে এই ঘূর্ণিঝড় গত বছরের আম্ফানের মতো সুপার সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে। আছড়ে পড়তে পারে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে। আপাতত ঘূর্ণিঝড়টির গতিবিধির দিকে খেয়াল রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহবিদদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে ঝড় সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দিতে তার নাম থাকাটা দরকারি। নইলে একই সময় একই সমুদ্রে একাধিক ঝড় থাকলে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়। ঝড় চলে গেলেও একই সমস্যায় পড়েন আবহবিদরা। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি নামকরণ করে।

প্রতীকী ছবি

ঘূর্ণিঝড়ের নামের মানে কী? নামই বা রাখলো কোন দেশ?

জানা যাচ্ছে, এই ঝড়ের নাম যশ বা ইয়াস। যার মানে হল দু:খ। পারসি ভাষা থেকে এই শব্দটি এসেছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রেখেছে ওমান। ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা-সহ ১৩টি দেশ নিয়ে গঠিত কমিটি এই নাম ঠিক করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি নামকরণ করে।

প্রতীকী ছবি

চলতি শতকের শুরুর দিকে এই পদ্ধতি চালু হয়। পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা নাম ঠিক করে। যদিও কয়েক দশক আগে এসব নিয়ম ছিল না। তখন নানা ঘটনা থেকে ঝড়ের নাম ঠিক হত। কোনও ঝড়ে কোনও জাহাজ ডুবে গেলে সেই জাহাজের নামে হত ঝড়ের নাম।

প্রতীকী ছবি

তবে এই যশের পর আরও যে যে ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়েছে সেগুলি হল – গুলাব (পাকিস্তান), সাহিন (কাতার), জাওয়াদ (সৌদি আরব), অশনি (শ্রীলঙ্কা), সীতরাং (থাইল্যান্ড), মানদৌস (সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) এবং মোচা (ইয়েমেন)।

প্রতীকী ছবি

আবহাওয়া দফতরের অনুমান ল্যান্ডফলের সময় যশ-এর গতিবেগ হতে পারে ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। প্রসঙ্গত, আমপান ল্যান্ডফল করেছিল সর্বোচ্চ ১২১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে। যশ-এর ব্যাপ্তি ১৪০০ কিলোমিটার জুড়ে। ফলে প্রবল গতি যদি থাকে তাহলে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাও প্রবল হবে।