কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের দৌলতে ৯ জন কয়েকশো কোটির মালিক, দেখেনিন তাদের সম্পত্তির পরিমান

0
199

সারা পৃথিবীতে চলছে করোনা টিকাকরণ। এটা ঠিক কথা যে এত তাড়াতাড়ি কোনও ভ্যাকসিন তৈরির নজির ভূ-ভারতে নেই। কিন্তু বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটেই করোনা টিকা এত তাড়াতাড়ি তৈরি হয়নি। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সহায়তা নিয়েছেন অতীতে বিভিন্ন রোগ ও মহামারি ঠেকানোর জন্য যে সমস্ত টিকা তৈরির প্রক্রিয়া আজও চলছে, তার থেকেই। প্রকারান্তরে বলা ভালো, জিকা, সার্স, মার্স এমনকী পোলিয়ো টিকাকরণের গবেষণা করোনা টিকা তৈরির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারি এক দিনে বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, এমন একটা শ্রেণি রয়েছে, যারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছে। বলতে গেলে, কয়েকশো কোটির মালিক হয়ে গিয়েছেন কেউ কেউ।

প্রতীকী ছবি

কয়েক মাসের মধ্যে এত তাড়াতাড়ি কোনও ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শেষ করা এবং সাধারণের উপর তা প্রয়োগ করার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। মেডিসিনাল হিস্ট্রি বলছে, এর আগে সবচেয়ে দ্রুত টিকা বাজারে আনা হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে মাম্পস ঠেকাতে। মাম্পসের সেই টিকা তৈরি করতেও সময় লেগেছিল চার বছর। আর করোনার আগে সেটাই ছিল সবচেয়ে কম সময়ে প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের নজির।

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ৯ জনকে বিলিওনেয়ার করে দিয়েছে। পিপলস অ্যালায়েন্সের মতে, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে ৯ জন বিলিওনেয়ার হয়েছেন। যাঁদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত। অ্যালায়েন্স বলছে, তাদের পরিসংখ্যানগুলি ফোর্বস রিচ লিস্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

প্রতীকী ছবি

করোনা যদি প্রথম বিশ্বে এ ভাবে প্রভাব না ফেলত তাহলে এত দ্রুত এই টিকাকরণের কাজ সম্পন্ন হত না বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ এর জন্য কেবল সরকারি অর্থই নয়, বহু ধনকুবের, বড় ব্যবসায়ী, পৃথিবীর অর্থবান মানুষের যৌথ তহবিল টিকার পথ মসৃণ ও দ্রুততর করেছে। কেবল আমেরিকাতেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপূল অর্থরাশি এই টিকাকরণের জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে!

প্রতীকী ছবি

পিপলস অ্যালায়েন্স বলছে, এই ৯ বিলিওনেয়ারের সম্পদ ১৯৩০ কোটি ডলার (প্রায় ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকা)। এ ছাড়াও তাঁদের সম্পদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিমাণ অর্থের সাহায্যে দরিদ্র দেশগুলির সমগ্র জনগোষ্ঠীকে একাধিকবার একটি কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। গ্রুপের চ্যারিটি অক্সফামের সঙ্গে যুক্ত আন্না মেরিয়ট বলেছেন, ভ্যাকসিনের একচেটিয়া প্রতিষ্ঠার কারণে ওষুধ সংস্থাগুলি যে বিশাল মুনাফা অর্জন করছে, তার মুখ হয়ে উঠেছেন এঁরা।

প্রতীকী ছবি

দেখেনিন এরা ক‍ারা –

৯. ক্যানসিনো বায়োলজিকসের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাও হুনহোয়া (১০০ কোটি ডলার)

৮. ক্যানসিনো বায়োলজিকসের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা কুই ডংসু (১২০ কোটি ডলার)

৭. ক্যানসিনো বায়োলজিকসের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার এবং কো-প্রতিষ্ঠাতা ঝু তাও (১৩০ কোটি ডলার)

৬. মডার্নার প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী এবং বিজ্ঞানী রবার্ট এস ল্যাঙ্গার (১৬০ কোটি ডলার)

৫. মডার্না ভ্যাকসিনের প্যাকেজ ও উৎপাদন করার ঠিকাদারি সংস্থা রোবির চেয়ারম্যান জুয়ের লোপেজ বেলমন্ট (১৮০ কোটি ডলার)

৪. মডার্নার চেয়ারম্যান নওবার আফিয়ান (১৯০ কোটি ডলার)

৩. ইমিউনোলজিস্ট এবং মডার্নার প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী টিমোথি স্প্রিংজার (২২০ কোটি ডলার)

২. বায়োএনটেকের সিইও সহ-প্রতিষ্ঠাতা উগুর সাহিন (৪০০ কোটি ডলার)

১. মডার্নার সিইও স্টিফেন বেনসেল (৪৩০ কোটি ডলার)

সূত্র