বলিউডের ‘প্লাস্টিক’ নায়িকারা

0
290

মানুষ মাত্রই সৌন্দর্যের পূজারি। নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য সে কী না করে! সেই দিক থেকে গ্ল্যামার দুনিয়ার মানুষেরা নিজের সৌন্দর্য নিয়ে আরও বেশি সচেতন। পর্দায় নিজেকে আরও সুন্দর করে মেলে ধরতে তাঁরা সাধারণের থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে। এমনকি প্লাস্টিক সার্জারি করে নিজের মুখের নকশা পর্যন্ত বদলে ফেলেছেন একঝাঁক বলিউড অভিনেত্রী। এ কারণে অনেক সময় চেনা সেই মুখ হয়ে গেছে অচেনা।

প্লাস্টিক সার্জারি করে কেউ হয়ে উঠেছেন আরও সুন্দর। আবার কারও হয়েছে হীতে বিপরীত। মানুষের সামনে আসতেও এখন সংকোচ হয় তাঁদের। বলিউডের সেসব প্লাস্টিক রূপসীকে দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া –

 

ঐশ্বরিয়ার মতোই প্রিয়াঙ্কা বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জয় করেছিলেন। হিন্দি ছবির দুনিয়ায় পা রাখার পর তিনিও প্লাস্টিক সার্জারি করে নিজেকে আরও সুন্দর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নাক ও ঠোঁট ছাড়া আরও কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট করিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এই বলিউড অভিনেত্রী তাঁর সদ্য প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘আনফিনিশড’–এ এই ব্যাপারে অনেক কিছু ফাঁস করেছেন।

নাকের একটা সমস্যা নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। ডাক্তারের ভুলে তাঁর নাকের ব্রিজ নষ্ট হয়ে যায়। ব্যান্ডেজ খোলার পর প্রিয়াঙ্কা নিজেকে আয়নায় দেখে চিনতে পারেননি। কিছুক্ষণ বাক্‌রুদ্ধ ছিলেন তিনি। কারণ, তাঁর মুখের আদল অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। আর সেটা ঠিক করাতে প্রিয়াঙ্কাকে একাধিক সার্জারি করাতে হয়েছিল। এ কারণে তাঁকে প্লাস্টিক চোপড়া বলেও ডাকা হতো। এর ফলে প্রিয়াঙ্কার আত্মবিশ্বাস নষ্টই হয়ে গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের সেই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।

কোয়েনা মিত্র –

বলিউডে বাঙালিকন্যা কোয়েনা মিত্র আইট ড্যান্সার হিসেবে একসময় ঝড় তুলেছিলেন। তাঁকে একসময় ‘সাকি সাকি গার্ল’ বলা হতো। কিন্তু প্লাস্টিক সার্জারির পর নিজের জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনেন কোয়েনা। নাক আর ঠোঁটে সার্জারি করিয়েছিলেন। তারপর কোয়েনার মুখের আদল এলোমেলো হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন তিনি নিজেকে রেখেছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে। দীর্ঘ সময় পর তাঁকে দেখা গিয়েছিল ‘বিগ বিস ১৩’তে।

শ্রুতি হাসান –

বলিউডের থেকে দক্ষিণে বেশি দাপট শ্রুতি হাসানের। সার্জারির পর তাঁর সৌন্দর্য আরও বিকশিত হয়। শোনা যায়, তিনি ঠোঁট আর নাকে সার্জারি করিয়েছিলেন।

বাণী কাপুর –

‘বেফিকর’ ছবিতে বাণী কাপুরের নতুন চেহারা ধরা পড়ে। সার্জারির পর তাঁর এই নব রূপ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাণী ঠোঁট আর গালের সার্জারি করিয়েছিলেন। তবে তিনি এই সার্জারির কথা স্বীকারই করেননি।

নার্গিস ফাখরি –

বলিউডে পা রাখার আগে মার্কিন মুলুকের প্রথম সারির মডেল হিসেবে কাজ করতেন নার্গিস। অভিনয় জগতে আসার কিছুদিন পর প্লাস্টিক সার্জারি করান তিনি। ঠোঁট আর নাকের সার্জারি করিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এরপর নার্গিস আরও সুন্দর হয়ে ওঠেন।

