বলিউডের কিছু বিত’র্কিত ও নি’ষিদ্ধ সিনেমা, যা সিনেমা প্রেমীদের অবশ‍্যই দেখা উচিৎ

0
1469

কেন্দ্রীয় সে’ন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পেয়ে মুক্তি আটকে যাওয়ার ঘটনা হরদমই ঘটে। এ কোনও নতুন ঘটনা নয়। বহু সিনেমা রয়েছে যা সে’ন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পেয়ে হারিয়ে যায়। আবার কিছু সিনেমা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। কিছু সিনেমা আবার প্রয়োজনীয় মেরামতি করে অবা’ঞ্ছিত দৃশ্য বাদ দিয়ে মুক্তি পায় প্রেক্ষাগৃহে। চলচ্চিত্র অনেক সময়ই দর্শক অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করে দেওয়া হয়। একেক ছবি নির্দিষ্ট হয়ে যায় একেক বয়সের দর্শকের জন্য।

কারো জন্য যা দেখা আবশ্যক, কারো জন্য আবার তা দেখা বারণ। অনেক সময় বিভিন্ন কারণে অনেক ছবির ওপর নেমে আসে নিষে’ধাজ্ঞার খড়্গ। এর পেছনে কারণ থাকে সামাজিক, রাজনৈতিক বা সংস্কৃতি-সংশ্লিষ্ট।

বলিউডেও বেশ কিছু ছবি সময়ে-অসময়ে হয়েছে, যেগুলোর ওপর নিষে’ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তার পরও সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে বোদ্ধা কিংবা দর্শকের কাছে। পরিসংখ্যান বলছে, সে’ন্সর বোর্ড যে সমস্ত ছবিগুলি নি’ষিদ্ধ করেছে, মানুষের কৌতূহল সেই সমস্ত ছবিগুলি ঘিরেই বেশি। বলিউডের এমন কয়েকটা ছবি একটা সময় সমাজে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। সেই সমস্ত ছবিকে দিনের আলো দেখা নিষি’দ্ধ করেছিল সে’ন্সর বোর্ড। কিন্তু সেই ছবিগুলিই আজও মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। কোনও কোনও ছবি আবার ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলস্টোন হয়ে গিয়েছে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক, বলিউডের এমন কয়েকটি ছবি যা সে’ন্সর বোর্ডের চৌকাঠ মাড়িয়ে আলোর মুখ দেখেনি। তাদের মধ‍্যে অনেকগুলি নাম হয়তো আপনাদের জানাই থাকবে, মিলিয়ে দেখুন তো। এসব ছবির মধ্যে অনেকগুলোই আবার পরবর্তীতে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়।

আনফ্রিডম (২০১৫) –

মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ‘লেস’বিয়ান’ বা সমকা’মী প্রেমীদের গল্প ও ইস’লামি মৌ’লবাদী সন্ত্রা’সবাদ নিয়েও বক্তব্য রাখা সিনেমাটিকে আটকে দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ (২০০৩) –

অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত পাঁচ ছবিটি ১৯৯৭ সালে যোশী-অভয়ঙ্কর সিরিয়াল মা’র্ডারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছিল। তবে এতে অতিরিক্ত হিং’সা, ড্রা’গ এবং অশ্রা’ব্য ভাষার ব্যবহারের জন্য নি’ষিদ্ধ ঘোষণা করে সে’ন্সর বোর্ড। ২০০১ সালে ছবির বেশ কিছু দৃশ্য বাদ পড়লেও শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি ছবিটি। তবে বিদেশে কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল পাঁচ।

ডেজড ইন দুন (২০১০) –

রত্না পাঠক শাহের পরিচালনায় তৈরি ২০১০ সালের এই ছবিটি দুন স্কুলে পড়া একটি ছেলের গল্প। ছবিটি নিয়ে দুন স্কুল আপত্তি জানালে তার মুক্তি আটকে যায়।

ফায়ার (১৯৯৬-১৯৯৮) –

১৯৯৬ সালে শাবানা আজমি এবং নন্দিতা দাস অভিনীত, দীপা মেহতা পরিচালিত এই ছবিটিকে নি’ষিদ্ধ করেছিল সে’ন্সর বোর্ড। এই সিনেমায় ভারতীয় হিন্দু পরিবারের দুই সমকা’মী মহিলার চরিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যাকে ঘিরে সামলো’চনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। ১৯৯৮-এ মুক্তির ছাড়পত্র পায় ছবিটি তবে A রেটিং দিয়ে। তবে সীতা চরিত্রের নাম নীতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইনশাল্লাহ ফুটবল (২০১০) –

২০১০ সালের এই ছবিটিতে একটি কাশ্মীরি কিশোরের কথা বলা হয়েছে যার পিতা বিচ্ছি’ন্নতা’বাদী বলে অভিযুক্ত। পিতার বি’রুদ্ধে অভি’যোগ রয়েছে বলে ছেলেটির উপর কীভাবে আ’ঘাত নেমে আসে তা দেখানো হয়েছে এই সিনেমায়।

