প্রেমিকা বিষ খেতে চলেছে, শুনেই বিয়ে ছেড়ে পালালো বর, নিমন্ত্রিত অতিথিকে বিয়ে করলেন কনে

0
339
প্রতীকী ছবি

অতীত কাল থেকেই লগ্নভ্রষ্টা হবার কথা আমরা শুনেছি শুধুমাত্র মেয়েদের পক্ষে। সাধ্যমত পণ দিতে না পারায় বিয়ের মন্ডপ থেকে বহুবার উঠে গেছে বর। একমাত্র মেয়ে অথবা মেয়েকে লগ্নভ্রষ্টা থেকে বাঁচানোর জন্য বাবাকে মেনে নিতে হয়েছে বহু অকাঙ্খিত আবদার। অনেক সময় আবার শুধুমাত্র অপমানের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অপছন্দের পুরুষের গলায় মালা দিতে হয়েছে মেয়েদের। কিন্তু কিছুদিন আগে এমন একটি ঘটনা ঘটল কর্নাটকে যা এতদিনের চিরাচরিত মতবাদ কে পাল্টে দিল।

ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের একটি গ্রামে। জানা গিয়েছিল যে, নবীনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সিন্ধুর। পাত্র পাত্রীর পাশাপাশি উভয় বাড়ির লোকেরা এই বিয়েতে সমানভাবে মত ছিল। তাই জমকালো ভাবেই এগোচ্ছিল বিয়ের আয়োজন।

প্রথমেই সব কাজকর্ম চলছিল। নির্দিষ্ট দিনে সকালে এসে যখন উপস্থিত, তখন সেখানে সপরিবারে উপস্থিত হয়েছিলেন বর এবং কনে। কিন্তু এই মধ্যে ঘটে যায় বিপর্যয়। বিয়ে করার আগেই হঠাৎ করেই নবীনের কাছে একটি ফোন আসে। সেই ফোনটি করেছিলেন তার প্রেমিকা। ফোনে ওই মহিলা হুমকি দেন যে, নবীন যদি সিন্ধুকে বিয়ে করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষ খাবেন। এ কথা শোনা মাত্রই নবীনকে বাড়ি চলে আসতে হল।

সূত্র

তবে সবার সামনে নয়, সবার অলক্ষ্যে মন্ডপ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসে সে। এদিকে মণ্ডপে পড়ে যায় হুলুস্থুলু। পরবর্তী সময়ে সবকিছু জানার পর নবীনের পরিবারের সদস্যরা জানান যে, ছেলের যে অন্য কোথাও সম্পর্ক ছিল তারা তারা জানতেন না। অন্যদিকে কনেপক্ষ এবং নিমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে অস্বস্তি শুরু হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ট্র্যাজেডি নেয় নি এই ঘটনা। উল্টে বরং এই প্রবাদটি কাজে লেগে যায় যে, যা হয় মঙ্গলের জন্যই হয়।

সূত্র

নবীন এবং সিন্ধুর বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন চন্দ্রা প্পা নামে এক যুবক। তিনি সমস্ত ঘটনাটি শুনে এগিয়ে আসেন বিয়ে করার জন্য। বিয়েতে উপস্থিত আরো অনেকে এই কথাতে সমর্থন করেন। অতঃপর সকলের মত নিয়ে বিয়ে হয় সিন্ধুর। কনে এবং বর পক্ষের কোনো আপত্তি না থাকায় নির্ধারিত শুভ লগ্নে বিয়ে হয়ে যায় তার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবীন পালিয়ে গেলেও ওই মণ্ডপেই বিয়ে হয়ে যায় তার ভাই অশোকের। এমন ঘটনা যে কোনদিন ঘটতে পারে বাস্তব জীবনে এটা হয়তো কেউ ভাবতেই পারেনি।

সূত্র