মাধ‍্যমিক পরীক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্ধুদের টুকলি সাপ্লাই করতে স্কুলের পাঁচিলে উঠে পরলেন যুবক

0
464
প্রতীকী ছবি

মাধ্যমিক পরীক্ষায় টুকলি সাপ্লাইয়ের ছবি ধরা পড়ল মালদহে। রতুয়া থানার ভালুকা রায়মোহন মোহিনীমোহন বিদ্যাপীঠে টুকলি সাপ্লাইয়ের ছবি ধরা পড়ে। পুলিশি পাহারা সত্ত্বেও মাধ্যমিকে চলল দেদার টুকলি সাপ্লাই। পরীক্ষার্থীদের হাতে উত্তর পৌঁছে দিতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচিলে উঠে পড়তেও পিছপা হলেন না অনেকেই। এদিনই টুকলি সাপ্লাইয়ের অভিযোগে রতুয়ার দুটি স্কুল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পর পর সাতদিনেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াটসআ্যপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রশ্নপত্র। হাজার চেষ্টা করেও তা রুখতে পারেনি মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ। এই বছরও তার ব‍্যতিক্রম নয়।

সূত্র

অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে স্কুলের বাইরে মির স্যামুয়েল নামে এক যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র মেলে। দাবি, তিনি মালদহের এক বন্ধুর কাছে ওই প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তার আর এক বন্ধু। স্যামুয়েল দাবি করেন, উত্তরও পাওয়া যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। আর তা পরীক্ষার্থীর মোবাইলে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে রতুয়ার স্কুলে ছাদের কার্নিশে উঠে দোতালা স্কুল বাড়ির জানলা থেকে ঘরের ভিতরে থাকা পরীক্ষার্থীদের টুকলি দেওয়ার চেষ্টা হয়। পুলিশের সামনেই এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় বহিরাগতরা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন ইন্টারনেট পরিষেবা চালু থাকার সুযোগে কোনও পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর থেকে মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে এসে থাকতে পারে। কারন, বেলা বাড়তেই টুকলি তৈরি এবং স্কুলের ভেতরে তা পৌঁছানোর তোড়জোড় শুরু হয়।

সূত্র

রতুয়ার একাধিক স্কুলে এর আগেও পরীক্ষায় টুকলি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। এজন্য রতুয়ার একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর কেন্দ্র বলে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও ওই স্কুলে সিসি ক্যামেরা ছিল না। দরজায় দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন মাত্র। পরীক্ষার্থীদের কাছে মোবাইল ফোন আছে কি না, তা দেখা হয়নি। স্কুলের ১০০ মিটারের মধ্যে বসেছিল জুয়ার আসর। দু’-এক জন উর্দিধারী পুলিশ টহল দিলেও ভিডিয়ো রেকর্ডিং করতে দেখা যায়নি কোথাও। যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, বাজেয়াপ্ত মোবাইলগুলি শিক্ষা দফতরের কাছে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গঙ্গাবাহাদুর ছেত্রী ফোন ধরেননি। এসএমএসেরও উত্তর দেননি।

সূত্র

এদিন যেভাবে স্কুলে টুকলি সরবরাহের চেষ্টা হয়েছে তা রীতিমতো ঝুকিপূর্নও।  এদিকে এদিনই রতুয়া থানার পুলিশ টুকলি সরবরাহের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, এদেরমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রতুয়া হাইস্কুল চত্বর থেকে। অন্যদিকে রতুয়ারই ভালুকা রায়মোহন মোহিনমোহন বিদ্যাপীঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও একজনকে। বুধবার ধৃতদের তোলা হবে চাঁচল মহকুমা আদালতে। শুধু মালদহের স্কুলই নয়। জেলার একাধিক স্কুলে পুলিশি নিরাপত্তা সত্ত্বেও টোকাটুকির ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়ে মাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা। বাকি পরীক্ষাগুলিও সুস্থভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে তৎপর পুলিশ-প্রশাসন।

সূত্র –