দ্য ব্যান্ডিট কুইন (১৯৯৪) –

শেখর কাপুরের পরিচালনায় এই ছবির গল্পে ফুলন দেবীর জীবন তুলে ধরা হয়। ছবির দৃশ্যে সে’ক্সুয়্যা’ল কনটেন্ট, ন’গ্নতা এবং কিছু অশ্রা’ব্য ভাষার ব্যবহারের জন্য দ্য ব্যা’নডি’ট কুইনের মতো একটি ছবিকে সে’ন্সর বোর্ড নি’ষিদ্ধ করে। ছবির ঝুলিতে বেশ কিছু পুরস্কার এলেও, শোনা যায় ফুলন দেবী নাকি অভি’যোগ করেছিলেন, তার জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য বিকৃ’ত করা হয়েছে এই ছবিতে।

ফিরাক (২০০৮) –

গুজরাত দা’ঙ্গা নিয়ে ২০০৮ সালে তৈরি এই ছবিটি মুক্তি আটকে দেয় সে’ন্সর বোর্ড। পরে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে মুক্তি পায় ছবিটি।

সনস (২০০৫) –

বিনোদ পান্ডের পরিচালনা এবং প্রযোজনায় তৈরি সি’নস্ ছবিটি ২০০৫ সালের অত্যন্ত বিত’র্কিত একটি ছবি। এক যুবতীর সঙ্গে যৌ’ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কেরলের এক পাদ্রি যে সম্পর্ককে তিনি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। সিনেমায় বিষয়বস্তু এবং ন’গ্নতা প্রদর্শনের জন্য ‘সিনস’কে নি’ষিদ্ধ ঘোষণা করে সে’ন্সর বোর্ড।

ওয়াটার (২০০৫) –

পরিচালক দীপা মেহতার সিনেমা ‘ওয়াটার’-এর মুক্তি আটকে দেয় সে’ন্সর বোর্ড। নারী বি’দ্বেষ ও সমাজ থেকে গণভোটে বহিঃষ্কার, এই বিত’র্কিত বিষয় গুলি নিয়েই তৈরি এই সিনেমায় অভিনয় করেন জন আব্রাহাম ও লিসা রায়।

কা’মসূত্র—এ টেল অব লাভ (১৯৯৬) –

যৌ’নতা’বিষ’য়ক ভারতের আদিপুস্তক বাৎ’স্যা’য়নের ‘কা’মসূ’ত্র’র আ’ঙ্গিকে ভর করেই গড়ে ওঠে এই ছবি। এই ছবির কাহিনীর মূলেই যৌ’নতা, কাজেই ছবিতে যে এমন দৃশ্যের প্রাচুর্য থাকবে, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হলেও ছবিটি ভারতে মুক্তি পায়নি, শুরুতেই একেবারে ‘না’ বলে দেয় সে’ন্সর বোর্ড।

পারজানিয়া (২০০৫) –

গুজরাটের দা’ঙ্গার সময়ে মা-বাবার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুর কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। এই ছবির প্রধান দুই চরিত্রে রূপদানকারী শিল্পী নাসিরুদ্দিন শাহ ও সারিকা। তাঁরা নিজেরাই গুজরাটের দা’ঙ্গার সাক্ষী। ছবিটি দারুণভাবে প্রশংসিত হলেও গুজরাটে সরাসরি নি’ষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

ব্ল্যাক ফ্রাইডে (২০০৪) –

১৯৯৩ সালে মুম্বইয়ের ধারাবাহিক বি’স্ফোর’ণের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল অনুরাগ কাশ্যপের এই ডকুফিচারে। দুই বছর নিষেধাজ্ঞার জারি থাকার পরে সিনেমাটি মুক্তি পায়।

দ্য পিঙ্ক মিরর (২০০৭) –

বিদেশের বহু ফিল্ম ফেস্টিফ্যালে সমাদৃত এই সিনেমাটি ট্রা’ন্সজে’ন্ডার ও সমকা’মী পুরুষদের গল্প নিয়ে তৈরি। দেশে এই সিনেমা মুক্তি পায়নি।

লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা (২০১৭) –

অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তবের এই ব্ল্যাক কমেডি-টি ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড সে’ন্সরে আটকানোর কারণ হিসেবে বলা হয়, ছবিটি ‘নারী-মুখী’ এবং সেখানে ‘যৌ’ন দৃশ্য এবং গা’লিগা’লাজ রয়েছে। ‘অডিও প’র্নোগ্রা’ফি’ও রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে এই ছবির বি’রুদ্ধে। তবে বহু চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং ভূয়সী প্রশংসাও অর্জন করে অলঙ্কৃতার এই প্রয়াস।

