ফ্লিপকার্টে অভিযোগ জানাতে গিয়ে বিজেপির সদস্য হয়ে গেলেন কলকাতার এক ক্রেতা!

0
1252

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন শপিং পোর্টাল ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ার নম্বর বিজেপির সদস্যপদ পাওয়ার টিকিট। হ্যাঁ, আপনারা ঠিকই পড়েছেন। এরকমই আশ্চর্য্যজনক ঘটনা ঘটেছে কলকাতার এক ক্রেতার সাথে। তিনি অনলাইনে ফ্লিপকার্ট থেকে যে জিনিসটি অর্ডার করেন, তার পরিবর্তে অন্য জিনিস পান, তাই তিনি ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ জানানোর জন্য ফোন করতেই নিজের মোবাইল নম্বরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে সদস্য হওয়ার একটি এসএমএস পান।

কলকাতার ওই ক্রেতা ফ্লিপকার্ট থেকে এক জোড়া হেডফোন অর্ডার করেন কিন্তু তিনি তার পরিবর্তে একটি তেলের বোতল পান ফ্লিপকার্টের পার্সেলে। এই ঘটনায় যথারীতি রেগে গিয়ে, সেই পার্সেলের উপরেই দেওয়া ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করেন তিনি অভিযোগ জানানোর জন্য। ফোন করার পর সেই নম্বরে একবার রিং হয়ে লাইনটি কেটে যায়, এরপরই সেই ক্রেতা তার নম্বরে রাজনৈতিক দলে যোগদান করার এসএমএস পান।

সংবাদ সংস্থা NDTV -এর খবর অনুযায়ী, সেই ব্যক্তি আরেকবার ওই নম্বরটিতে ফোন করতে যাচ্ছিলেন কিন্তু ঠিক সেই সময়ই তার ফোনে ‘Welcome to BJP’ শীর্ষক একটি এসএমএস আসে যেখানে তাকে বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দুঃখজনকভাবে এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। সেই ক্রেতার বন্ধুও ওই নম্বরটিতে কয়েকবার ফোন করার চেষ্টা করেন এবং প্রতিবারই ফোনে একই মেসেজ পান।

ফোনে প্রাপ্ত এসএমএস-টি এরকম ছিল –

NDTV

এরপরই খুব তাড়াতাড়িই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ওই ফোন নম্বরটি বিজেপি দলের এবং যিনিই ওই নম্বরে কল করবেন, তাকেই সদস্যপদ গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এরপর সেই ব্যক্তি ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ারের আসল নম্বরটি পান এবং সেখানে অভিযোগ জানান।

বাংলার বিজেপি দল ফ্লিপকার্টের এই পার্সেলের সাথে তাদের যোগ থাকার কথা সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি দলের প্রধান দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিজেপির নম্বর তাদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকেও দেওয়া রয়েছে। যে কেউ সেটি শেয়ার করতে পারে। আপনিও এটা শেয়ার করতে পারেন। সেটা আমাদের দায়িত্ব নয়।”

কলকাতার ওই ক্রেতাকে শীঘ্রই ফ্লিপকার্টের কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন করা হয় এবং তারা তাদের ভুল স্বীকার করে বলে যে, “আপনাকে দুর্ঘনাবশত ওই তেলের বোতলটি পাঠানো হয়েছে। আপনি চাইলে ওটা ব্যবহার করতে পারেন বা ফেলেও দিতে পারেন। দুঃখজনকভাবে, আমাদের কাছে এখন এক জোড়া হেডফোন নেই। আমরা আপনাকে একটি হেডফোনই দিতে পারব। অপর হেডফোনের মূল্য আপনাকে ফেরৎ দেওয়া হবে।”

শপিং পোর্টাল ফ্লিপকার্ট আরও জানায় যে, ক্রেতাটি যে নম্বরে প্রথমে ফোন করেন সেটি বর্তমানে আর ফ্লিপকার্টের নম্বর নেই। ফোন কোম্পানি ছ মাসের বেশি নম্বরটি অচল থাকার জন্য অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছে।

যাইহোক এরকম ঘটনা প্রথম নয় যে ফ্লিপকার্ট কোনো কাস্টমারকে ভুল জিনিস পার্সেলে পাঠিয়েছে। আপনারা কি কখনো এরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?

Source