মা’মলায় হেরে গিয়ে বিচারপতিকে করো’নায় আক্রান্ত হওয়ার অভিশাপ দিলেন আইনজীবী

0
358
প্রতীকী ছবি

ব্যাঙ্কের সঙ্গে গ্রাহকের বিবাদ সংক্রান্ত মামলায় নিজের মনের মতো রায় না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে করো’না ভাই’রাসে ভুগতে হবে বলে অভিশাপ দেন আইনজীবী বিজয় অধিকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই আইনজীবীকে আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করে হাইকোর্ট। এমনই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের অবমাননার নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ওই আইনজীবীকে তার জবাব দিতে হবে।

যখন করো’না ছোঁয়া সবে এসে পৌঁছেছে দেশে। তখনো বন্ধ হয়নি আদালতের দরজা। সেই সময় ব্যাঙ্কের সঙ্গে গ্রাহকের বিবাদ সংক্রান্ত মামলায় গ্রাহকের হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের মনের মতো রায় পাননি ওই আইনজীবী।

প্রতীকী ছবি

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভরা এজলাসে বিচারপতিকে করো’নার ছোঁয়ায় উজাড় হওয়ার অভিশাপ দিয়ে বসেন। বিচারপতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন ওই আইনজীবী। এমনকী রায় যখন লেখা চলছে, তখনও চিৎকার-চেঁচামেচি করে, মাইক টেনে, ডেস্ক চাপড়ে আদালতের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটান বলে অভিযোগ। আইনজীবীর এমন আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, তিনি আদালতের গরিমা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং মহৎ একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তির আচরণের পরিপন্থী। গরমের ছুটির পর আদালত খুললে ফৌজদারি মামলা শোনার অধিকারী কোনও উপযুক্ত ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য তোলার জন্যও নির্দেশ দেন বিচারপতি।

প্রতীকী ছবি

গত ১৫ মার্চ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে কেবল জরুরি মামলার শুনানিই হচ্ছে। আর শুনানি হচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে। আইনজীবী বিজয় অধিকারী চেয়েছিলেন, মক্কেলের একটি বাসের নিলামের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। প্রসঙ্গত, তার মক্কেল ঋণখেলাপি হওয়ায় ওই বাসটির নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কটি। কিন্তু বাসটি যেহেতু ১৫ জানুয়ারি আটক করেছে ব্যাঙ্ক, তাই আদালত কোনও জরুরি শুনানিতে মত দেননি।

প্রতীকী ছবি

বিচারপতি যখন মামলার রায় শোনাচ্ছিলেন, তখনই মেজাজ হারান ওই আইনজীবী। তিনি বিচারপতিকে বাধা দিতে টেবিল চাপড়াতে থাকেন। রায়ে বিচারপতি বলেন, ‘আইনজীবীকে সঠিক ব্যবহার করতে সতর্ক করা সত্ত্বেও, তিনি কানে নেননি। তাকে বলতে শোনা গেছে, আমার ভবিষ্যৎ তিনি (আইনজীবী) শেষ করে দেবেন এবং তিনি অভিশাপ দিয়েছেন, আমার যেন করো’না হয়।’

প্রতীকী ছবি

ওই আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তাকে জানাতে চাই, আমি আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা ভাই’রাসের দ্বারা সংক্রমিত হওয়াকে ভয় পাই না। আদালতের মর্যাদা আমার কাছে সর্বোচ্চ এবং তা বজায় রাখতে আপনার বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ আনা হচ্ছে।’ তবে বিচারপতির রায় শুনে অভিযুক্ত আইনজীবী থামেননি বরং তিনি চিৎকার করতে থাকেন। বিচারপতি তাকে মনে করিয়ে দেন, তিনি এক মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও কেন এমন আচরণ করছেন।

সূত্র –