উর্ফ প্রফেসর (২০০০) –

এই ছবি আপ’ত্তিকর দৃশ্য ও অশা’লীন ভাষার ব্যবহারের কারণ দেখিয়ে নি’ষিদ্ধ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ডার্ক কমেডি ঘরানার ছবি। ২০০০ সালের যে সময়ে এটি নির্মাণ করা হয়, বলিউড তখন ডার্ক কমেডি বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছিল না বললেই চলে। নি’ষিদ্ধ হলেও বলিউডে ছবিটিকে ডার্ক কমেডি ঘরানায় পথিকৃৎ ছবি হিসেবে ধরা হয়।

আমু (২০০৫) –

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দা’ঙ্গার ঘটনার ওপরে নির্মিত হয়েছে এই ছবি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কঙ্কনা সেন শর্মা। এ ছবির মাধ্যমে ওই সময়কার কিছু বিতর্কিত ও সত্য ঘটনা তুলে ধরা হয়, ফলে ছবিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে নিষে’ধাজ্ঞা জারি করা হলেও পরে কিছু সংলাপ ও দৃশ্য বাদ দিয়ে ছবিটিকে ‘অ্যা’ডাল্ট’ রেটিং দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

আঁধি (১৯৭৫) –

দেশে জরুরি অবস্থার সময় মুক্তি পাওয়া আরও একটি বিত’র্কিত ছবি হল আঁ’ধি। পরিচালক গুলজারের এই ছবিটিও তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তৈরি। সাফল্যের সঙ্গে ২০ সপ্তাহ চলার পর এই ছবিটিও নি’ষিদ্ধ করা হয় কংগ্রেস সরকারের নির্দেশে। পরে ছবিটি ২৩তম ফিল্মফেয়ার ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড-এ সেরা ছবি হিসাবে মনোনীত হয়েছিল।

কিসসা কুরসি কা (১৯৭৭) –

বলিউডের বিত’র্কিত সিনেমাগুলোর মধ্যে কি’সসা কুর’সি কা অন্যতম। শাবানা আজমি এবং রাজ বাব্বর অভিনীত এই সিনেমা বলিউডে নি’ষিদ্ধ করেছিল সে’ন্সর বোর্ড। সিনেমার পরিচালক অমৃত নাহাতার বি’রুদ্ধে অভি’যোগ উঠেছিল যে, তিনি এই সিনেমায় ইন্দিরা গান্ধী এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরেছেন। ইন্দিরা গান্ধী যখন জরুরি অবস্থা জারি করেন তখন সিনেমাটি রিলিজ হয়। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সরকার সে’ন্সর বোর্ডকে নির্দেশ দেয় সিনেমার সব কপি নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। গুরগাঁওয়ের কিছু জায়গায় সিনেমার কপি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

মল্লা আসি

সানি দেওল ও সাক্ষী তানওয়ার অভিনীত মহ’ল্লা আ’সি সিবি দ্বারা নি’ষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কারণ এতে সাক্ষী এবং সানি দেওলের মতো সম্মানিত চিত্রযুক্ত লোকেরা যে কথা বলেছিল তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবং ছবিটি শংসাপত্রের জন্য সিবিতে জমা দেওয়ার আগে এটি অনলাইনে ফাঁস হয়েছিল।

হাওয়া আনে দে (২০০৪) –

স্বল্প সময়ের অভিনেতাদের নিয়ে স্বল্প পরিচিত এই চলচ্চিত্রটি প্রায় খবরে নজরে পড়ে যায়। ২০০৪ সালে সে’ন্সর বোর্ড কর্তৃক হাও’য়া আ’ন দে কে নি’ষিদ্ধ করা হয়েছিল কারণ চলচ্চিত্রের পরিচালক পার্থো সেন গুপ্ত বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত কাটকে অস্বীকার করেছিলেন। ছবিটি পরে ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছিল।

নাসবন্দী (১৯৭৮) –

নি’ষিদ্ধ চলচ্চিত্রগুলির বৈশিষ্ট্যযুক্ত আরও একটি ব্যঙ্গাত্মক কৌতুক। পরিচালিত আই.এস. জোহর, নাস’বন্দী ১৯৭৫ সালে জরুরী শাসনকালে সঞ্জয় গান্ধীর দ্বারা নি’ষিদ্ধক’রণের জীবা’ণুমুক্ত’করণ অভিযানকে গ্রহণ করেছিলেন। পুরুষের যৌ’ন ওভারড্রাইভ এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর ছড়িয়ে পড়া ছবিটি তৎকালীন শাসকদলকে খারাপ আলোকে চিত্রিত করার জন্য নিষে’ধাজ্ঞা’র মুখোমুখি হয়েছিল। তবে নিষে’ধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরে ছবিটি হোম ভিডিও এবং স্যাটেলাইট সম্প্রচারে কল্টের স্ট্যাটাস অর্জন করেছিল।

সূত্র – ইন্টারনেট