আয়েশা টাকিয়া –

‘ওয়ান্টেড’ ছবিতে সালমান খানের নায়িকা হিসেবে নজর কেড়েছিলেন আয়েশা। নাগেশ কুকুনুরের ‘ডোর’ ছবিতে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। অনেকের মতে, লম্বা রেসের ঘোড়া ছিলেন আয়েশা। কিন্তু সার্জারির পর রাতারাতি সেই দৌড় থেকে ছিটকে যান তিনি। প্রথমে আয়েশা ‘ব্রেস্ট সার্জারি’ করিয়েছিলেন। কিন্তু মুখের সার্জারির পর তাঁর চেহারাই বদলে যায়। এরপর পর্দায় আর জাদু দেখাতে পারেননি তিনি।

আনুশকা শর্মা –

ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির স্ত্রী ও বলিউড তারকা আনুশকা শর্মার রয়েছে প্লাস্টিক সার্জারির রেকর্ড। এ কারণে তাঁকেও একসময় ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘রাব নে বানা দি জোড়ি’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবির দুনিয়ায় অভিষেক হয় আনুশকার। তখন তিনি দেখতে ছিলেন একরকম। করণ জোহরের চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’–এ একদম অন্য রূপে ধরা দেন আনুশকা। এমনকি ভালোভাবে হাসতে পর্যন্ত পারছিলেন না তিনি। তাঁর ঠোঁটের আকার অস্বাভাবিক পুরু দেখাচ্ছিল। তাই আনুশকার মুখের আদলও অনেকটা বদলে যায়।

এরপর থেকে ট্রলিংয়ের শিকার হন তিনি। আনুশকার ঠোঁটের আকারের কারণে অনেকে তাকে ‘ডোনাল্ড ডাক’ বলে ডাকতে শুরু করে। আর তাঁর সমুচিত জবাব দিয়েছিলেন আনুশকা। এই বলিউড তারকা বলেছিলেন যে আর পাঁচজনের মতো তিনিও একজন মানুষ। সবার মতো তিনিও নিখুঁত নন। আনুশকার এই লিপ সার্জারি সবাই পছন্দ করেনি।

শিল্পা শেঠি –

বলিউডে পা রাখার পর নিজের নাক নিয়ে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল শিল্পা শেঠিকে। তবে ৪৫ বছর বয়সী এই নায়িকার সৌন্দর্যে আজও কুপোকাত অনেকে। বয়স যেন তাঁর আজও অধরা। আর শিল্পার এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে প্লাস্টিক সার্জারির কারিকুরি। এই নায়িকাও নিজের ভোল বদলে ফেলতে সার্জারির সাহায্য নিয়েছিলেন। শিল্পা নিজের নাককে চোখা করতে দু-দুবার প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন। আর এরপর এক নতুন রূপ পান এই বলিউড অভিনেত্রী।

কঙ্গনা রনৌত –

তালিকায় কঙ্গনার নামও আছে। তাঁর নজরকাড়া সৌন্দর্যের পেছনে আছে সার্জারির অবদান। কঙ্গনা প্রথমে ‘লিপ সার্জারি’ করিয়েছিলেন। এরপর এই বলিউড অভিনেত্রী ‘ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট’ করিয়েছেন। এমনকি শোনা যায়, চোখের পাতার সার্জারিও করিয়েছিলেন তিনি।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন –

পুরো বিশ্ব মুগ্ধ ঐশ্বরিয়ার রূপে। কত কত রূপসী পিছে ফেলে তাঁর মাথায় উঠেছিল বিশ্বসুন্দরীর মুকুট। বলিউডে পা রাখার পর নিজের রূপ নিয়ে আরও সচেতন হয়ে ওঠেন বচ্চন পরিবারের বউ। পর্দায় নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিউটি সার্জারি করান তিনি। এরপর ঐশ্বরিয়ার সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। করণ জোহরের এক চ্যাট শোতে বলিউড তারকা ইমরান হাশমি ঐশ্বরিয়াকে ‘প্লাস্টিক’ বলে সম্বোধন করে রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন। তবে এই প্লাস্টিক সার্জারির বিষয়টি এখন পর্যন্ত স্বীকার করেননি তিনি।

ক্যাটরিনা কাইফ –

বলিউডে আসার পরই ক্যাটরিনা তাঁর অপার সৌন্দর্যে সবাইকে আবিষ্ট করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেকে আরও সুন্দর করে তোলার খেলায় মেতে ওঠেন। শোনা যায়, ক্যাটরিনাও একই পথের পথিক হন। তাঁর এই প্লাস্টিক সার্জারির খবর নিয়ে বলিউড একসময় মুখর ছিল। কানাঘুষা শোনা যায়, ক্যাটরিনা ঠোঁট ও নাকে কাজ করিয়েছেন। তবে কখনোই সেটা স্বীকার করেননি তিনি।