তামিল মুভি নকল করে বিখ্যাত হওয়া বলিউড সিনেমা

0
38

ভারতে নিয়মিতভাবে মৌলিক গল্পের মুভি নির্মিত হয় একমাত্র দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, দক্ষিণী মুভিগুলো না থাকলে বলিউডের কী হতো? কারণ দিনের পর দিন একের পর এক দক্ষিণী মুভিকে স্রেফ কপি আর পেস্ট করেই একাধিক বলিউড মুভি সুপারহিট হয়েছে। পাঠকদের তেমন কিছু মুভি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যাক –

হেরা ফেরি –

বলিউডের ২০০০ সালের জনপ্রিয় সুপারহিট সিনেমা ‘হেরা ফেরি’। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, পরেশ রাওয়াল অভিনীত ছবিটির মালায়ালাম সংস্করণ ছবিটির নাম ‘রামজি রাও স্পিকিং’। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় ছবিটি।

জয় হো –

জয় হো ২০১৪ সালের একটি ভারতীয় অ্যাকশন নাটক চলচ্চিত্র যা সোহেল খান পরিচালিত এবং সুনীল লুলার সাথে খান প্রযোজনা করেছেন। ছবিতে সালমান খান, টাবু ও সুনীল শেট্টির পাশাপাশি ড্যানি ডেনজংপা প্রতিপক্ষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটিতে সুনীল শেঠি এবং জেনেলিয়া ডিসুজার ক্যামো উপস্থিতি রয়েছে। সিনেমাটি এ আর আর মুরুগাদোস পরিচালিত ২০০৬ সালে তেলেগু ছবি স্টালিনের অফিশিয়াল রিমেক, ফিল্মের প্লটটি পে ইট ফরওয়ার্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।

ওয়ান্টেড :

সালমান খানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বলা হয় ‘ওয়ান্টেড’ মুভিটিকে। কারণ, ‘ওয়ান্টেড’এর পর আবারও তর তর করে বাড়তে থাকে সালমানের জনপ্রিয়তা। তার আগে বক্স অফিসে বহু দিনই সাফল্যের মুখ দেখতে পাচ্ছিলেন না সালমান। তামিল সুপারহিট ‘পোক্কিরি’র রিমেক ‘ওয়ান্টেড’। দুটি ভাষাতেই তৈরি হয় এই মুভি।

কিক –

কিক একটি ২০১৪ সালের ভারতীয় অ্যাকশন চলচ্চিত্রের চলচ্চিত্র যা তাঁর নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট ব্যানারে সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। এটি ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি তেলগু মুভি কিকের অফিশিয়াল রিমেক। ছবিটিতে সালমান খান, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ এবং রণদীপ হুদা মুখ্য চরিত্রে এবং নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ছবিটির প্রধান বিরোধী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চিত্রনাট্যটি সাজিদ নদিয়াদওয়ালা এবং চেতন ভগতের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

আনজানা আনজানি –

২০১০ সালে বলিউডে মুক্তি পায় ছবিটি। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন রণবীর কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অনেকেই জানেন না, সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ছবিটি আসলে দক্ষিনের তেলেগু সিনেমার নকল। টলিউড সুপারস্টার রবি তেজার ‘ইটলু স্রাভানি সুব্রমানিয়াম’ ছবি থেকে মেয়া হয়েছে ‘আনজানা আনজানি’ ছবির কাহিনী। দক্ষিনে ছবিটি বেশ সাড়া ফেললেও বলিউডে ছবিটি অ্যাভারেজ হিটের তালিকায় স্থান পায়।

বডিগার্ড :

 

তামিল, হিন্দি আর মালয়ালম এই তিন ভাষায় তৈরি হয়েছিল ‘বডিগার্ড’। তিনটে ভাষাতেই সুপারহিট হয়েছিল এই মুভি। সালমান খান আর করিনা কপূরের অভিনয়ে মন মজেছিল দর্শকদের। আর তার জেরেই বক্স অফিসে সুপার ডুপার হিট করেছিল ‘বডিগার্ড’।

রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে –

২০০১ সালের সিনেমাটিতে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন দুজন নতুন মুখের নায়ক নায়িকা। আর মাধবন ও দিয়া মির্জার প্রথম বলিউড সিনেমা ছিল এটি। এটিও তামিল ছবির হিন্দি সংস্করণ। তামিল ছবি ‘মিনালে’ ছবিটি থেকে কাহিনী নেয়া রোমান্টিক ছবিটিতেও অভিনয় করেছিলেন মাধবন। বলিউড ও তামিল দুই ক্ষেত্রেই বেশ জনপ্রিয়তা পায় ছবি দুটি।

রাওডি রাঠৌর :

তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুল সাফল্যের পরই হিন্দিতে তৈরি হয় এই মুভি। শুধু হিন্দি নয়, বাংলাতেও তৈরি হয়েছিল ‘রাওডি রাঠৌর’ এর কপি পেস্ট ‘বিক্রম সিংহ’। ‘রাওডি রাঠৌর’ হিন্দিতেও ব্লকবাস্টার হয়েছিল। সুপারহিট হয়েছিল বাংলাতেও।

নায়ক –

 

২০০১ সালের আরেক সুপারহিট বলিউড সিনেমা ‘নায়ক’। এতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন অনিল কাপুর। সঙ্গে ছিলেন রানি মুখার্জী। দক্ষিনি অভিনেতা অর্জুন সারজা অভিনীত ‘মুধালভান’ ছবির হিন্দি সংস্করণ হচ্ছে ‘নায়ক’। যদিও দুটি ছবির নির্মাতা একজনই। এস শঙ্কর পরিচালনা করেন দুটি ছবিই। দুই ভাষাতেই সমান ব্যবসা সফল ও জনপ্রিয়তা পায় ছবিগুলো।

সিংহম : 

এমন এক পুলিশ অফিসারের কাহিনি যিনি অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেন না। তার দোর্দণ্ডপ্রতাপে ভয়ে কাঁপত মস্তানরা।আর সেই পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন। এই মুভিটিও প্রথমে তৈরি হয়েছিল তামিলে। সূর্য সেই মুভিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। দুই ভাষাতেই সুপারহিট হয়েছিল এই মুভি।

নো এন্ট্রি –

বলিউডের একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিয়ে ২০০৫ সালে নির্মিত হয় কমেডি ধারার সিনেমা ‘নো এন্ট্রি’। অনেকেই হয়ত জানেন না, ছবিটি তামিল ছবি ‘চার্লি চ্যাপলিন’ ছবি থেকে কপি করা। দক্ষিণ ইন্ডাস্ট্রিতে সেখানকার বহু তারকাকে নিয়ে ২০০২ সালে ছবিটি নির্মিত হয়।

তেরে নাম –

এটি বরং সুপার হিরো সালমান খানের অভিনেতা থেকে কোনও প্রতিমার রূপান্তর ছিল। এই মিউজিকাল রোমান্টিক বলিউড ব্লকবাস্টার রিমেকটি তরুণ প্রেমীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক ছবিতে পরিণত হয়েছিল এবং সে বছরের ২৪ টিরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার জিতেছে। তামিল ছবির নাম সেথু।

গজনি :

পরিচালক এ আর মুরগাডোস প্রথমে তামিল ভাষায় তৈরি করেন ‘গজনি’। তামিল সুপারস্টার সূর্য ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। তার পরে এই মুরগাডোসই আবার হিন্দিতে আমির খানকে নিয়ে তৈরি করেন ‘গজনি’র হিন্দি রিমেক। যা সুপারহিট হয়।

ভুল ভুলাইয়া –

১৯৯৩ সালে দক্ষিনে মুক্তি পায় মালায়ালাম সিনেমা ‘মানিচিত্রাথাজু’ ছবিটি। এটি মুক্তির প্রায় ১৫ বছর পর ছবিটির হিন্দি সংস্করণ ‘ভুল ভুলাইয়া’ নির্মিত হয়। অক্ষয় কুমার, বিদ্যা বালান, শাইনি আহুজা, পরেশ রাওয়াল অভিনীত কমেডি হরর থ্রিলার ঘরানার ছবিটি বলিউডে ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।

দৃশ্যম : 

মানুষটি খুবই সাধারণ। কিন্তু তার প্রতিভা অসাধারণ। আর তার কাহিনি নিয়েই মুভি ‘দৃশ্যম’। মালয়ালাম ভাষায় তৈরি হয়েছিল প্রথমে। মোহনলাল ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। আর তার পরেই হিন্দিতে তৈরি হয় একই নামে। অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন। মুভি তো অবশ্যই হিট করেছিল, সেইসঙ্গে পেয়েছিল একাধিক জাতীয় পুরস্কার।

বিল্লু –

বলিউডে শাহরুখ খান ও ইরফান খান অভিনীত ‘বিল্লু’ ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। তবে পাঠক জানেন কি, ২০০৮ সালে একই কাহিনীর সিনেমা নির্মিত হয় তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে। বলিউডের সিনেমায় যে চরিত্রে শাহরুখ খান অভিনয় করেছিলেন, তামিল ছবিতে একই চরিত্রে ছিলেন সুপারস্টার রজনীকান্ত। ছবির নাম ‘কাথানায়াকুডু’।

বিবি নাম্বার ওয়ান –

কমেডি সিনেমার জনপ্রিয় নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘বিবি নাম্বার ওয়ান’ ছবিটি বলিউডে মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। অনেকেই জানেন না, সালমান খান, কারিশমা কাপুর, অনিল কাপুর অভিনীত ছবিটি আসলে দক্ষিনের সিনেমার রিমেক। ‘সাথী লীলাবতী’ শিরোনামের ছবিটি তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। বলিউডের ছবিতে যে চরিত্রে সালমান অভিনয় করেছিলেন, সেই চরিত্রে তামিল সিনেমায় অভিনয় করেন কমল হাসান।

ফোর্স –

২০১১ সালে বলিউডে মুক্তি পায় অ্যাকশন ঘরানার ছবি ‘ফোর্স’। জন আব্রাহাম ও জেনেলিয়া ডিসুজা অভিনীত ছবিটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়, সেই সঙ্গে ব্যবসাসফল সিনেমার তকমা পায়। যে কারণে ছবিটি সিক্যুয়াল নির্মিত হচ্ছে। অনেকের একথা অজানা, ছবিটি দক্ষিণ সিনেমার রিমেক। ‘কাখা কাখা’ শিরোনামের তামিল ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে।

সাথিয়া –

 

যশ রাজ ফিল্মেসের ব্যানারে ২০০২ সালে বলিউডে মুক্তি পায় ‘সাথিয়া’। রানি মুখার্জী ও বিবেক ওবেরয় অভিনীত ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করে। ছবিটি আসলে তামিল ছবি ‘আলাইপায়ুথে’ ছবির রিমেক। তামিল ইন্ডাস্ট্রির ছবিটি মনি রত্নম পরিচালনা করলেও বলিউডের হিন্দি ছবিটি পরিচালনা করেন সাদ আলি। দুটি ছবির গানের মিউজিক করেন বিখ্যাত সুরকার এ আর রহমান। বলা যায়, শুধু ভাষা ও নায়ক নায়িকা পাল্টে একই কাহিনীর সিনেমা ‘সাথিয়া’।

চাচী ৪২০ –

এই হাস্যকর সুপার হিট কমেডি ফিল্মটি ছিলেন চলচ্চিত্র তারকা কমল হাসানের পরিচালিত অভিষেক, যা ছিল তামিল কৌতুক চলচ্চিত্র অবভি শানমুগির বলিউড সংস্করণও। ফিল্মটি ছিল তার বাবা এবং তাঁর ভাঙ্গা পরিবারকে আরও একবার ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তাঁর আনন্দময় যাত্রা নিয়ে। বিখ্যাত ভারতীয় কমেডি ফিল্মসের শীর্ষ তালিকার মধ্যে চলচ্চিত্রটি নিজের অবস্থান তৈরি করতে অনায়াসেই সফল হয়েছিল।

যুবা –

মণি রত্নমের মাল্টিস্টার অভিনীত বলিউড অ্যাকশন চলচ্চিত্রটি ছিল তার নিজস্ব তামিল সুপার-হিট আয়থা এজুথু ছবির দুর্দান্ত রিমেক। চলচ্চিত্রটির স্টোরি লাইন শিক্ষার্থীদের রাজনীতির দুরাচরণে প্রবেশের দিকে মনোনিবেশ করেছিল। ছবিটি বক্স অফিসে গড় রেকর্ড গড়ায়, অভিনেতাদের অসামান্য অভিনয় সেই বছরের সমস্ত রেকর্ড ছিন্ন করে।